(Regional Area Enriched in Biodiversity)
যেসব প্রজাতি শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে পাওয়া যায় তাদেরকে আঞ্চলিক প্রজাতি বলা হয়। সংরক্ষণের দিক থেকে এ সকল প্রজাতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর যেকোনো একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে সম্পূর্ণ প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়া। কারণ বিশ্বের অন্য কোথাও ঐ প্রজাতি আর দেখা যায় না। বিবর্তন প্রক্রিয়ায় এক চমৎকার নিদর্শন আঞ্চলিক প্রজাতি।

স্বাভাবিকভাবে আঞ্চলিক প্রজাতি ও তাদের আবাস সংরক্ষণের গুরুত্ব খুবই বেশি। কারণ এসব প্রজাতি একবার হারিয়ে গেলে চিরতরে হারিয়ে যায়। আঞ্চলিক প্রজাতির অবস্থানের ওপর নির্ভর করে ১৯৮৮ সালে ব্রিটিশ পরিবেশবিদ মায়ার্স বিশ্বের বারোটি অঞ্চলকে চিহ্নিত করেছেন। যথা-
১. হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, ২. নিউ ক্যালেডোনিয়া, ৩. কলম্বিয় শাকো, ৪. অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড, ৫. ইকুয়েডরের পশ্চিমাঞ্চল, ৬. ফিলিপিনস, ৭. আমাজান নদীর পশ্চিম এলাকার স্থলভূমি, ৮. বোর্নিওর উত্তরাঞ্চল, ৯. ব্রাজিলের আটলান্টিক বনাঞ্চল, ১০. মালয়েশিয়ার উপদ্বীপসমূহ, ১১. মাদাগাস্কারের পূর্বাঞ্চল ও ১২. হিমালয়ের পূর্বাঞ্চল। এসব অঞ্চল মাত্র ২,৯২,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থিত।
বিশ্বের বনভূমির আয়তন ৮৩ লাখ ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৪% এলাকা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এসব এলাকার রয়েছে ৩৪,৪০০ আঞ্চলিক প্রজাতির উদ্ভিদ; বিশ্বের যত উদ্ভিদ রয়েছে তার আঞ্চলিক প্রজাতির ২৭% এবং মোট উদ্ভিদ প্রজাতির ১৩%।
পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ দেশের তালিকা করলে দেখা যায়, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, চীন ইত্যাদি বৃহৎ আয়তনের দেশগুলো শীর্ষে। মূলত বৃহদায়তন হওয়ায় এসব দেশে বিচিত্র ভৌগোলিক পরিবেশ বিদ্যমান। ফলে প্রজাতিবৈচিত্র্য বেশি। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র আয়তনের দেশগুলোকে আয়তন অনুসারে বিবেচনা করলে দেখা যায়, বুনেই, গাম্বিয়া, জ্যামাইকা প্রভৃতি দেশ অতিশয় জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ।
বিশ্বের জীববৈচিত্র্যপূর্ণ দেশসমূহ:
| সার্বিক | আয়তন বিবেচনায় |
ব্রাজিল কলম্বিয়া ইন্দোনেশিয়া চীন মেক্সিকো | ব্রুনেই গাম্বিয়া বেলিজ জ্যামাইকা এল সালভাদর |
সূত্র: Mongbay.com.
DATA SOURCES; IUCN Red List, UNEP-WCMC (World Conservation Monitoring Centre).
জীবমণ্ডল - তাপস কুমার মজুমদার স্যার এর লেখা বই
Read more