Map Projection
ভূগোলকে অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখা দ্বারা সৃষ্ট জালের ন্যায় বিন্যস্ত ছকগুলোকে গ্রিড বা Graticule বলে। কোনো সমতল তলের উপর সৃষ্ট এই গ্রিডগুলোকেই মূলত মানচিত্র অভিক্ষেপ বলে। স্পর্শক তলের অবস্থান, দৃষ্টিবিন্দু বা আলোকের অবস্থান, জ্যামিতিক আকৃতি প্রভৃতি বিবেচনা করে অভিক্ষেপের শ্রেণিবিভাগ করা যায়। সমতলের উপর বস্তুর অবস্থানের ভিত্তিতে অভিক্ষেপগুলোকে বেলন, শাঙ্কব ও শীর্ষদেশীয় ভাগে ভাগ করা হয়। পৃথিবীর এক একটি অঞ্চলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অভিক্ষেপ ব্যবহৃত হয় যেন নির্দিষ্ট ভৌগোলিক উপাত্তের সমাবেশ ঘটানো যায়। ভৌগোলিক তথ্য উপস্থাপন, ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ ও মানচিত্রে তা প্রদর্শনের আধুনিক পদ্ধতি হলো জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম বা GIS। ভূগোলে GIS এর প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জনাব সোহেল একজন সমাজসেবক। তিনি তার গ্রামের উন্নয়নের জন্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র প্রভৃতি স্থাপন করার স্বপ্ন দেখেন। তিনি তার গ্রামটিকে একটি আদর্শ গ্রাম তৈরির প্রতিজ্ঞা করেন। শুধু তাই নয়, উক্ত কর্মকাণ্ডগুলো পরিকল্পিতভাবে সমাধানের জন্য তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও চিন্তা করেন।
(Concept of Map Projection)
পৃথিবীর উপরিভাগ সর্বত্র সমতল নয়। কোথাও উচু, কোথাও নিচু, এরূপ অসমতল উপরিভাগ কেবল বক্রতল বিশিষ্ট ভূগোলকের উপরই উপস্থাপিত করা যায়। পৃথিবী গোলাকার বিধায় সমতল কাগজে পৃথিবীর আংশিক বা সম্পূর্ণ মানচিত্র অঙ্কন খুবই কঠিন। তাই পৃথিবীর বা তার অংশবিশেষের মানচিত্র সঠিকভাবে অঙ্কন করার জন্য অভিক্ষেপের প্রয়োজন হয়। অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা ছাড়া পৃথিবীর কোনো অংশের মানচিত্রই সঠিকভাবে অঙ্কন সম্ভব নয়। এ রেখাগুলো সমতল কাগজের উপর সঠিকভাবে অঙ্কন করতে পারলেই পৃথিবীর যেকোনো অংশের মানচিত্র অঙ্কন করা যায়। তাই কোনো সমতল কাগজের ওপর সমগ্র পৃথিবী বা এর কোনো অংশের মানচিত্র অঙ্কন করার জন্য নির্দিষ্ট স্কেলে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো জালের ন্যায় ছকে প্রকাশ করা হয়। এই ছককেই অভিক্ষেপ বলে। অর্থাৎ সমতল ক্ষেত্রের উপর পৃথিবী বা তার অংশবিশেষের মানচিত্র অংকনের জন্য নির্দিষ্ট স্কেল ও পদ্ধতিতে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা দ্বারা সৃষ্ট জালের ন্যায় বিন্যস্ত ছককে অভিক্ষেপ বলা হয়।
ভূগোলক (Globe) হচ্ছে পৃথিবীর অবিকল আকৃতি বুঝানোর উপযুক্ত ক্ষুদ্রাকৃতি গোলক। একে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা দ্বারা কতিপয় ভাগে বিভক্ত করা হয়। অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা দ্বারা সৃষ্ট জালের ন্যায় বিন্যস্ত এরূপ ছককে এক কথায় গ্রাটিকুল বা গ্রিড বলে। সুতরাং মানচিত্র অভিক্ষেপ বলতে কোনো সমতলের উপর সৃষ্ট গ্রাটিকুলকেই বুঝায়। অভিক্ষেপের প্রধান বৈশিষ্ট্য তিনটি
ক. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে অভিক্ষেপ অঙ্কন করা হয়;
খ. পৃথিবীর আয়তন আনুপাতিক হারে হ্রাস করে অর্থাৎ নির্দিষ্ট স্কেলে অভিক্ষেপ অঙ্কন করা হয়;
