(Trade relation of Bangladesh with South Korea)
১৯৭২ সালে মে মাস থেকে বাংলাদেশের সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। সে সময় থেকে ধীরে ধীরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সরকারি উদ্যোগের কারণে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পারস্পরিক দক্ষতা ও প্রযুক্তির বিনিময়, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের জন্য গভীর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সম্প্রতি কোরিয়া সরকার কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA)-র মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে একটি সহযোগী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতার জন্য কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক সফটলোন এর ব্যবস্থা করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (EPZ) এর বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। দেশটি ২০০৭ সালে ২৭৯টি সরাসরি এবং যৌথভাবে বিনিয়োগ প্রকল্পে ৬১৯.৩৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। এগুলোর মধ্যে প্রধান খাত হলো কৃষি, খাদ্য, টেক্সটাইল, রাসায়নিক, প্রকৌশল ও সেবাশিল্প। শিল্পে ৭২,০০০ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
৩ ডিসেম্বর ২০১৭, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়া সরকার EDCF (Economic Development Coopeeration Fund) বাংলাদেশে কার্যকর করার জন্য চুক্তি সই করে। এর আওতায় বাংলাদেশ এক বিলিয়ন ডলারের উপর অর্থ সহায়তা পাবে। এর সাহায্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার (কর্ণফুলি নদীর উপর রেল ও সেতু নির্মাণ) এবং ICT শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রসার ঘটবে যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া একে অপরের খুব গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। ১৯৭৩ সালে একটি বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এই দুই দেশে বিনিয়োগ শুরু হয়, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিবছর নবায়ন হচ্ছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১৯০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে। অন্যদিকে রপ্তানি করে ৩৭০.৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দুই দেশের বাণিজ্য সমতা নিচে প্রদান করা হলো:
সারণি-৮.৯: বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া আমদানি রপ্তানি-বাণিজ্য (মিলিয়ন টাকা)
| ২০১৮-২০১৯ | ২০১৫-২০১৬ | ২০১৪-২০১৫ | ২০১৩-২০১৪ | |
| রপ্তানি | ৩১,৬৪৩ | ২১৬১৬ | ২১৬১৬ | ২১৬১৬ |
| আমদানি | আমদানি | - | - | ৯,৩১০৮ |
বাংলাদেশ থেকে কোরিয়াতে রপ্তানিকৃত দ্রব্য: বাংলাদেশ কোরিয়াতে যেসব পণ্য রপ্তানি করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে
চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার, টুপি, জুতা, হোম টেক্সটাইল, ফার্নেস তেল, তামার তার, হিমায়িত খাদ্য, তামাক, ওষুধ ইত্যাদি। বাংলাদেশ এই অল্প কিছু পণ্য রপ্তানি, যা আয় করে নিচের সারণিতে তা দেখানো হলো-
সারণি-৮.১০: কোরিয়াতে বাংলাদেশের রপ্তানিকৃত কয়েকটি পণ্য (মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
| পণ্য | রপ্তানি |
| ১. ভোগ্যপণ্য | ২০৫.০৮৩ |
| ২. বস্ত্র | ১৮৭.৪৪৩ |
| ৩. চামড়া | ৫৪.৫০৮ |
| ৪. জুতা | ২০.৭৮৭ |
| ৫. কাঁচামাল | ১০.০৬৪ |
উৎস: WITS (World Integrated Trade Solution)-২০১৮
কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানিকৃত প্রধান দ্রব্যসমূহ: কোরিয়া থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে সেগুলো হলো যন্ত্রপাতি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি, প্লাস্টিক সামগ্রী, টেক্সটাইল পণ্য, খনিজ পণ্য, অটোমোবাইলস, খাদ্যদ্রব্য, চশমা ও ক্যামেরা, জুতা, বৈদ্যুতিক ও ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, রাসায়নিক ও পেপার পণ্য ইত্যাদি। নিচে বাংলাদেশের কোরিয়া থেকে আমদানি পণ্যের ব্যয় দেখানো হলো:
সারণি-৮.১১: কোরিয়া থেকে বাংলাদেশের আমদানিকৃত কয়েকটি পণ্য (মিলিয়ন মার্কিন ডলার)
| পণ্য | আমদানি |
| ১. নৌকা, জাহাজ ও ভাসমান কাঠামো | ৩৫১.০ |
| ২. পারমাণবিক, মেশিনারিজ ও খুচরা যন্ত্রপাতি | ১৬০.২ |
| ৩. প্লাস্টিক সামগ্রী | ১৩২.৭ |
| ৪. লৌহ ও ইস্পাত | ১২৩.৬ |
| ৫. কাজ ও পেপার বোর্ড | ৭৯.৪ |
উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক, ২০২০ (Economic Data)
। বর্তমানে বাংলাদেশে বিপুল বিপুল পরিমাণ মানব সম্পদ রয়েছে। বাংলাদেশ কোরিয়াতে মানব সম্পদ রপ্তানি করছে। কোরিয়াতে প্রায় ১০,০০০ এর অধিক বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায় বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বিদ্যমান।
বাণিজ্য (Trade) - মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও ইকবাল উদ্দিন আহমেদ মিঠু স্যারে লেখা বই
Read more