(Production, Distribution and Economic Importance of Sugarcane)
আখ চাষের নিয়ামকগুলো অনুকূল থাকায় ব্রাজিল, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন প্রভৃতি দেশে আখ চাষের প্রসার ঘটেছে।
সারণি-৪.৬: বিশ্বব্যাপী আখের উৎপাদন ও বণ্টন, ২০১৮
| দেশ | উৎপাদন (লক্ষ মেট্রিক টন) | দেশ | উৎপাদন (লক্ষ মেট্রিক টন) |
| ১. ব্রাজিল | ৭৪৬৮ | ৬. মেক্সিকো | ৫৬৮ |
| ২. ভারত | ৩৭৬৯ | ৭. কলম্বিয়া | ৩৬৩ |
| ৩. চীন | ১০৮৭ | ৮. অস্ট্রেলিয়া | ৩৩৫ |
| ৪. থাইল্যান্ড | ১০৪৪ | ৯. যুক্তরাষ্ট্র | ৩১৩ |
| ৫. পাকিস্তান | ৬৭২ | ১০. ফিলিপাইন | ২৪৭ |
উৎস: FAOSTAT. February 2020
নিচে বিশ্বের প্রধান আখ উৎপাদনকারী দেশগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো:
১. ব্রাজিল: আখ উৎপাদনে ব্রাজিলের স্থান বিশ্বে প্রথম। দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলবর্তী নিচুভূমি এবং পূর্ব-মধ্য মালভূমি, দক্ষিণ-পূর্বের সমুদ্র উপকূলে সর্বাধিক আখ চাষ হয়।
২. ভারত: আখ উৎপাদনে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়। দেশটির গাঙ্গেয় সমভূমি, উত্তর প্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক প্রধান আখ উৎপাদনকারী অঞ্চল।
৩. চীন: চীন বিশ্বের তৃতীয় আখ উৎপাদনকারী দেশ। চীনের ইয়াংসিকিয়াং নদীর উপত্যকা ও বদ্বীপ অঞ্চলে সর্বাধিক আখ চাষ হয়।
৪. থাইল্যান্ড থাইল্যান্ড বিশ্বের চতুর্থ আখ উৎপাদনকারী দেশ। থাইল্যান্ডের মধ্য-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাংশ আখ উৎপাদনে বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ।
৫. পাকিস্তান: পাকিস্তান বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম আখ উৎপাদনকারী দেশ। পাকিস্তানের সিন্ধু নদের অববাহিকা, লাহোর, লায়ালপুর, শিয়ালকোট, মুলতান, ভাওয়ালপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আখের চাষ হয়।
৬. মেক্সিকো: আখ উৎপাদনে মেক্সিকোর অবস্থান বিশ্বে যষ্ঠ। দেশটির লিয়ন, ভেরাক্রুজ, নুইতো, টামাউলিপাশ প্রভৃতি এলাকায় ব্যাপকভাবে আখের চাষ হয়।
৭. কলম্বিয়া: কলম্বিয়া বর্তমানে বিশ্বের সপ্তম আখ উৎপাদনকারী দেশ।
৮. অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অষ্টম আখ উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির কুইন্সল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় প্রচুর আখ উৎপাদিত হয়।
৯. ফিলিপাইন আখ উৎপাদনে বিশ্বে দেশটির অবস্থান দশম। দেশটির সুজন দ্বীপের সোপান এলাকায় আখের ফলন ভালো হয়।
১০.ইন্দোনেশিয়া: আখ উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়ার স্থান বিশ্বে একাদশতম। এদেশের জাভা দ্বীপের লাভা গঠিত মৃত্তিকায় আখ ভালো জন্মে।

আখের বিশ্ববাণিজ্য