গ. সমতলের উপর অভিক্ষেপ অঙ্কন করা হয়।
অভিক্ষেপের ব্যবহার: সমগ্র পৃথিবী বা এর কোনো অংশের মানচিত্র আপেক্ষিক সঠিকতার সাথে অঙ্কন করার জন্য মানচিত্র অভিক্ষেপ ব্যবহৃত হয়। একটি মাত্র অভিক্ষেপে সমগ্র পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করলে স্থানভেদে বিভিন্ন দেশের আকৃতির বিকৃতি হয়। এ ত্রুটি মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন সময় উদ্দেশ্যভিত্তিক মানচিত্র অভিক্ষেপ আবিষ্কৃত হয়েছে।
মানচিত্র অভিক্ষেপের শ্রেণিবিন্যাস (Classification of Map projections): যে যে কাজের জন্য মানচিত্র প্রয়োজন
তার উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে যথোপযুক্তরূপে সজ্জিত করা হয়। ফলে বিভিন্ন প্রকার অভিক্ষেপ প্রচলিত। গঠনগত পদ্ধতি, ভাঁজ খুলে প্রকাশমান উপরিতল, অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য, স্পর্শক তলের অবস্থান, দৃষ্টিবিন্দু বা আলোকের অবস্থান, জ্যামিতিক আকৃতি প্রভৃতি বিবেচনা করে অভিক্ষেপগুলোর শ্রেণিবিভাগ করা হয়। কাঁচ, প্লাস্টিক, বা অনুরূপ অপর কোনো স্বচ্ছ পদার্থ দ্বারা সৃষ্ট ভূগোলকের মধ্যে আলো জ্বালিয়ে ভূগোলককে একখণ্ড কাগজ দ্বারা ঢেকে দেয়া হলে অবশ্যই কাগজের উপর কৃত্রিম অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ছায়া পতিত হবে আর এ ছায়া রেখাগুলোই হবে ভূগোলকের অভিক্ষেপ। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কাগজটি ভূগোলকের উপর সম্পূর্ণরূপে ভাঁজ ব্যতীত স্থাপন করা সম্ভব নয়। কাগজটিতে বিভিন্ন অবস্থানে অক্ষরেখা স্থাপন করতে হয়। এ কারণে বিভিন্ন অবস্থানে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলোর ছায়া বিভিন্ন ধরনের হয়। ভূগোলকের উপর কাগজকে তিনভাবে স্থাপন করা যায়। এ বিবেচনায় অভিক্ষেপ তিন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন-
ক. বেলন অভিক্ষেপ (Cylindrical projection) বেলনাকার তলের উপর
খ. শাঙ্কব অভিক্ষেপ (Conical projection) মোচাকৃতি তলের উপর
গ. শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ (Zenithal projection) সমতল উপরিভাগের উপর।
উপরোক্ত তিন প্রকার অভিক্ষেপ ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার ব্যবহারসিদ্ধ অভিক্ষেপের প্রচলন আছে। (রউফ ও মাহমুদ, ২০১০)
মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Introduction to Cylindrical Projection)
একটি নল বা বেলনের মধ্যে ভূগোলক স্থাপন করে তার ছায়া বেলনের উপর প্রতিফলিত করে বেলন অভিক্ষেপ আঁকা হয়।
বেলন অভিক্ষেপগুলো মূলত দুই ধরনের। যথা-
১. প্রকৃত বেলন অভিক্ষেপ;
২. সরল বেলন অভিক্ষেপ;
এছাড়া বিশেষ আরও দুটি বেলন অভিক্ষেপ হলো- সম আয়তনিক বেলন অভিক্ষেপ; এবং মার্কেটরস অভিক্ষেপ।
১. প্রকৃত বেলন অভিক্ষেপ (True cylindrical projection): এটা চিত্রানুপাত বেলন অভিক্ষেপ। বেলন স্বচ্ছ গোলকের চর্তুদিকে নিরক্ষরেখা স্পর্শ করে। এরূপ ক্ষেত্রে আলোক প্রতিফলনের মাধ্যমে অভিক্ষেপটি পাওয়া যায়।
গুণাবলি (Properties):
i. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো সরল রেখা দ্বারা প্রকাশ করা হয়;
ii. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো পরস্পর সমকোণে ছেদ করে;
