(Presentation of Scales)
কোনো মানচিত্র বা নকশায় প্রধানত তিনটি উপায়ে স্কেল ব্যবহার করে অবস্থান ও দূরত্ব নির্ণয় করা হয়- (i) বর্ণনার সাহায্যে, (ii) রেখাচিত্র অঙ্কনের সাহায্যে এবং (iii) প্রতিভূ অনুপাতের বা সংখ্যা সূচক ভগ্নাংশের সাহায্যে।
(i) বর্ণনার সাহায্যে (By statement): ১" = ১ মাইল বা ১ ইঞ্চি = ১০ মাইল বা ১০০ মাইল = ১" প্রভৃতি বলে কথার মাধ্যমে স্কেল বর্ণনা করা হয়। স্কেল নির্দেশের বিভিন্ন উপায়ের মধ্যে এটা হচ্ছে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি, কারণ এ উপায়ে সরাসরি দূরত্ব বর্ণনা করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দূরত্বজ্ঞাপক পদ্ধতি প্রচলিত থাকায় দেশভেদে বর্ণনার ব্যতিক্রম করতে হয়। অন্যথায় সাধারণ মানুষের কাছে স্কেলে বর্ণিত বিষয় বোধগম্য হয় না। রাশিয়ায় প্রচলিত রৈখিক পদ্ধতি অনুযায়ী ১ মাগেনিয়াম = ১০০০ ভার্টস স্কেলে বর্ণিত মানচিত্রের প্রকৃত দূরত্ব ইংরেজি বা বাংলাদেশী ও ভারতীয়দের পক্ষে বোধগম্য নয়। আবার মানচিত্রকে ক্ষুদ্রাকৃতি (reduced) বা বৃহদাকৃতি (enlarged) করলে এতে বর্ণিত স্কেল নতুন মানচিত্রের জন্য অকেজো হয়ে পড়ে।
(ii) রেখাচিত্র অঙ্কনের সাহায্যে (By drawing): বর্ণনাকে রেখা মাপনী অঙ্কনের মাধ্যমে দেখানো যায়। এ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য এই যে, মানচিত্রের কোনো দু'টি স্থানের মধ্যস্থিত দূরত্ব এই রেখাচিত্র হতে সহজে বুঝতে পারা যায়। যেমন: রেখাচিত্র থেকে বুঝা গেল যে, মানচিত্রের দু'টি স্থানের মধ্যস্থিত দূরত্ব যদি ১ ইঞ্চি হয় তা হলে তার প্রকৃত দূরত্ব ৫০০ মাইল। সুতরাং ৪" লম্বা রেখা অঙ্কন করে তাকে ৪ ভাগে ভাগ করলে প্রতিভাগে ৫০০ মাইল হিসেবে ৪ ইঞ্চিতে ৫০০ মাইল × ৪ = ২,০০০ মাইল স্থান সূচিত করবে। এ ধরনের স্কেলে অপেক্ষাকৃত স্বল্প দূরত্ব বোঝাবার জন্য বাম দিকের প্রথম ঘরটিকে পুনরায় ক্ষুদ্র ৫ ভাগে ভাগ করলে প্রতি ভাগ ১০০ মাইল করে হবে। এ পদ্ধতির অপর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, মানচিত্রটিকে ক্ষুদ্রাকৃতি (reduced) বা বৃহদাকৃতি (enlarged) করলে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুদ্র বা বৃহৎ মানচিত্রের রৈখিক মাপনীটিও ক্ষুদ্র বা বৃহৎ হয়ে যায়।
(iii) প্রতিভূ অনুপাতের সাহায্যে (By representative fraction): প্রতিভূ অনুপাত বা সংখ্যা সূচক ভগ্নাংশের অংশ দু'টি। প্রথম অংশকে লব (numerator) এবং দ্বিতীয় অংশকে হর (denominator) বলে। উভয়ের মধ্যে আনুপাতিক চিহ্ন':' থাকে। প্রতিভূ অনুপাতে লব অংশে ১ এবং হর অংশে একটি বৃহৎ অঙ্ক থাকে। প্রতিভূ অনুপাতে লব অংশে মানচিত্রের ১ একক প্রকৃত ভূমির (হর অংশের) দূরত্বের অনুরূপ এককের প্রতিভূ স্বরূপ। যেমন: ১ মাইলে ৬৩৩৬০ ইঞ্চি হয়। এখন ১" = ১ মাইল, এ বর্ণনাকে প্রতিভূ অনুপাতে দেখাতে হলে তা ১: ৬৩৩৬০ হবে।
