hsc

ব্যবহারিক: বিভিন্ন মহাসাগরের আয়তন পাইচিত্রে প্রদর্শন (পাঠ-৪)

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

97

(Practical: Showing the Area of Oceans on Pie Chart)

সমুদ্রবিজ্ঞানীরা সমুদ্রের অবিচ্ছিন্ন জলরাশিকে পাঁচটি প্রধান মহাসাগরে বিভক্ত করেছেন। এসব মহাসাগরের আয়তন পাইচিত্রে প্রদর্শন করতে হলে আমাদেরকে প্রথমে পাইচিত্র সম্পর্কে জানতে হবে।

পাইচিত্র (Pie Chart)

বৃত্তের সাহায্যে তথ্য প্রদর্শনের পদ্ধতিকে পাই চিত্র বা পাই লেখচিত্র বলে। সাধারণত কতিপয় তথ্যের পরস্পরের মধ্যে এবং ঐ তথ্যগুলোর সমষ্টির সঙ্গে প্রতি তথ্যের সম্পর্ক বুঝাবার জন্য পাইচিত্র ব্যবহৃত হয়। এই চিত্র অঙ্কন করতে বৃত্তের কোনো নির্ধারিত ব্যাসার্ধ থাকে না। যেকোনো ব্যাসার্ধের বৃত্ত অঙ্কন করলেই চলে।

পাইচিত্রের সুবিধা: এই চিত্রের মাধ্যমে কতিপয় তথ্যের পরস্পরের মধ্যে এবং ঐ তথ্যগুলোর সমষ্টির সাথে প্রতিটি তথ্যের সম্পর্ক বুঝানো সহজ। একটি সম্পূর্ণ জিনিসের মধ্যে অবস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশগুলোর আনুপাতিক বিস্তৃতিকে এ চিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শন করা সহজ। এটি দেখতেও অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক।

পাইচিত্রের অসুবিধা: এই চিত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন দ্রব্যের উপযোগিতা বা মূল্য বৃদ্ধি বা উৎপাদনের প্রবণতা দেখানো যায় না। এটি দেখামাত্র সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হয় না। এটি অঙ্কনও সহজ নয়। হিসাবের ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনোযোগী হতে হয়।
অঙ্কন পদ্ধতি

  • প্রথমে প্রদত্ত তথ্য বা উপাত্তের সমষ্টি বের করতে হবে।
  • নির্ণেয় সমষ্টি বা যোগফলকে বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ ৩৬০° (ডিগ্রি) এর সমান ধরে নিতে হবে।
  • প্রত্যেকটি উপাত্ত বা তথ্যের মান কত ডিগ্রি, তা নির্ণয় করতে হবে।
  • প্রত্যেক তথ্যের বা উপাত্তের ডিগ্রি নির্ণয়ের জন্য নিচের সূত্রটি ব্যবহার করতে হবে-

কৌণিক মান = ৩৬০° ×প্রদত্ত সংখ্যা (তথ্য)

প্রদত্ত তথ্য সমষ্টি

  • প্রত্যেক উপাত্তের কৌণিক মানের যোগফল মোট ৩৬০° হয় কিনা বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে।
  • বৃত্তের মধ্যে কোণ অঙ্কন করতে চাঁদা ব্যবহার করতে হবে।
  • সব সময় কোণগুলো ডানাবর্তে (Clockwise) অঙ্কন করতে হবে।

নিচে মহাসাগরগুলোর আয়তন দেওয়া হলো-

সারণি- ৭.৩: পৃথিবীর প্রধান মহাসাগরগুলোর আয়তন

মহাসাগরআয়তন (মিলিয়ন বর্গ কি.মি.)%প্রাপ্ত ডিগ্রি
প্রশান্ত মহাসাগর১৬ কোটি ৬০ লক্ষ৪৭.২০১৬৯.৯২°
আটলান্টিক মহাসাগর৮ কোটি ২৪ লক্ষ২৩.৪০৮৪.৩৪°
ভারত মহাসাগর৭ কোটি ৩৬ লক্ষ২০.৯০৭৫.৩৪°
উত্তর মহাসাগর১ কোটি ৫০ লক্ষ৪.৩০১৫.৩৫°
দক্ষিণ মহাসাগর১ কোটি ৪৭ লক্ষ৪.২০১৫.০৫°
৩৫,১৭,০০০০১০০৩৬০°

হিসাব: প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন মোট আয়তনের ৪৭.২০ শতাংশ।

সুতরাং, প্রশান্ত মহাসাগরের জন্য প্রাপ্ত কৌণিক মান=৩৬০° × ৪৭.২০১০০=১৬৯.৯২°

এভাবে প্রাপ্ত কৌণিক মানগুলো ৭.৩ নং সারণিতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
মহাসাগরগুলোর আয়তন থেকে নিচে একটি পাইচিত্র তৈরি করা হলো

বারিমণ্ডল - ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...