iii. সকল অক্ষাংশেই দ্রাঘিমারেখাগুলো সমদূরবর্তী;
iv. অক্ষরেখাগুলো প্রত্যেকটি নিরক্ষরেখার সমান এবং সমদূরবর্তী নয়; এবং
v. পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ উভয় দিকের দূরত্বগুলো ক্রমান্বয়ে বেড়ে গিয়ে, আয়তন অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় এবং আকৃতি বিকৃত হয়।

ব্যবহার (Use): অভিক্ষেপটি আকার ও আয়তন উভয় দিক দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ এবং নিরক্ষরেখা হতে দূরবর্তী স্থানে ত্রুটিগুলো ক্রমশ বৃদ্ধি পায় বলে প্রায় অব্যবহৃত। কেবল নিরক্ষরেখার উপরিভাগে উভয়দিকে স্বল্প পরিসর স্থানের আয়তন প্রকাশে এবং নিরক্ষরেখার সন্নিকটস্থ স্থানের (কঙ্গো) মানচিত্র অঙ্কনে ব্যবহৃত হয়।
২. সরল বেলন অভিক্ষেপ (Simple Cylindrical projections): সরল বেলন অভিক্ষেপে সর্বক্ষেত্রে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ব্যবধান সমান অর্থাৎ; ছকটি কতিপয় বর্গক্ষেত্রের সমষ্টি। অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখাগুলো পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করে।
গুণাবলি (Properties):
i. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো সরলরেখায় অংকিত;
ii. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলোর ব্যবধান সমান;
iii. দ্রাঘিমারেখাগুলো অক্ষরেখাগুলোকে সমকোণে ছেদ করে থাকে;
iv. নিরক্ষরেখার উপরিভাগে স্কেল নির্ভুল;
V. দ্রাঘিমারেখার উপরিভাগের স্কেল নির্ভুল;
vi. নিরক্ষরেখা থেকে দূরবর্তী স্থানে অক্ষরেখার স্কেল বর্ধিত হওয়ায় উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলোর আকৃতি বিকৃত হয়ে যায়; এবং
vii. অভিক্ষেপটি সম আয়তনিক (equal area) নয়।

ব্যবহার (Use): এটা কেবল নিরক্ষরেখার সন্নিকটস্থ স্বল্প পরিসর স্থানের মানচিত্র নির্ভুলরূপে প্রকাশ করে বলে ব্যবহার কম। বেলনটিকে আড়াআড়িভাবে স্থাপন করলে নিরক্ষরেখাকে স্পর্শ না করে যদি এই অভিক্ষেপটি মধ্য দ্রাঘিমাকে স্পর্শ করে তখন অঙ্কিত অভিক্ষেপটি কার্য উপযোগী হয়, যা Cassini's অভিক্ষেপ নামে পরিচিত। এটা ১' = ১ মাইল বিশিষ্ট স্কেলে ইংল্যান্ড এবং ৬" = ১ মাইল বিশিষ্ট স্কেলে বৃটিশ দ্বীপপুঞ্জের মানচিত্র অঙ্কন করার জন্য ব্যবহৃত হয় (রউফ ও মাহমুদ, ২০১০)। বেলন অভিক্ষেপ বণ্টন মানচিত্র (distribution map) অংকনে ব্যবহৃত হয়। যেমন-জনসংখ্যার বণ্টন মানচিত্র।
মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Cylindrical Equal Area Projection)
সম আয়তনিক বেলন অভিক্ষেপেও অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করে তবে এখানে পরিবেষ্টিত বেলনটিতে উপনীত হবার জন্য অক্ষরেখার তলগুলোকে আনুভূমিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়।
গুণাবলি (properties):
i. এটি একটি সম আয়তনিক অভিক্ষেপ;
ii. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো সরল এবং পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করে;
iii. নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে ও দক্ষিণে অক্ষরেখাগুলোর ব্যবধান ক্রমশ; অধিক থেকে অধিকতর হ্রাস পেয়েছে; এবং