সারাবিশ্বে চিনির চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সেজন্য আখ চাষের গুরুত্ব উত্তরোত্তর বাড়ছে। বিশ্বের কয়েকটি দেশে যথেষ্ট পরিমাণ আখ উৎপাদিত হলেও বিশ্ববাণিজ্যে এর পরিমাণ খুব কম। এশিয়ার দেশগুলোতে (পাকিস্তান, চীন, থাইল্যান্ড) ধান চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় আখ উৎপাদন কমে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে (কলম্বিয়া, ব্রাজিল, চিলি) আখ উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৮ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রায় ২৭.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চিনি বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে এবং ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চিনি আমদানি করে থাকে (সূত্র: WTE-2020) 1
সারণি-৪.৭: আখের (চিনি) বিশ্ববাণিজ্য-২০১৮
(বিলিয়ন ডলার হিসেবে)
| দেশ | রপ্তানি | দেশ | আমদানি |
| ১. ব্রাজিল | ৬.৫ | ১. ইন্দোনেশিয়া | ১.৮ |
| ২. থাইল্যান্ড | ২.৬ | ২. যুক্তরাষ্ট্র | ১.৭ |
| ৩. ফ্রান্স | ১.৪ | ৩. চীন | ১.০ |
| ৪. ভারত | ০.৯২ | ৪. মালয়েশিয়া | ০.৭৪ |
| ৫. জার্মানি | ০.৮০ | ৫. ইতালি | ০.৭২ |
সূত্রঃ WTEX, 2020
উন্নয়নশীল বিশ্বে আখ চাষের সমস্যা ও সমাধান
উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলো আখ চাষে তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি। কারণ এসব দেশে আখ চাষ নানা সমস্যায় জর্জরিত। অধিকাংশ আখ উৎপাদনকারী দেশ কৃষিতে অনুন্নত। বিশ্বে আখ চাষের সমস্যা সমাধান করতে হলে ধারাবাহিক ও সমন্বিত কৃষি নীতির প্রয়োজন।
উন্নয়নশীল বিশ্বে আখ চাষের সমস্যা
উন্নয়নশীল দেশের আখ চাষে কিছু সমস্যা বিরাজমান। সেগুলো হলো-
১. প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব,
২. কৃষি ঋণের স্বল্পতা,
৩. দক্ষ শ্রমিকের অপ্রতুলতা,
৪. অনুন্নত পরিবহন ব্যবস্থা,
৫. শক্তি সম্পদের অপ্রতুলতা,
৬. অনিশ্চিত বাজার,
৭. উন্নত সার ও কীটনাশকের অভাব,
৮. জলবায়ু পরিবর্তন,
৯. মৃত্তিকার গুণাগুণ,
১০. ক্ষুদ্র খামার ব্যবস্থা,
১১. কারিগরি জ্ঞান ও গবেষণার অভাব,
১২. সমন্বিত কৃষিনীতির অভাব প্রভৃতি।
উন্নয়নশীল বিশ্বে আখ চাষের সমস্যার সমাধান
উন্নয়নশীল বিশ্বে আখ চাষে বিরাজমান সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন-
১. পর্যাপ্ত কৃষিঋণের ব্যবস্থা,
২. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির চাষাবাদ,
৩. উন্নতমানের আখের চারা সরবরাহ,
৪. উন্নতমানের সার ও কীটনাশক সরবরাহ,
৫. সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন,
৬. বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন,
৭. উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা,
৮. ভর্তুকি প্রদান ও অনুকূল দাম নির্ধারণ,
৯. সুষ্ঠু শ্রমিক ব্যবস্থাপনা,
১০. গুদামজাতকরণ সুবিধা,
১১. লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাঃ
১২. প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা,
১৩. গবেষণা বৃদ্ধি করা প্রভৃতি।
আখ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম অর্থকরী ফসল হওয়া সত্ত্বেও এর চাষাবাদে প্রতিবন্ধকতার অভাব নেই। এমতাবস্থায় উন্নয়নশীল বিশ্বে আখ চাষে বিরাজমান সমস্যাগুলোর সুষ্ঠু সমাধান করলে আখের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং জনগণের মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে।
কৃষি (Agriculture)-ড. হ জ ম হাসিবুশ শাহীদ-স্যারে লেখা বই
Read more