(Top Exporting countries in the world and Exported materials: Japan, South Koria, France & Netherlands)
বর্তমানে জাপান বিশ্বের সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ৪র্থ বৃহত্তম দেশ। ২০১৮ সালে জাপানের মোট রপ্তানির পরিমাণ ৭৩৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জাপানের প্রধান প্রধান রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে সড়ক ও রেলগাড়ির যন্ত্রপাতি, মেশিনারিজ, ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রপাতি; টেকনিক্যাল ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি; লৌহ ও ইস্পাত, প্লাস্টিক সামগ্রী, ভেষজ রাসায়নিক (Organic Chemical) ইত্যাদি। জাপানের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শিল্প কারখানাগুলো পণ্য রপ্তানিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
ক. রেল ও মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ: জাপানের সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক পণ্য রেল ও মোটরগাড়ির যন্ত্রপাতি। জাপান নিজস্ব কাঁচামাল ব্যবহার করে রেলগাড়ি ও মোটরগাড়ি প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করে। নিজস্ব চাহিদা মেটাবার পর এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রতিবছর রেল ও মোটরগাড়ির যন্ত্রপাতি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। ২০১৮ সালে জাপান তার দেশের মোট রপ্তানির মধ্যে রেল ও মোটর যন্ত্রাংশ থেকে আয় করে ১৫৪.১ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ২০.৯%।
খ. মেশিনারিজ ও কম্পিউটার: জাপানের বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের মধ্যে মেশিনারিজ (কম্পিউটারসহ) দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য। বিভিন্ন পণ্যের মেশিনারি যন্ত্রাংশ বিদেশে রপ্তানি করে জাপান ২০১৮ সালে ১৪৮.০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এটা মোট রপ্তানি আয়ের ২০.১%।
গ. ইলেক্ট্রনিক্স উপকরণ: ইলেক্ট্রনিক্স উপকরণ উৎপাদনে জাপান বিশ্বে সমাদৃত। বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ২০১৮ সালে জাপান ১০৯.৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করে ইলেক্ট্রনিক্স উপকরণ রপ্তানির মাধ্যমে। এই রপ্তানি আয় জাপানের মোট রপ্তানি আয়ের ১৪.৮%। জাপান ইলেক্ট্রনিক্স উপকরণ উৎপাদনে বিশ্বের সকল দেশে সুপরিচিত বলে সরকারি ও বেসরকারিভাবে জাপানে এর উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘ . অপটিক্যাল, টেকনিক্যাল ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি: জাপান অপটিক্যাল, টেকনিক্যাল ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি উৎপাদনে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। ২০১৮ সালে জাপানের সকল রপ্তানি পণ্যের মধ্যে অপটিক্যাল, টেকনিক্যাল ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি চতুর্থ বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য। এ খাতে পণ্য রপ্তানি করে জাপানের ৪১.৩ বিলিয়ন ডলার আয় হয়, যা মোট রপ্তানির ৫.৬%।
ঙ. লৌহ ও ইস্পাত: লৌহ থেকে লৌহ শলাকা, বিভিন্ন ইস্পাত দ্রব্য উৎপাদনে জাপান বেশ এগিয়ে গেছে। জাপান লৌহ ও ইস্পাত দ্রব্য রপ্তানি করে প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। ২০১৮ সালে লৌহ ও ইস্পাত দ্রব্য রপ্তানি করে জাপানের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ২৯.৯ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ৪.১%।
দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি পণ্যসমূহ
দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট রপ্তানির পরিমাণ ৬০৫.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান প্রধান রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে খনিজ জ্বালানি, প্রযুক্তির কাঁচামাল, মেশিনারি, অটোমোবাইলস, জাহাজ, এলসিডি ডিভাইস, লৌহ ও ইস্পাত, প্লাস্টিক সামগ্রী ইত্যাদি।
ক. ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি: সারা বিশ্বে দক্ষিণ কোরিয়া ইলেকট্রিক মেশিনারিজ পণ্য বিপুল পরিমাণে রপ্তানি করে। ২০১৮ সালে ইলেকট্রিক মেশিনারিজ রপ্তানি করে দেশটি মোট রপ্তানি আয়ের ৩০.৫ শতাংশ অর্জন করে, যার মূল্যমান ছিল ১৮৪.৬ বিলিয়ন ডলার।