iv. নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে ও দক্ষিণে উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলোর আকৃতি ক্রমশ বিকৃত হবে।
ব্যবহার (Use): সম-আয়তনিক অভিক্ষেপ হওয়ায় এ অভিক্ষেপে পৃথিবীর মানচিত্রে কখনো কখনো বিভিন্ন দ্রব্যের বণ্টন দেখানো হয়। তবে উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলোর (কানাডা, রাশিয়া) আকৃতি বিকৃত হওয়ায় সেই সব স্থানের দ্রব্যাদির বণ্টন সন্তোষজনক হয় না। নিম্ন অক্ষাংশের অর্থাৎ ৪৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী স্থানের (চীন, ব্রাজিল) বণ্টন দেখানোর জন্য এই অভিক্ষেপ অধিক ব্যবহৃত হয়। যেমন- এতে ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফসল চালের (Rice) বণ্টন নির্ভুলরূপে দেখানো যায়।
মার্কেটরস অভিক্ষেপ (Mercator's Projection): ডেনমার্কের অধিবাসী Gerhard Kramer Flemish (জন্ম
১৫১২ খ্রিষ্টাব্দে, পদবী মার্কেটর) সর্ব প্রথম ১৫৬৯ খ্রীষ্টাব্দে এই অভিক্ষেপের পরিকল্পনা করেন। মার্কেটর দ্বারা উপস্থাপিত অভিক্ষেপটি সংশোধন করে ৩০ বৎসর পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের Edward Wright নামক জনৈক বৃটিশ মানচিত্রাঙ্কনবিদ্যা বিশারদ (cartographer) প্রচলিত অভিক্ষেপ প্রণয়ন করেন। তখন থেকে এই অভিক্ষেপটি গ্রেট বৃটেনের সব ধরনের ভূচিত্রাবলিতে ব্যবহারের জন্য জনপ্রিয়তা লাভ করে। নির্ভুল দিক বুঝতে পারা যায় বলে এই অভিক্ষেপটি জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যধিক ব্যবহৃত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে গ্রেট বৃটেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নৌ-শক্তি থাকায় ইংরেজরা এই অভিক্ষেপ গ্রহণ করে। এই অভিক্ষেপে নিরক্ষরেখা থেকে দূরবর্তী উচ্চ ও মধ্য অক্ষাংশের দেশগুলোর আকৃতি অতিশয় বৃদ্ধি পায় বলে তদানীন্তন মধ্য অক্ষাংশের বৃটিশ সাম্রাজ্যের দেশগুলো চিত্তাকর্ষক দেখাত l
গুণাবলি (Properties):
i. অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখাগুলো সরলরেখা হিসাবে অঙ্কিত;
ii. অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখা পরস্পর সমকোণে ছেদ করবে;
iii. দ্রাঘিমারেখাগুলোর ব্যবধান সমান;
iv. নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে ও দক্ষিণে ক্রমশ অক্ষরেখাগুলোর মধ্যবর্তী ব্যবধান বৃদ্ধি পেয়েছে; অর্থাৎ বিন্যাস সমভাবে হয়নি;
v. স্বল্প পরিসর স্থানে আকৃতি নির্ভুল থাকলেও অক্ষরেখাগুলোর বিস্তৃতি বৃদ্ধি পেলে আকৃতি বিকৃত হয়;
vi. শুধু নিরক্ষরেখার পার্শ্ববর্তী স্থানের দূরত্ব নির্ভুলভাবে দেখানো যায়;
vii. মধ্য অক্ষাংশের দেশের আয়তন অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়; এবং
viii. সর্বত্রই বিয়ারিং নির্ভুল।
ব্যবহার (Use): সমুদ্রপথ নির্দেশ করার জন্যই এই অভিক্ষেপ অধিক ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, এর ব্যবহার নৌ চালনা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ।
মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Concial Projections)
ভূগোলকের উপর মোচাকৃতির (cone shaped) কাগজ বা এ জাতীয় কোনো বস্তু বসিয়ে গোলকের কেন্দ্র থেকে আলোক বিচ্ছুরণ করলে গোলকপৃষ্ঠের অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখাগুলো দেখা যায়। এ অবস্থায় চিত্র অংকন করলে মোচাকৃতি বা শাঙ্কব অভিক্ষেপ পাওয়া যায়।
