(Desert Biome)
মরুভূমি হলো এমন ভৌগোলিক অঞ্চল যেখানে বাৎসরিক বৃষ্টিপাত ৫০ সে. মি. এর কম এবং বাষ্পায়ন বৃষ্টিপাতের চেয়ে বেশি। সবচেয়ে বড় মরুভূমি সাহারা যা আফ্রিকায় অবস্থিত। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়াও বৃহৎ বালুকাময় মরুভূমি। চীন-রাশিয়া-মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমি, সৌদি আরবের রাব-আল-খালি মরুভূমি, আফ্রিকার কালাহারি, ভারতের থর, চিলির আতাকামা, যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অন্যান্য প্রসিদ্ধ মরুভূমি। মরুভূমিগুলোকে চার প্রকারে ভাগ করা যায়। যেমন- (i) উষ্ণ ও শুষ্ক (ii) অনুর্বর (iii) উপকূলীয় এবং (iv) ঠান্ডা। তবে এখানে উষ্ণ মরুভূমিই আলোচ্য।
পরিবেশ: এটা অতি উত্তপ্ত অঞ্চল যেখানে স্থায়ী বা সাময়িক প্রবাহিত কোনো জলাশয় নেই। বাৎসরিক বৃষ্টিপাত ২৫ সে.মি. এর কম। দিন ও রাতের তাপমাত্রা ৩০° সে. পর্যন্ত পার্থক্য হতে পারে। কারণ এখানে বাতাসে জলীয়বাষ্প নেই। মাটিতে জৈব পুষ্টি খুব কম বা অনুপস্থিত। উপরন্তু মাটিতে কোথাও প্রচুর পুষ্টি থাকলেও সর্বত্রই পানির খুব অভাব।

উদ্ভিদ: মরুভূমিতে বর্ষজীবী ও বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ জন্মে। বর্ষজীবী উদ্ভিদের জীবনকাল খুব সীমিত আর বহু বর্ষজীবী উদ্ভিদগুলোর পানির অপচয় রোধে ব্যবস্থা আছে। এদের বৃদ্ধিও খুব কম। এসব এলাকার প্রধান উদ্ভিদ হলো ক্যাকটাস, কিছু ইউফররিয়া, কিছু কম্পোজিট ও লিগুম, বাবলা ও খেজুর জাতীয় গাছ।
প্রাণী: মরুভূমিতে প্রাণীর সংখ্যা কম হলেও বিচিত্র ধরনের যেমন- স্তন্যপায়ীদের মধ্যে উট, দুম্বা, জ্যাক, র্যাবিট, ক্যাঙ্গারু, ইঁদুর, খেকশিয়াল প্রধান; সরীসৃপ মরুভূমিতে সমৃদ্ধ যেমন- হর্ন লিজার্ড, গিলা মনস্টার, কোরাল সাপ ইত্যাদি; পাখিদের মধ্যে টাকি, শকুন, দাড়কাক, মধু পাখি উল্লেখযোগ্য। মরুভূমির প্রাণীরা রাত্রিতে বেশি চলাচল করে।
সাভানা বায়োম (Savanna biome)
ক্রান্তীয় তৃণভূমির নাম সাভানা। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ক্রান্তীয় তৃণভূমি বিভিন্ন নামে পরিচিত। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতে সাভানা রয়েছে। মধ্য আফ্রিকায় সবচেয়ে বড় সাভানা রয়েছে (৫ মিলিয়ন বর্গ মাইল)।
পরিবেশ: সাভানায় শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকাল দেখা যায়। এখানে কম বৃষ্টিযুক্ত দীর্ঘ গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। বছরে ৫০-১২৭সে.মি. বৃষ্টিপাত হয় এবং জলবায়ু উষ্ণ। বছরে প্রায় ৬-৮ মাস ধরে বৃষ্টিপাত চলে। মাটিতে পাতলা হিউমাস থাকে। মৃত্তিকা ব্যাপক ছিদ্রযুক্ত তাই বৃষ্টির পানি সহজেই নিচে চলে যায়।
উদ্ভিদ: সাভানা এক প্রকার তৃণভূমি হলেও এর মাঝে মাঝে বৃক্ষ বা ঝোপ জাতীয় গাছ থাকে। এইসব অঞ্চলে ঘাসের সাথে বাবলা, ইউফরবিয়া এবং কিছু তাল জাতীয় উদ্ভিদ দেখা যায়। মৌসুমি বজ্রপাত থেকে সৃষ্ট আগুন (দাবানল) এ অঞ্চলে উদ্ভিদের প্রজাতি বৈচিত্র্য নিয়ন্ত্রণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাণী: নানা প্রকার এন্টিলোপ, জেব্রা, জিরাফ, ক্যাঙ্গারু, মহিষ, সিংহ, চিতাবাঘ, হায়েনা, হাতি প্রধান। এছাড়াও ছোট প্রাণীর মধ্যে সাপ, ইঁদুর, কাঠবিড়াল, উই, গুবরে পোকা প্রধান।
জীবমণ্ডল - তাপস কুমার মজুমদার স্যার এর লেখা বই
Read more