(Elements of Air)
সাধারণভাবে বায়ুমণ্ডল গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত। এছাড়াও বায়ুর আরও কিছু উপাদান (জলীয়বাষ্প) রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বায়ু তথা বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: ১. গ্যাসীয় উপাদান (composition of gases), ২. জলীয়বাষ্প (water vapour) এবং ৩. জৈব ও অজৈব কণিকা (organic and inorganic dust particles)
১. গ্যাসীয় উপাদান (composition of gases):
বায়ুমণ্ডলের গ্যাসগুলোর মধ্যে নাইট্রোজেনের (N2) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি (৭৮.০২%)। এর পরই রয়েছে অক্সিজেন (O2); এর পরিমাণ ২০.৭১%। সুতরাং, বায়ুমণ্ডলের শতকরা প্রায় ৯৯ ভাগই এ দু'টি গ্যাস নিয়ে গঠিত। আর বাকি ১% এর মধ্যে রয়েছে অন্যান্য উপাদান, যা নিচের সারণিতে দেখানো হয়েছে।

সারণি-৪.১: বায়ুর বিভিন্ন উপাদানের তালিকা
| উপাদান | পরিমাণ (%) | |
| নাইট্রোজেন | ৭৮.০২ | |
| অক্সিজেন | ২০.৭১ | |
| আরগন (Ar) | ০.৮০ | |
| কার্বন ডাইঅক্সাইড | ০.০৩ | |
| অন্যান্য গ্যাসসমূহ (নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, ওজোন, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড) | ০.০২ | |
| জলীয়বাষ্প | ০.৪১ | |
| সর্বমোট | ০.০১ | |
| ১০০ | ||
প্রধান গ্যাসীয় উপাদান (Major composition of gases)
ক. নাইট্রোজেন : বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সর্বাধিক (৭৮.০২%)। এই গ্যাস বায়ুর আয়তন বৃদ্ধি ও পাতলা (light) করতে সহায়তা করে। কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া (সায়ানো ব্যাকটেরিয়া) বায়ু থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন সংগ্রহ করতে পারে। পৃথিবীতে তাপমাত্রার সুষম বণ্টনে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
খ. অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলের সর্বাপেক্ষা প্রয়োজনীয় গ্যাস অক্সিজেন। ব্যাপকভিত্তিক ব্যবহারের পরও বায়ুমণ্ডলে এর পরিমাণ প্রায় একই থাকে। কারণ উদ্ভিদ সম্প্রদায়ের মাধ্যমে (সমগ্র জীবজগৎ কর্তৃক) ব্যয়িত অক্সিজেনের প্রায় সমপরিমাণ বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে।
গ. কার্বন ডাইঅক্সাইড উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ (photosynthesis) প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের জন্য অত্যাবশ্যক গ্যাস হচ্ছে কার্বন ডাইঅক্সাইড (০.০৩%)। এ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তি (solar energy) উদ্ভিদের দেহে সঞ্চিত হয়। উৎপাদিত এ শক্তি বিভিন্ন প্রাণী (গরু) সরাসরি সবুজ উদ্ভিদ (ঘাস) থেকে সংগ্রহ করে, যা অন্য কোনো মাধ্যম থেকে সম্ভব নয়।
ঘ. ওজোন এটি বায়ুমণ্ডলের একটি অস্থায়ী গ্যাস। এই গ্যাস অক্সিজেন অণুর সংমিশ্রণে সৃষ্টি হয় । বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তর সূর্যের মারাত্মক অতিবেগুনি রশ্মি (ultra-violet ray) শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগতকে রক্ষা করে। ঊর্ধ্ব বায়ুস্তরে ৩০-৬০ কি. মি. এর মধ্যে এই গ্যাসের স্তর দেখা যায়।

বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য গ্যাসগুলো মধ্যে আর্গন, রেডন, নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন প্রভৃতি নিষ্ক্রিয় গ্যাস উল্লেখযোগ্য। এরা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না।
২. জলীয়বাষ্প (Water vapour): এটি বায়ুমণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জলীয়বাষ্প প্রধানত বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে অবস্থান করে। এর পরিমাণ স্থান ও ঋতুভেদে পরিবর্তিত হয়। বায়ুতে এর পরিমাণ ০.৪১%।
জলীয়বাষ্প জলাধার (নদী, সমুদ্র) থেকে বাষ্পীভবনের (evaporation) মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে অবস্থান নেয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বাতাসে জলীয়বাষ্পের ধারণ ক্ষমতা বাড়ে; আর কম হলে তা কমে যায়। বায়ুর এ উপাদানটি সৌরতাপ শোষণ করে আবার ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণে বাধা দেয়। বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিতে ঘনীভবন (condensation) প্রক্রিয়া চলে এবং বর্ষণ (precipitation), মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি সৃষ্টি হয়।
৩. জৈব ও অজৈব কণিকা বা ধুলিকণা (Organic and inorganic dust particles): বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান রয়েছে। যেমন- ধুলিকণা, লবণ কণিকা, পলেন কণা (Pollen particle), কয়লার গুঁড়া ও ধোঁয়া, আগ্নেয়গিরির ছাই, উল্কা ভস্ম ইত্যাদি। এগুলো সূর্যরশ্মি হতে তাপ শোষণ করে এবং বায়ুকে উত্তপ্ত করতে সাহায্য করে। এগুলোকে আশ্রয় করে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বারিপাত (Precipitation) ঘটায়।
বায়ুমণ্ডল ও বায়ু দূষণ খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর লেখা বই