অঙ্কন পদ্ধতির পার্থক্য অনুসারে শাঙ্কব অভিক্ষেপগুলোকে নিম্নলিখিত ৬ ভাগে ভাগ করা হয়।
১. সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ (এক পরিমিত অক্ষরেখা)
২. সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ (দুই পরিমিত অক্ষরেখা)
৩. ছেদক শাঙ্কব অভিক্ষেপ
৪. বোনের শাঙ্কব অভিক্ষেপ
৫. বহু শাঙ্কব অভিক্ষেপ ও
৬. আন্তর্জাতিক অভিক্ষেপ।
১. সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ (এক পরিমিত অক্ষরেখা) (Simple Conical Projection with one standard parallel): কেবল একটি পরিমিত (Standard) অক্ষরেখার সাহায্যে এই অভিক্ষেপটি অঙ্কন করা হয় বলে একে সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ বলা হয়।
গুণাবলি (Properties):
i. অক্ষরেখাগুলো সমকেন্দ্রীয় বৃত্তচাপ;
ii. দ্রাঘিমারেখাগুলো সরলরেখা;
iii. কেবল পরিমিত (Standard) অক্ষরেখায় দূরত্বের স্কেল নির্ভুল;
iv. পরিমিত অক্ষরেখার উভয় পার্শ্বে স্বল্প পরিসর স্থানের আকৃতি সঠিক। কিন্তু পরিমিত অক্ষরেখা থেকে দূরবর্তী স্থানের পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃতির বিকৃতি (distortion) লক্ষণীয়। এর ফলে স্থানটির আয়তন সঠিক হয় না।
ব্যবহার (Use): পরিমিত অক্ষরেখার উভয় পার্শ্বে স্বল্প পরিসর স্থানের আয়তন নির্ভুল বলে এই অভিক্ষেপ পূর্ব-পশ্চিমে অধিক এবং উত্তর-দক্ষিণে স্বল্প বিস্তৃত দেশগুলোর (চীন) মানচিত্র অঙ্কনে ব্যবহৃত হয়। পরিমিত অক্ষরেখা হতে দূরবর্তী স্থানের আকৃতি বিকৃত হয় বলে উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলো অঙ্কন করার জন্য এই অভিক্ষেপ উপযোগী নয়।
২. সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ (দুই পরিমিত অক্ষরেখা) (Simple Conical Projection with two standard parallels): এক্ষেত্রে দুটি পরিমিত (Standard) অক্ষরেখার সাহায্যে অভিক্ষেপ আঁকা হয়।

গুণাবলি (Properties):
i. অক্ষরেখাগুলো সমকেন্দ্রিক বৃত্তচাপ;
ii. কেবল পরিমিত অক্ষরেখাদ্বয়ে স্কেল সঠিক থাকে;
iii. পরিমিত অক্ষরেখাদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে প্রকৃত দূরত্ব অপেক্ষা কম এবং বহির্ভাগে অধিক দূরত্ব বিদ্যমান;
iv. দ্রাঘিমাগুলো সরলরেখা হিসেবে অঙ্কিত এবং এরা একত্রে কেন্দ্র বিন্দু থেকে বিচ্ছুরিত;
v. মূল দ্রাঘিমায় দূরত্বের স্কেল নির্ভুলরূপে দেখানো হয় এবং সকল দ্রাঘিমাই মধ্য দ্রাঘিমার অনুরূপ হওয়ায় এদের দূরত্বের স্কেলও সঠিক;
vi. এই অভিক্ষেপ সম আয়তনিক (equal area) নয়।
ব্যবহার (Use): পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত মধ্য অক্ষাংশের দেশগুলোর মানচিত্র অঙ্কন করার জন্য এই অভিক্ষেপ উপযুক্ত। কানাডা, রাশিয়া প্রভৃতি বৃহৎ দেশগুলো এই অভিক্ষেপে সুন্দররূপে অঙ্কন করা যায়। অনেক সময় ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার ন্যায় মহাদেশ অঙ্কন করার জন্য এই অভিক্ষেপ ব্যবহৃত হয়।
