(Graphite)
গ্রাফাইট এর উৎপাদন ও বণ্টন
গ্রাফাইট ধূসর বর্ণের অধাতব খনিজ পদার্থ। এটি বহুল প্রচলিত খনিজ নয়। এটি কয়লার একটি রূপভেদ (Form)। কখনও কখনও কয়লার স্তরের মধ্যেও গ্রাফাইট পাওয়া যায়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ তাপ ও চাপে কয়লা গ্রাফাইটে পরিণত হয়। পরবর্তীতে গ্রাফাইট পুনরায় উচ্চ তাপ ও চাপে বহুমূল্যবান রত্ন নীলা ও সর্বশেষে হীরকে পরিণত হয়। আধুনিক যুগে ল্যাবরেটরিতেও গ্রাফাইট প্রস্তুত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে অগ্রগণ্য।
| দেশ | উৎপাদন | সঞ্চিতি | দেশ | উৎপাদন | সঞ্চিতি |
| ১. চীন | ৬৯৩ | ৭৩,০০০ | ৬. রাশিয়া | ২৫ | - |
| ২. মোজাম্বিক | ১০৪ | ২৫,০০০ | ৭. ইউক্রেন | ২০ | - |
| ৩. ব্রাজিল | ৯৫ | ৭০,০০০ | ৮. নরওয়ে | ১৬ | ৬০০ |
| ৪: কানাডা | 8০ | - | ৯. পাকিস্তান | ১৪ | - |
| ৫. ভারত | ৩৫ | ৮,০০০ | ১০. মেক্সিকো | ৯ | ৩,১০০ |
| সমগ্র বিশ্ব | ১,২০০ | ২৭০,০০০ |
সূত্র: US Geological Survey, Mineral Commodity Summaries, 2020
United States Geological Survey-2020 অনুযায়ী প্রাকৃতিক গ্রাফাইট উৎপাদনে চীন পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় দেশ।
এরপর মোজাম্বিক, ব্রাজিল, কানাডা, ভারত, তুরস্ক, উত্তর কোরিয়া, মাদাগাস্কার, ইউক্রেন ও শ্রীলঙ্কার অবস্থান। চীন এককভাবে বিশ্বের বৃহৎ গ্রাফাইট উৎপাদক দেশ। চীন, ভারত, ব্রাজিল ও কানাডার কয়লাক্ষেত্রসমূহে ও পীটস্তরে গ্রাফাইট পাওয়া যায়। চীনের হুনান, জিনজিয়াং, নানজিং, থিয়েনচিং, শেনচেন প্রভৃতি অঞ্চলে প্রচুর গ্রাফাইট পাওয়া যায়। গ্রাফাইট উৎপাদনে ভারত বিশ্বে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। ভারতের অরুনাচল, জম্মু-কাশ্মীর, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িষ্যা, গুজরাট, তামিলনাড়ু প্রভৃতি প্রদেশে প্রচুর পরিমাণে গ্রাফাইট পাওয়া যায়। শ্রীলঙ্কার পোয়েমস এলাকায় ঘন গ্রাফাইট ব্লকে বিশুদ্ধ ও উন্নত গ্রাফাইট স্তর দেখা যায়। অন্যান্য দেশের মধ্যে তুরস্কের আনাতোলিয়া পার্বত্য এলাকার নিম্নভূমিতে বিশুদ্ধ গ্রাফাইট পাওয়া যায়।

প্রাকৃতিক গ্রাফাইট প্রধানত দু' প্রকার। যেমন-
১. দানাদার গ্রাফাইট: চীন, ইউক্রেন, শ্রীলঙ্কা, মাদাগাস্কার, ব্রাজিল, তুরস্ক ও অন্যান্য দেশে পাওয়া যায়।
২. অ্যাফানিটিক গ্রাফাইট (মৃত্তিকা মিশ্রিত): এ জাতীয় গ্রাফাইট প্রধানত চীন, ভারত, মেক্সিকো ও অস্ট্রিয়াতে পাওয়া যায়।
গ্রাফাইটের ব্যবহার
১. তড়িৎ চুল্লির উত্তাপক (Heater) উপাদান এবং তড়িৎদ্বার (Diode) প্রস্তুতিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
২. তেল কিংবা পানির সঙ্গে মিশিয়ে গ্রাফাইট চূর্ণকে পিচ্ছিলকারক পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৩. উচ্চতাপ সহনশীল জিনিসপত্রাদি প্রস্তুতিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
৪. তড়িৎ অপরিবাহী পদার্থের ওপর গ্রাফাইটের প্রলেপ দিয়ে পদার্থকে তড়িৎ পরিবাহী করা হয়।
৫. পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ প্রশমক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
৬. পেনসিলের সিস প্রস্তুতিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
৭. ঔষধ শিল্পে এর ব্যবহার আছে। গ্রাফাইটস অন্যতম প্রধান একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধ।
খনিজ ও শক্তি সম্পদ-মো: আবদুল কুদ্দুস স্যারে লেখা বই
Read more