খ. মেশিনারিজ ও কম্পিউটার: ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়া বিপুল পরিমাণে মেশিনারিজ (কম্পিউটারসহ) বিদেশে রপ্তানি করেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কোরিয়ার মেশিনারিজের উচ্চ চাহিদা রয়েছে। এ খাত থেকে ২০১৮ সালে দেশটি ৭৭.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে, যা মোট রপ্তানির ১২.৮%।
গ. পরিবহন যান: ২০১৮ সালে পরিবহন যান (Vehicle) রপ্তানি করে দক্ষিণ কোরিয়া ৬১.২ বিলিয়ন ডলার আয় করে, যা মোট রপ্তানির ১০.১ শতাংশ।
ঘ. খনিজ জ্বালানি খনিজ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি রপ্তানি করে দক্ষিণ কোরিয়া ২০১৮ সলে ৪৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে, যা মোট রপ্তানির ৮ শতাংশ।
নেদারল্যান্ডের রপ্তানি পণ্যসমূহ
বর্তমানে নেদারল্যান্ড বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। ২০১৮ সালে নেদারল্যান্ডের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৮৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নেদারল্যান্ডের প্রধান প্রধান রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে মেশিনারি এবং পরিবহন যন্ত্রপাতি, খনিজ জ্বালানি, খাদ্যদ্রব্য, ওষুধপত্র, কাপড় এবং জুতামোজা ইত্যাদি অন্যতম। নেদারল্যান্ড মোট রপ্তানির ৬০% রপ্তানি করে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে।
ক. মেশিনারিজ ও কম্পিউটার নেদারল্যান্ডের বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের মধ্যে মেশিনারিজ (কম্পিউটারসহ) শীর্ষস্থানীয় রপ্তানি পণ্য। বিভিন্ন পণ্যের মেশিনারি যন্ত্রাংশ বিদেশে রপ্তানি করে নেদারল্যান্ড ২০১৮ সালে ৯৯.৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এটা মোট রপ্তানি আয়ের ১৩.৮%।
খ. খনিজ জ্বালানি খনিজ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি নেদারল্যান্ডের রপ্তানি আয়ে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী। ২০১৮ সালে দেশটি খনিজ তেল রপ্তানি করে ৯৭.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে, যা মোট রপ্তানির ১৩.৪ শতাংশ।
গ. ইলেকট্রনিক্স উপকরণ: ইলেকট্রনিক্স উপকরণ উৎপাদনে নেদারল্যান্ড সমাদৃত। বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ২০১৮ সালে নেদারল্যান্ড ৯৪.৩ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করে ইলেকট্রনিক্স উপকরণ রপ্তানির মাধ্যমে। এই রপ্তানি আয় নেদারল্যান্ডের মোট রপ্তানি আয়ের ১৩%।
ঘ. ফার্মাসিউটিক্যালস: নেদারল্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্প থেকে ২০১৮ সালে ৪৩.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রপ্তানি আয় করে যা মোট রপ্তানির ৬%।
ফ্রান্সের রপ্তানি পণ্যসমূহ
বর্তমানে ফ্রান্স বিশ্বের রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। ফ্রান্স বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে ১৯৯৫ সালে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেই দেশটির অধিক বাণিজ্য ঘটে। এর বাইরেও এ দেশ আফ্রিকা ও এশিয়াতে অধিক পণ্য রপ্তানি করে।
ফ্রান্সের যেসব পণ্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: মেশিনারি এবং পরিবহন যন্ত্রপাতি, বিমান পণ্যাদি, প্লাস্টিক সামগ্রী, রাসায়নিক দ্রব্য, ওষুধপত্র, লোহা, ইস্পাত, ভোগ্যপণ্য, পেট্রোলিয়াম এবং মোটরগাড়ি ও যন্ত্রাংশ। এসব পণ্য রপ্তানিতে ফ্রান্সের অংশীদার নিকটতম সহযোগী দেশ জার্মানি। ফ্রান্সের ২০১৮ - সালে মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ৫৬৮.৪ বিলিয়ন ডলার।
ক. ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি ও কম্পিউটার: শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ফ্রান্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি উৎপাদন
বৃদ্ধি করেছে। দেশটির রপ্তানি আয় ফ্রান্সের মোট রপ্তানি আয়ের অনেকখানি পূরণ করেছে। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের মোট রপ্তানি আয়ের ১১.৯% ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি ও কম্পিউটার রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত হয়, যার মোট পরিমাণ ৬৭.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