৩. ছেদক শাঙ্কব অভিক্ষেপ (Secant Conical Projection): বৃত্তের ছেদক একটি সরলরেখা। এটা বৃত্তের পরিধিকে দুইটি বিন্দুতে ছেদ করে। এ বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে এ ধরনের অভিক্ষেপ অঙ্কন করা হয়। প্রকৃত ছেদক শাঙ্কব অভিক্ষেপের জন্য দুটি পরিমিত অক্ষরেখার মধ্যবর্তী দূরত্ব হবে এদের মধ্যবর্তী ছেদক দূরত্বের সমান।
ব্যবহার: পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের জরিপ বিভাগ ১" = ৩২', ৫০', ৬৪', ১২৫' প্রভৃতি ক্ষুদ্র স্কেলবিশিষ্ট মানচিত্র অঙ্কনের জন্য ছেদক শাঙ্কব অভিক্ষেপ ব্যবহার করে (রউফ ও মাহমুদ, ২০১০)।
৪. বোনের শাঙ্কব অভিক্ষেপ (Bonne's Projection): Rigobert Bonne নামক জনৈক ফরাসি মানচিত্র অঙ্কন বিশারদ (cartographer) এই অভিক্ষেপের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন যা এক পরিমিত অক্ষরেখা বিশিষ্ট - শাঙ্কব অভিক্ষেপের সংশোধিত রূপ। এক্ষেত্রে যে দেশের মানচিত্র অঙ্কন করতে হবে তার মধ্যরেখাকে নির্দিষ্ট পরিমিত অক্ষরেখা হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

গুণাবলি (Properties):
i. অক্ষরেখাগুলো সাবলীল এককেন্দ্রিক বৃত্তচাপ;
ii. দ্রাঘিমারেখাগুলো সাবলীল বৃত্তচাপ;
iii. সব অক্ষরেখায় স্কেল নির্ভুল;
iv. মূল মধ্য দ্রাঘিমার স্কেল নির্ভুল; সব দ্রাঘিমায়ও স্কেল নির্ভুল
v. এ অভিক্ষেপে কোনো দেশের আয়তন নির্ভুলরূপে পাওয়া গেলেও দ্রাঘিমার বক্রতার ফলে এর আকৃতি (shape) বিকৃত হয়।
ব্যবহার (Use): আয়তন নির্ভুলরূপে দেখানো সম্ভব বলে রাশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার ন্যায় বৃহৎ দেশ বা মহাদেশের মানচিত্র অঙ্কন করার জন্য এ অভিক্ষেপ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এ অভিক্ষেপে এশিয়া মহাদেশকে ভালোভাবে দেখানো যায় না (রউফ ও মাহমুদ, ২০১০)।
৫. বহু শাঙ্কব অভিক্ষেপ (Polyconic Projection): Prof. Ferdinand Hassler মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলভাগ অঙ্কন করার জন্য সর্বপ্রথম এ অভিক্ষেপ ব্যবহার করেন। এ অভিক্ষেপটি অঙ্কন করার জন্য কল্পনা করা হয় যে, কতিপয় শাঙ্কু (cone) একটি গোলকের উপর স্থাপন করা হয়েছে। শঙ্কুগুলোর প্রত্যেকটি গোলকের কোনো না কোনো অক্ষরেখায় স্পর্শক (Tangent) সৃষ্টি করে। সুতরাং এ অক্ষরেখাগুলোর প্রত্যেকটি পরিমিত (standard) অক্ষরেখা, যাদের নিজস্ব কেন্দ্র ও ব্যাসার্ধ বর্তমান।
গুণাবলি (Properties):
i. অক্ষরেখাগুলো বৃত্তের ব্যাস হলেও সমকেন্দ্রিক নয়;
ii. দ্রাঘিমাগুলো সাবলীল বক্ররেখা;
iii. প্রত্যেকটি অক্ষই পরিমিত অক্ষরেখা;
iv. কেবল মধ্যদ্রাঘিমায় উত্তর-দক্ষিণে দূরত্ব নির্ভুলরূপে দেখানো যায়;
V. এটি সম আয়তনিক (caual area) নয়;
ব্যবহার (Use): মধ্য দ্রাঘিমা থেকে ক্রমে স্কেলের ত্রুটি বৃদ্ধি পায় বলে এ অভিক্ষেপটি বৃহৎ আকৃতির দেশ অঙ্কন করার জন্য উপযুক্ত নয়। এ অভিক্ষেপে মধ্য অক্ষাংশের নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলীয় স্থানগুলোকে নগুলোকে (আমেরিকা) সন্তোষজনক ভাবে দেখানো যায়।
৬. আন্তর্জাতিক অভিক্ষেপ (International Projection): সম্পন্ন এই অভিক্ষেপ বহু শাঙ্কব (polyconic) অভিক্ষেপের সামান্য পরিবর্তিত রূপ হিসেবে অঙ্কন করা হয়েছে। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক মানচিত্র কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৃথিবীর স্থানীয় বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের জন্য এই অভিক্ষেপ উপস্থাপিত হয়। ১: ১,০০০,০০০ স্কেলে অঙ্কন করা হয় বলে একে মিলিয়নে একটি (One in a million) মানচিত্র নামে অভিহিত করা হয়।
