(International Trade of Iron & Steel)
বর্তমান যুগে লৌহ ও ইস্পাত বিশ্ববাণিজ্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। উন্নত দেশগুলোতে লৌহ ও ইস্পাত অধিক উৎপন্ন হয় বটে, কিন্তু এ সব দেশের চাহিদাও খুব বেশি। চীন, জাপান, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি শীর্ষ ৫টি লৌহ ও ইস্পাত রপ্তানিকারক দেশ। এছাড়াও ইউক্রেন, ইতালি, বেলজিয়াম, তুরস্ক, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ইস্পাত রপ্তানি করে থাকে। আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, থাইল্যান্ড শীর্ষে অবস্থান করছে। এছাড়াও নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, মায়ানমার, ইরাক, শ্রীলঙ্কা, মিসর প্রভৃতি দেশগুলোও লৌহ ও ইস্পাত আমদানি করে থাকে।
সারণি-৬.২: লৌহ ও ইস্পাতের বিশ্ববাণিজ্য
| লৌহের বাণিজ্য (বিলিয়ন মার্কিন ডলার)*-২০১৯ | ইস্পাতের বাণিজ্য (মিলিয়ন টন)**-২০১৮ | ||||||
| আমদানি | রপ্তানি | আমদানি | রপ্তানি | ||||
| দেশ | পরিমাণ | দেশ | পরিমাণ | দেশ | পরিমাণ | দেশ | পরিমাণ |
| ১. চীন | ৭৫ | ১. অস্ট্রেলিয়া | ৪৬.৭ | ১. যুক্তরাষ্ট্র | ৩১.৭ | ১. চীন | ৬৮.৮ |
| ২. জাপান | ৯.৩ | ২. ব্রাজিল | ২০.২ | ২. জার্মানি | ২৬.৬ | ২. জাপান | ৩৫.৮ |
| ৩. দ. কোরিয়া | ৫.৪ | ৩. দ. আফ্রিকা | ৪.২ | ৩. ইতালি | ২০.৬ | ৩. রাশিয়া | ৩৩.৩ |
| ৪. জার্মানি | ৩.৬ | ৪. কানাডা | ৪.১ | ৪. থাইল্যান্ড | ১৫.৫ | ৪. দ. কোরিয়া | ৩০.১ |
| ৫. নেদারল্যান্ডস | ২.৩ | ৫. ইউক্রেন | ২.৯ | ৫. দ. কোরিয়া | ১৪.৯ | ৫. জার্মানি | ২৬.০ |
Source: World Top Exports (WTEX)-2020
** World Steel Association-2020
লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের গুরুত্ব ও ব্যবহার:
লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান যুগে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের প্রয়োজন সর্বাধিক। বিভিন্ন শিল্পের ভিত্তি ন যুগে লৌহ। এর ওপর নির্ভরশীল। লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের দ্রব্যাদি সভ্যতা বিনির্মাণে সর্বশ্রেষ্ঠ উপকরণ। লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের ব্যবহার গুলো হলো-
১. লৌহ ও ইস্পাত দ্বারা শিল্প কারখানার কাঠামো (Structure) নির্মাণ করা হয়। তাই এ শিল্পের উন্নতি ছাড়া অন্যান্য শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে পারে না।
২. শিল্পের যন্ত্রপাতি নির্মাণে লৌহ ও ইস্পাতের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশও এ সব কারখানায় তৈরি হয়।
৩. ঘরবাড়ি ও দালানকোঠার জানালা, দরজা, ছাদ ইত্যাদি নির্মাণেও লোহার রড ও পাত ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
৪. পরিবহনের বিভিন্ন মাধ্যম অর্থাৎ জাহাজ, রেলগাড়ি, মোটরগাড়ি, লঞ্চ, বাস ইত্যাদির কাঠামো নির্মাণেও এর প্রয়োজন হয়।
৫. বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র তথা কামান, বন্দুক, রাইফেল, ট্যাংক, যুদ্ধ জাহাজ, বোমারু বিমান প্রভৃতি নির্মাণেও লৌহ ও লৌহজাত দ্রব্যের প্রয়োজন হয়।
৬. সংসারের প্রয়োজনীয় নানা ধরনের বাসনকোসন, কাস্তে, দা, কুদাল, কুড়াল ইত্যাদি নির্মাণে লৌহ ও ইস্পাত ব্যবহৃত হয়।
৭.. হিটার, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার প্রভৃতি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি নির্মাণে ইস্পাত ব্যবহৃত হয়।
৮. রেডিও, টেলিভিশন প্রভৃতি যন্ত্রেও লৌহ ও ইস্পাতের প্রয়োজন হয়।
খনিজ ও শক্তি সম্পদ-মো: আবদুল কুদ্দুস স্যারে লেখা বই
Read more