খ. মোটরযান ও যন্ত্রপাতি: ফ্রান্সের রপ্তানিযোগ্য একটি উল্লেখযোগ্য পণ্য হচ্ছে মোটরগাড়ি (Vehicles) নির্মাণ ও এর যন্ত্রাংশ। ২০১৮ সালে এ খাতে ৫৬.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মোটর যন্ত্রপাতি রপ্তানি করে ফ্রান্স, যা মোট রপ্তানিতে ৯.৯% যোগ করে।
গ. বিমান ও নভোযান: ফ্রান্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেসব পণ্য রপ্তানি করে তার মধ্যে বিমান ও নভোযানের যন্ত্রাংশ অন্যতম। ২০১৮ সালে দেশটিতে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় তার ৯.১ শতাংশ আসে বিমান ও নভোযান যন্ত্রাংশ রপ্তানি থেকে, যার পরিমাণ ৫১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ঘ. ইলেক্ট্রনিক্স: ফ্রান্স বিশ্ব রপ্তানির শীর্ষে অবস্থানের জন্য বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য রপ্তানিতেও বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। ফ্রান্স ২০১৮ সালে মোট রপ্তানির ৭.৯% ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে আয় করে, যার পরিমাণ ৪৪.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় বিশ্ব বাণিজ্যের বাজার বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এক দেশ আরেক দেশকে পিছনে ফেলে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই বিভিন্ন দেশে রপ্তানি পণ্যের বিভিন্নতা লক্ষ করা যায়। বিশ্বের শীর্ষ দশ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে উপরে বর্ণিত দেশগুলো ছাড়াও রয়েছে-
ইতালির রপ্তানি পণ্যসমূহ: ২০১৮ সালে ইতালির রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ৫৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার। ইতালি বর্তমান বিশ্বের সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে। ইতালি বর্তমানে মোট রপ্তানি আয়ের শতকরা ১৯.৫% আয় করেছে মেশিনারি (কম্পিউটারসহ) থেকে, যার মোট পরিমাণ ১০৬.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এদেশের অন্যান্য প্রধান রপ্তানি দ্রব্যগুলোর মধ্যে ধাতব পণ্য, কাপড়, মোটর যন্ত্রপাতি, বিলাস সামগ্রী, মোটরসাইকেল, স্কুটার, ওষুধপত্র, রাসায়নিক দ্রব্যাদি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
যুক্তরাজ্যের রপ্তানি পণ্যসমূহ: যুক্তরাজ্য বর্তমান বিশ্বের সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে নবম স্থানে
অবস্থান করছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রধান প্রধান রপ্তানিপণ্যের মধ্যে মেশিনারি, মোটরযন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ২০১৮ সালে দেশটির রপ্তানি পণ্যের শীর্ষে ছিল মেশিনারি (কম্পিউটারসহ)। দেশটি এখাত থেকে মোট ৭২.৫ বিলিয়ন ডলার আয় হয়, যা মোট রপ্তানির ১৫ শতাংশ। এছাড়া পরিবহন খাত থেকে আসে ৫৫.৪ বিলিয়ন ডলার।
বেলজিয়াম রপ্তানি পণ্যসমূহ: বেলজিয়াম বর্তমানে বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। প্রধান প্রধান রপ্তানি
পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে তেল, মোটর গাড়ি, কম্পিউটার, মূল্যবান ধাতু, কাঠ গাড়ি, ফার্মাসিউটিক্যাল, জৈব রাসায়নিক, প্লাস্টিক সামগ্রী, লৌহ-ইস্পাত, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। ২০১৮ সালে দেশটির মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৬৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৮ সালে রপ্তানি আয়ের শতকরা ১১.১ শতাংশ তেল ও খনিজ তেল রপ্তানির মাধ্যমে এসেছে। এর মোট পরিমাণ ছিল ৫১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, দেশটির রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ।
পরিশেষে বলা যায়, উপরিউক্ত দেশগুলো তাদের স্ব-স্ব দেশে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে বর্তমানে সর্বোচ্চ অবস্থানে এসেছে এবং ঐসব পণ্য রপ্তানি করে প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
বাণিজ্য (Trade) - মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও ইকবাল উদ্দিন আহমেদ মিঠু স্যারে লেখা বই
Read more