গুণাবলি (Properties)
i. বিশ্বব্যাপী সকল স্থানের সাধারণ তালিকা তৈরি করে এ অভিক্ষেপ অঙ্কন করা হয়;
ii. দ্রাঘিমাগুলো সরলরেখারূপে অঙ্কন করায় পার্শ্ববর্তী মানচিত্রগুলো (পাশাপাশি অবস্থিত এলাকার মানচিত্র) সঠিক ভাবে যোগ করা সহজসাধ্য।
মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Zenithal Projections)
শঙ্কু (cone) বা বেলনের (cylinder) পরিবর্তে যখন সমতল ক্ষেত্রের (Plain surface) কোনো বিন্দুতে গোলক (sphere) স্পর্শ করে এবং ঐ তলের উপর জালের ন্যায় অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখাগুলোর ছায়াপাত (shade) করার মাধ্যমে অভিক্ষেপের ছক অঙ্কন করা হয় তখন তাকে শীর্ষদেশীয় (zenithal) অভিক্ষেপ বলা হয় (রউফ ও মাহমুদ, ২০১০)। এ ধরনের অভিক্ষেপের মধ্যে সাধারণভাবে প্রচলিত হলো মেরুদেশীয় সমদূরবর্তী শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ (zenithal equidistant projection)।
মেরুদেশীয় সমদূরবর্তী শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ
মেরুস্থানীয় শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ ছকটির কেন্দ্রস্থলে মেরু বিন্দু (pole) অবস্থিত। সমব্যবধানে অক্ষরেখাগুলো (latitude of parallels) বিন্যস্ত থাকে। বলে এটি সমদূরবর্তী শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ নামে পরিচিত।
বৈশিষ্ট্য (Characteristics):

i. মেরুবিন্দু অভিক্ষেপের কেন্দ্র।
ii. অক্ষরেখাগুলো সমকেন্দ্রিক বৃত্ত এবং পরস্পর * সমান দূরত্বে অবস্থিত।
iii. দ্রাঘিমারেখাগুলো সরলরেখা হিসেবে অঙ্কিত।
iv. দ্রাঘিমা বরাবর স্কেল ঠিক থাকে কিন্তু অক্ষরেখা বরাবর তা ঠিক থাকে না।
v. অক্ষরেখাগুলোর স্কেলের ত্রুটি অভিক্ষেপের কেন্দ্রের দিকে কম এবং পরিধির দিকে ক্রমশ বেশি।
vi. দ্রাঘিমারেখা বরাবর স্কেল নির্ভুল থাকায় কেন্দ্র থেকে অন্যান্য দিকে দূরত্ব ও দিক নির্ভুল হয়।
ব্যবহার (Use): মেরু অঞ্চলের (polar region) দিকে অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখার স্কেল প্রায় ঠিক থাকায় এ অভিক্ষেপ দ্বারা কেবল মেরুর সন্নিকটের স্বল্প পরিসর স্থানের (গ্রিনল্যান্ড) মানচিত্র নির্ভুলভাবে দেখানো যায়। এ অভিক্ষেপের প্রান্তভাগ (margin) অধিক প্রসারিত হওয়ায় সেখানে মানচিত্রের আকার ও আয়তন ঠিক থাকে না। সুতরাং, এর দ্বারা নিরক্ষীয় অঞ্চলের মানচিত্র অঙ্কন করা যায় না। সাধারণত থেকে অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলের (আর্কটিক) মানচিত্র অঙ্কনের জন্য এ ধরনের অভিক্ষেপ ব্যবহৃত হয়।
আলোক এবং সমতলক্ষেত্র উভয়েরই অবস্থান বিবেচনা করে শীর্ষদেশীয় চিত্রানুপাত অভিক্ষেপগুলোকে নিম্নলিখিতরূপে ভাগ করা হয়:
১. নোমানিক বা কেন্দ্রীয় (Gnomonic): আলোকরশ্মি ভূগোলকের কেন্দ্রে অবস্থান করে;
২. স্টেরিওগ্রাফিক (Stereographic): আলোক রশ্মি ভূগোলকের উপর যেকোনো বিন্দুতে, বিশেষত সমতলভাবে স্থাপিত কাগজটির ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থান করে;
