(Political Regions of the World: Continents)
এশিয়া মহাদেশের রাজনৈতিক ভূগোল
আয়তনে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মহাদেশ এশিয়া। মহাদেশটির রাজনীতি অত্যন্ত বিচিত্র ও জটিল। এখানে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র, নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র, একদলীয় শাসনব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা, অধীনস্থ প্রশাসনিক অঞ্চল, উদারপন্থী গণতন্ত্র, সামরিক একনায়কতন্ত্র ইত্যাদি সবধরনের রাজনৈতিক কাঠামোই দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু রাষ্ট্র যেগুলো নিজেদের রাষ্ট্র (যেমন- তিব্বত) হিসেবে দাবি করলেও পাশ্ববর্তী শক্তিশালী দেশ (চীন) তা স্বীকার করে না। এশিয়া মহাদেশের আয়তন ও জনসংখ্যা যথাক্রমে ৪৪,৫৭৯,০০০ বর্গ কি.মি. (স্থলভাগের ৩০%) এবং ৪৫৬,১৮,২৫,৮৬১ (নভেম্বর, ২০১৮)।
এশিয়ার সভ্যতা এবং সেই সাথে রাজনীতির ইতিহাস সুপ্রাচীন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ (যেমন- ভারত উপমহাদেশ: ১৭৫৭-১৯৪৭) ১৮শ, ১৯শ ও ২০শ শতকে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল এবং এই সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ এখনও এশীয় রাজনীতিকে অনেকটাই প্রভাবিত করে থাকে। কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব, তাইওয়ান-গণচীন দ্বন্দ্ব, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব; এগুলো এশিয়ার বর্তমান সময়ের কিছু সংঘর্ষমূলক অবস্থার উদাহরণ। তবে আঞ্চলিক পর্যায়ে বৃহত্তর সহযোগিতারও অনেক উদাহরণের দেখা মেলে। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সার্ক (SAARC) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান (ASEAN) এর নাম উল্লেখযোগ্য।
ইউরোপ মহাদেশের রাজনৈতিক ভূগোল
পৃথিবীর প্রাচীনতম মহাদেশগুলোর একটি হচ্ছে ইউরোপ মহাদেশ। আয়তনে এটি ষষ্ঠ হলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপে নানা ধরনের জাতি ও সংস্কৃতি রয়েছে। এখানে গণতন্ত্র, সংসদীয় প্রজাতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, সংসদীয় গণতন্ত্র, রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্র ও সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান। ইউরোপ মহাদেশের অনেক দেশেরই এক সময় বিশ্বব্যাপী উপনিবেশ ছিল। যেমন- পর্তুগালের উপনিবেশ ব্রাজিল, যুক্তরাজ্যের উপনিবেশ ভারত।
ইউরোপের দেশসমূহের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক জোটের নাম ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ছিল ১৫টি এবং বর্তমান সদস্য ২৮টি দেশ। ইউরোপ মহাদেশের আয়তন ও জনসংখ্যা যথাক্রমে ১০,১৮০,০০০ বর্গ কি. মি. বা ৩,৯৩০,০০০ বর্গ কি. মি. (পৃথিবীর স্থলভাগের ৬.৮%) এবং ৭,৪১,৪৪৭,১৫৮ জন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহের মধ্যে একই মুদ্রা, একই কৃষিনীতি এবং মৎস্যনীতি গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে ইউরোপীয় রাজনীতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্বারা পরিচালিত হলেও ইউরোপীয় রাষ্ট্রসমূহ আরো কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য যেমন: NATO (North Atlantic Treaty Organization), CIS (Common Wealth of Indipendent States), GUAM (Georgia, Ukraine, Azerbaijan and Moldova) Organization for Democracy and Economic Development.
