hsc

পাঠ-৬: বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

1.5k

(Characteristics of Climate of Bangladesh)

বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন। দেশের মধ্য দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এবং মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবজনিত কারণে এদেশের জলবায়ু 'ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু' নামে পরিচিত। উষ্ণ গ্রীষ্মকাল, মৃদু ও শুষ্ক শীতকাল, সারা বছর উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত বিশিষ্ট আর্দ্র বর্ষাকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

বাংলাদেশের জলবায়ুর বর্ণনা: মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব থাকায় এদেশে বছরে চক্রাকারে বিভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব হয় এবং প্রত্যেক ঋতুতে জলবায়ুর কিছুটা তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। বার্ষিক বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে বাংলাদেশের জলবায়ুকে প্রধানত তিনটি ঋতুতে ভাগ করা যায়। যদিও আবহমান অবিভক্ত বাংলা ষড়ঋতুর দেশ নামে পরিচিত।

প্রধান ঝতুঃ

ক. শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি)
খ. গ্রীষ্মকাল (মার্চ-মে)
গ. বর্ষাকাল (জুন-অক্টোবর)

ক. শীতকাল: নভেম্বর হতে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে শীতকাল বিরাজ করে। এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে থাকায় সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে এবং উত্তাপের পরিমাণ কমে যায়। তাই শীতকালে এদেশে তাপমাত্রা যথেষ্ট কম থাকে। এ ঋতুতে আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক, শীতল ও আরামদায়ক থাকে।

শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উষ্ণতার পরিমাণ যথাক্রমে °  ° সে.। জানুয়ারি মাস শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা প্রায় .° সে.। এ সময় সমুদ্র উপকূল হতে উত্তর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে।

শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে আগত শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে আসে বলে এ সময় বায়ুর সর্বনিম্ন আর্দ্রতা (৩৬%) বিরাজ করে।

শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে বয়ে যায় বলে বাংলাদেশে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। তবে এ বায়ু দেশের পূর্বাঞ্চলের পর্বতসমূহে বাধা পেয়ে সামান্য বৃষ্টিপাত ঘটায়। এ ছাড়া শীতকালে দেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক হতে আগত নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলবর্তী অঞ্চল ও পূর্বদিকের পার্বত্য অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্থানভেদে ৫-১৫ সে.মি.। এ ঋতুতে সিলেট, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার উত্তর-পূর্বাংশে এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলে ১৫ সে.মি. বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে এ সময় মাত্র ৫ সে.মি. বৃষ্টিপাত হয়।

খ. গ্রীষ্মকাল: মার্চ হতে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল। এ ঋতুতে সূর্যের উত্তরায়ণের দরুন উত্তাপের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ বৃদ্ধির পরিমাণ দক্ষিণ হতে উত্তর দিকে ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে উষ্ণতম ঋতু গ্রীষ্মকাল। এ ঋতুতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ৩৮° সে ও ° সে. মি.। গ্রীষ্মকালের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস এপ্রিল। এ মাসের গড় উষ্ণতা প্রায় ২৮° সে.। এ সময় সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ হতে উত্তর দিকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে উষ্ণ ও আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। কিন্তু এ সময় পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক হতে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। এ দুই বায়ুর সংঘর্ষে এ ঋতুতে প্রায়ই ঝড় ও বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ ঝড়কে কালবৈশাখী ঝড় বলে। এ বঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৮০ কি.মি. হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাত সাধারণত কালবৈশাখী ঝড়ের ফলে সংঘটিত হয়। মার্চ হতে মে মাস পর্যন্ত এ ঝড় প্রায়ই সংঘটিত হয়। গ্রীষ্মকালীন মাসগুলোর মধ্যে মে মাস সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল। বাংলাদেশের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের এক-পঞ্চমাংশ গ্রীষ্মকালেই হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালীন গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ৫১ সে.মি.।

গ. বর্ষাকাল: জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে বর্ষাকাল। বর্ষাকালে সূর্য বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগে লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এখানে তাপমাত্রা বেশি হবার কথা। কিন্তু এ ঋতুতে অধিক বৃষ্টিপাত হয় বলে তাপমাত্রা খুব বেশি বৃদ্ধি পায় না।
বর্ষাকালীন গড় উষ্ণতা প্রায় ২৭° সে.।

জুন মাসে সূর্য বাংলাদেশের ওপর অবস্থান করায় এ অঞ্চলে বায়ুচাপের পরিবর্তন হয়। এ সময় দেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। প্রকৃতপক্ষে এ বায়ু দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুর সম্প্রসারণ মাত্র। দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করার পর ফেরেলের সূত্রানুসারে, উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুতে পরিণত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে বলে এতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে। ফলে এ সময় বাংলাদেশে পরিচলন প্রক্রিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এ ছাড়া জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতগাত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান প্রভৃতি জেলার পাহাড়িয়া অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এ সময় গড় সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যথাক্রমে ১১৯ এবং ৩৪০ সে.মি.।

ঋতু পরিবর্তন এদেশের জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন করেছে। বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগত দিক হচ্ছে শুষ্ক ও আরামদায়ক শীতকাল, উষ্ণ গ্রীষ্মকাল এবং উষ্ণ ও আর্দ্র বর্ষাকাল। এ জলবায়ু দ্বারা আমাদের কৃষি, শিল্প, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার প্রণালি .সরাসরি প্রভাবিত। বাংলাদেশের অপ্রধান তিনটি ঋতু হলো- শরৎ (ভাদ্র-আশ্বিন), হেমন্ত (কার্তিক-অগ্রহায়ণ) ও বসন্ত (ফাল্গুন-চৈত্র)। মৌসুমি বায়ুর পশ্চাদগমন ও আঘাতজনিত উপকূলীয় ঝড় দ্বারা শরৎকাল, শিশিরের আগমন দ্বারা হেমন্ত এবং গাছে নতুন পাতার আগমন দ্বারা বসন্ত নির্ধারিত হয়।

জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন-ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...