hsc

বায়ুদূষণের কারণ (পাঠ-১৩)

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1

(Causes of Air Pollution)

কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2): শিল্প-কারখানা, বিভিন্ন ধরনের চুল্লি (যেমন- ইটভাটা) ও মোটরযান হতে কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়। জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, লিগনাইট, প্রাকৃতিক গ্যাস) দহনের জন্য সারা বছর পৃথিবীতে  ×  টনের অধিক কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে গাছপালা হ্রাস পাওয়ায় বাতাসে কার্বনডাইঅক্সাইডের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ: মোটরযান, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, প্লাস্টিক, এসিড ও বিস্ফোরক নির্মাণকারী কারখানাসহ বিভিন্ন কারখানায় নাইট্রোজেন জারিত হয়ে (শিল্পের উপজাত হিসেবে) বিভিন্ন প্রকার অক্সাইড তৈরি করে। বর্তমানে পরিবেশে NO2 এর উপস্থিতি ব্যাপক ও এর ক্ষতির মাত্রাও বেশি।

সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2): শিল্প-কারখানা ও শক্তি উৎপাদক কেন্দ্র থেকে এ গ্যাস বের হয় ও বাতাসে মিশে যায়। এ গ্যাসের সাথে আরও অনেক কিছু মিশে থাকে। যেমন- সীসা, তামা, জিংক, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি ভারি ধাতু, হাইড্রোজেন সালফাইড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন ও ৩, ৪ বেনজোপাইরিন। এগুলো মিলে ধোঁয়া সৃষ্টি হয়।

ক্লোরো-ফ্লুরোকার্বন (CFC): CFC হলো কার্বন, ফ্লোরিন ও ক্লোরিনের একটি উদ্বায়ী (Volatile) যৌগ। এটি রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার, প্লাস্টিক ও রং তৈরির কারখানা হতে নির্গত হয়। CFC ওজোন স্তরকে ধ্বংস করছে। ১ অণু CFC গ্যাস ২০০০ ওজোন অণুকে (তাপমাত্রা ভেদে) ধ্বংস করতে পারে।
ভারি ধাতু: পারদ, সীসা, ক্যাডমিয়াম, দস্তা, ক্রোমিয়াম, নিকেল প্রভৃতি ভারি ধাতু। এই ভারি ধাতুগুলো শিল্প-কারখানা, মোটরযান ও মানুষের বিভিন্ন কর্মকান্ডে (যেমন- যত্রতত্র আবর্জনা নিক্ষেপ) প্রকৃতিতে অধিক ছড়ায়।

তেজস্ক্রিয় পদার্থ: তেজস্ক্রিয় পদার্থ পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র অথবা পারমাণবিক বিস্ফোরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা, ইত্যাদি থেকে উপজাত হিসেবে নির্গত হয় এবং বায়ুদূষণ ঘটায়।
কীটনাশক, আগাছা ও ছত্রাক নাশক ওষুধ প্রয়োগ: কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত কীটনাশক, আগাছা নাশক ও ছত্রাক নাশক ব্যবহার করে মানুষ পরিবেশ দূষণ করছে। ডিডিটি, এলড্রিন, ক্লোরডেন, হেপ্টাস্ফোর, আনসার ইত্যাদি ওষুধ পৃথিবীর সব দেশেই কম-বেশি ব্যবহার হচ্ছে, যা আজ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বায়ুদূষণ রোধের উপায় (Measures to prevent Air Pollution)
১. চার স্ট্রোক ইঞ্জিন ব্যবহার: দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং চার স্ট্রোক ইঞ্জিনের ধোঁয়া পরিশোধনের ব্যবস্থা করা।
১. প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার: খনিজ তেলের পরিবর্তে মোটরযানে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা।
২. শিল্প কারখানা দূরে স্থাপন: শিল্প-কারখানা, ইটের ভাটা লোকালয় থেকে দূরে স্থাপন করা।
৩. সিএফসির ব্যবহার কমানো: ওজোন স্তর ক্ষয়কারী সিএফসি গ্যাস ব্যবহার না করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশে বিকল্প হিসেবে তরল পেট্রোলিয়াম ব্যবহার করা।
৪. গণসচেতনতা সৃষ্টি: ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়মিত প্রচার করা যাতে বায়ুদূষণ বিষয়ে প্রত্যেকে সচেতন থাকে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পাঠ্যবইয়ে এটা গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা।
. গাছ লাগানো: পর্যাপ্ত পরিমাণে গাছ লাগানো ও বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা

জীবমণ্ডল - তাপস কুমার মজুমদার স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...