আফ্রিকা মহাদেশের রাজনৈতিক ভূগোল
আয়তনে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ আফ্রিকা। এটি ভূমধ্যসাগরের মাধ্যমে ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন। আফ্রিকার দেশসমূহে রাষ্ট্রপতি শাসিত রাজতন্ত্র, বহুদলীয় গণতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশের অনেক দেশেই একসময় ফ্রান্স, ব্রিটেন, পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল। বর্তমানে আফ্রিকা মহাদেশে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত স্বাধীন দেশের সংখ্যা ৫৪টি (চিত্র-১.১৩)। মহাদেশটির জনসংখ্যা ১,৩০১,৩৬৯,২৭৬ (২০১৮) এবং আয়তন
৩০,৩৭০,০০০ বর্গ কি. মি. বা ১,১৭,৩০০,০০০ বর্গ মাইল (সূত্র: worldometer)। আফ্রিকা মহাদেশে খাদ্যাভাব, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জীবনযাত্রার নিম্নমান, এইডস, বর্ণবাদ ইত্যাদি প্রকট। আফ্রিকা খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, কিন্তু যথাযথ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন না ঘটায় প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
দক্ষিণ আমেরিকার রাজনৈতিক ভূগোল
দক্ষিণ আমেরিকা পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ। দক্ষিণ আমেরিকায় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার, প্রজাতন্ত্র, গণতন্ত্র ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা দেখা যায়। দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশ যেমন: আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, উরুগুয়ে, কলম্বিয়া, চিলি, প্যারাগুয়ে ও ভেনিজুয়েলা স্পেনের উপনিবেশ ছিল এবং ব্রাজিলে ছিল পর্তুগালের ঔপনিবেশিক শাসন। দক্ষিণ আমেরিকাতে দীর্ঘ সময়ের ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে সেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধীর গতিতে হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় এ ধরনের উপনিবেশের প্রধান কারণ ছিল কৃষি। বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকার ১২টি দেশ জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত (চিত্র-১.১৪)। মহাদেশটির আয়তন ও জনসংখ্যা যথাক্রমে- ১৭,৮৪০,০০০ বর্গ কি. মি. বা, ৬,৮৯০,০০০ বর্গ মাইল এবং ৪,২০,৪৫৮,০৪৪ জন। কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ও খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য থাকার কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত আঞ্চলিক বাণিজ্য রয়েছে। আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে- Union of South American Nations, G3 মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Mexico, Colombia, Venezuela)।
উত্তর আমেরিকার রাজনৈতিক ভূগোল
উত্তর আমেরিকার আয়তন ২৪,৭০৯,০০০ বর্গ কি. মি. বা ৯,৫৪০,০০০ বর্গ মাইল (পৃথিবীর মোট আয়তনের ১৬.৩%)। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৫ জন লোক বাস করে। উত্তর আমেরিকায় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার, প্রজাতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত আছে। উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ দেশই ইউরোপের (স্পেন, ব্রিটেন) উপনিবেশ ছিল। ১৭শ ও ১৮শ শতকে উত্তর আমেরিকার দেশসমূহ স্বাধীনতা লাভ করে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকার স্বাধীন দেশের সংখ্যা ২৩টি (চিত্র-১.১১)। অন্যলের ভিত্তিতে আবার উত্তর আমেরিকার দেশসমূহকে উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে ভাগ করা হয়। এটি আয়তনে পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ। উত্তর আমেরিকার দেশসমূহের সংগঠন OAS (Organization of American States)। OAS এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দ্বন্দ্ব নিষ্পত্তি, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার। মহাদেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৫৭,৯২৪,০০০ জন।
অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের রাজনৈতিক ভূগোল
পৃথিবীর সপ্তম ও ক্ষুদ্রতম মহাদেশ অস্ট্রেলিয়া বা ওশেনিয়া। মহদেশটির আয়তন ৭৬ লাখ ৯২ হাজার বর্গ কি. মি. এবং জনসংখ্যা ২৪,৯০৬,৯৯৭ (World Population Review, 2018)। এটি মূলত দ্বীপ মহাদেশ নামে পরিচিত। মহাদেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপসমূহ নিয়ে গঠিত। অন্যান্য মহাদেশ থেকে দূরে অবস্থান করলেও বিশ্ব রাজনীতিতে এ মহাদেশের দেশগুলোর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ মহাদেশের দেশগুলোতে সংসদীয় গণতন্ত্র শাসনব্যবস্থা রয়েছে। আয়তনে এ মহাদেশের বৃহত্তম দেশ অস্ট্রেলিয়া এবং দীর্ঘতম নদী মারে। আঞ্চলিক অবস্থান অনুসারে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশসমূহ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মাইক্রোনেশিয়া, মেলানেশিয়া ও পলিনেশিয়া অঞ্চলে বিভক্ত (চিত্র-১.১২)। এ মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত মাইক্রোনেশিয়া, মেলানেশিয়া ও পলিনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন আগ্নেয় দ্বীপাঞ্চল।
এন্টার্কটিকা মহাদেশের রাজনৈতিক ভূগোল
এন্টার্কটিকা মহাদেশ পৃথিবীর পথ্যমতম মহাদেশ এবং পৃথিবীর দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ১ কোটি ৩৩ লক্ষ ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটার। দক্ষিণ মেরুর চারদিকে অবস্থিত সুবিশাল বরফাবৃত এন্টার্কটিকা মহাদেশকে পৃথিবীর শীতলতম মহাদেশ বলা হয়। মহাদেশটিতে কোনো স্থায়ী জনবসতি নেই। এন্টার্কটিকার ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও নিউজিল্যান্ডের শাসনের অন্তর্গত (চিত্র-১.৯)।
কাজ: পৃথিবীর মহাদেশগুলোর পাঠগুলো পড়ে নিচের ছকটি পূরণ করো-
| মহাদেশ | অবস্থান | আয়তন | জনসংখ্যা | সংগঠন |
মানব ভূগোল - মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
Read more