প্রতিভূ অনুপাত স্কেল দু'টি স্থানের দূরত্বের সম্পর্ক বোঝায় বলে প্রথম রাশি ও দ্বিতীয় রাশির মধ্যে অনুপাতের চিহ্ন দিতে
হয়। এ অনুপাতকে ভগ্নাংশ রূপেও দেখান যায়; অর্থাৎ একে ১/৬৩৩৬০ বা রূপেও লেখা হয়। বর্ণিত উদাহরণে মানচিত্রের ১ একক ভূমির ৬৩৩৬০ একক দূরত্বের প্রতিভূ। এরূপ প্রতিভূ অনুপাতে মাইল, গজ, ফুট, ইঞ্চি, কিলোমিটার, মিটার বা সেন্টিমিটার প্রভৃতি কিছুই লিখতে হয় না। লব অংশের একক হর অংশের সমজাতীয় রাশির প্রতিভূ হওয়ায় লবটি ১ ইঞ্চি হলে, হর রাশিটি ৬৩৩৬০ ইঞ্চি, লবটি ১ সেন্টিমিটার হলে হর রাশিটি ৬৩৩৬০ সেন্টিমিটার হবে। যে মানচিত্রে 'বর্ণনা' ও 'রেখাচিত্র' পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে সে মানচিত্র কেবল সেই জাতীয় দৈর্ঘ্য নির্ণয় প্রণালি প্রচলিত এমন দেশে ব্যবহৃত হতে পারে, অন্য দেশে নয়। কিন্তু যে মানচিত্রে প্রতিভূ অনুপাত (R.F: representative fraction) ব্যবহৃত হয় তা যেকোনো দেশে ব্যবহৃত হতে পারে। সুতরাং, অধিকাংশ মানচিত্রে প্রতিভূ অনুপাত ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় উক্ত প্রতিভূ অনুপাতের সাথে এর রৈখিক চিত্র সন্নিবেশিত থাকে।
বিভিন্ন প্রকার স্কেলের উদাহরণ: মধুপুর গ্রামের পূর্ব-পশ্চিমে দূরত্ব ০.৯ কিলোমিটার যা মানচিত্রে ৩০ সে. মি. দ্বারা দেখানো হয়েছে, মানচিত্রটির প্রতিভূ অনুপাত এবং রৈখিক চিত্রে একটি সরল মাপনী দ্বারা ফুট দেখাও।
উত্তর: মানচিত্রে ৩০ সে. মি.= ভূমিতে ০.৯ কি. মি. [বর্ণনামূলক স্কেল]
মানচিত্রে ১ সে. মি. = ভূমিতে কি. মি
কি. মি.
= ৩০০০ সে. মি.
প্র. অ. = ১:৩০০০ [প্রতিভূ অনুপাত]
মানচিত্রে ১ ইঞ্চি = ভূমিতে ৩০০০ ইঞ্চি
মানচিত্রে ৬ ইঞ্চি = ভূমিতে ফুট
= ১৫০০ ফুট

স্কেলের ব্যবহার (Use of scale)
i. মানচিত্র অঙ্কনে স্কেল দরকার।
ii. মানচিত্রকে ছোট বা বড় করতে স্কেল প্রয়োজন।
iii. মানচিত্রের দু'টি স্থানের মধ্যকার প্রকৃত দূরত্ব নির্ণয়ে স্কেল প্রয়োজন।
iv. মানচিত্র থেকে কোনো স্থানের ক্ষেত্রফল বা আয়তন বের করার জন্য স্কেল প্রয়োজন।
V. কোনো এলাকায় বা অঞ্চলে জরিপকার্য করার জন্য স্কেল দরকার।
vi. মানচিত্রে প্রদর্শিত রেলপথ, নৌপথ ও কাঁচা-পাকা রাস্তার দৈর্ঘ্য নির্ণয়ের জন্য স্কেল দরকার।
vii. কোনো বৃহৎ এলাকার মানচিত্র স্বল্প পরিসর কাগজে অঙ্কনের জন্য স্কেল প্রয়োজন।
viii. মানচিত্র পঠন-পাঠনে স্কেল প্রয়োজন।
ix. স্কেলে প্র. অ. দেওয়া থাকলে মানচিত্র যেকোনো দেশে পাঠ উপযোগী হয়।
Χ. মানচিত্র থেকে ভূমির কোনো কিছুর অবস্থান নির্ণয়ে স্কেলের ব্যবহার করতে হয়।
ব্যবহারিক মানচিত্র ও স্কেল-কে. আশরাফুল আলম ও মো. শরিফুল ইসলাম স্যার এর লেখা বই
Read more