৩. অর্থোগ্রাফিক (Orthographic): আলোকরশ্মি যখন মহাশূন্য (Infinity) থেকে আসে, যার রশ্মিগুলো পরস্পরের সমান্তরালে অবস্থান করে।
মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Practical: Drawing of Simple Cylindrical Projection)
প্রতিভূ অনুপাত ১:২৫০,০০০,০০০ দিয়ে ব্যবধানে একটি সরল বেলনাকার অভিক্ষেপের অঙ্কন দেখানো হলো-
মানচিত্রে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ, r =পৃথিবীর প্রকৃত ব্যাসার্ধ –/প্র. অ. এর হর রাশি
[ পৃথিবীর প্রকৃত গড় ব্যাসার্ধ ২৫০,০০০,০০০"]
নিরক্ষরেখার দৈর্ঘ্য =
ব্যবধানে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলোর মধ্যবর্তী ব্যবধান =
ব্যবধানে দ্রাঘিমা আঁকার জন্য নিরক্ষরেখায় ভাগের সংখ্যা =টি
নিরক্ষরেখার উভয় দিকে অক্ষরেখাগুলোর সংখ্যা = = ৬টি

অঙ্কন পদ্ধতি
প্রথমে ৬.২৮" দৈর্ঘ্য নিয়ে নিরক্ষরেখা অঙ্কন করি। ০.২৬” দৈর্ঘ্য নিয়ে রেখাটিকে সমান ২৪টি ভাগে ভাগ করি। এখন এ রেখার উভয় পাশে সমকোণে উপরে-নিচে লম্ব টেনে ০.২৬" মাপ নিয়ে উভয় দিকে ৬ ভাগ করতে হবে, যা অক্ষরেখার অবস্থান নির্দেশ করবে। এরপর নিরক্ষরেখার সমান্তরাল করে উভয় দিকে অক্ষরেখাগুলো অংকন করি। নিরক্ষরেখাকে যে ২৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে সে ভাগবিন্দুগুলো থেকে লম্ব টেনে দ্রাঘিমারেখাগুলো অংকন করি। এর ফলে সমগ্র অভিক্ষেপটি কতগুলো সমান বর্গক্ষেত্রের সমষ্টিতে পরিণত হয়েছে। সবশেষে ওপরে বড় অক্ষরে সুন্দর করে অভিক্ষেপের নাম ও নিচে মাঝামাঝি স্থানে প্র. অ. ১ : ২৫০,০০০,০০০ লিখি।
মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Practical: Drawing of Simple Conical Projection)
প্রতিভূ অনুপাত ১:১৬৫,০০০,০০০ স্কেলে নিচে একটি সরল শাঙ্কব অভিক্ষেপ (এক পরিমিত অক্ষরেখা) অংকন করে দেখানো হলো-
মানচিত্রে পৃথিবীর ব্যবসার্ধ = পৃথিবীর প্রকৃত গড় ব্যাসার্ধ/প্র. অ. এর হর রাশি
[আমরা জানি, পৃথিবীর প্রকৃত গড় ব্যাসার্ধ ২৫০,০০,০০০″]
অঙ্কন পদ্ধতি
প্রথম চিত্র: ১.৫” ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্ত অঙ্কন করে বিষুবরেখা 'কখ' অঙ্কন করা হলো। বৃত্তের কেন্দ্র ক। এবার ∠ঙকখ = ৪৫° পরিমিত অক্ষরেখা ও ঙকখ = ১৫° দ্রাঘিমার ব্যবধান চিহ্নিত করা হলো। এছাড়া গকখ = ৯০° চিহ্নিত হয়েছে। এখন বৃত্তের পরিমিত অক্ষরেখার (কঙ) সাথে সমকোণে একটি ঙঙ' স্পর্শক অঙ্কন করতে হবে। এরপর ব্যবধানে (ঘখ) বৃত্তের কেন্দ্র থেকে একটি বৃত্তচাপ অঙ্কন করতে হবে যা পরিমিত অক্ষরেখাকে ছ বিন্দুতে ছেদ করে। উক্ত ছেদবিন্দু হতে কগ রেখার উপর বিষুবরেখার (কখ এর) সমান্তরাল করে একটি লম্ব 'চছ' অঙ্কন করতে হবে।
দ্বিতীয় চিত্র: একটি উল্লম্ব রেখা অঙ্কন করতে হবে। এটা অভিক্ষেপের মধ্য দ্রাঘিমা (পফ)। উল্লম্ব রেখার শীর্ষবিন্দু কে কেন্দ্র করে ১ম চিত্রের ঙঙ' স্পর্শকের সমান ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্তচাপ অঙ্কন করতে হবে। উক্ত বৃত্তচাপের ওপর 'চছ' এর সমান ব্যবধান নিয়ে মূল দ্রাঘিমার উভয় পাশে বিন্দু চিহ্নিত করতে হবে। ৪৫° পরিমিত অক্ষরেখার বৃত্তচাপের ওপর চিহ্নিত বিন্দুগুলো 'প' শীর্ষ বিন্দুর সাথে যোগ করে দ্রাঘিমারেখাগুলোর মান চিহ্নিত করতে হবে। 'প' কে কেন্দ্র করে ব্যবধানে (খঘ) দ্বিতীয় চিত্রে মধ্য দ্রাঘিমারেখায় (পফ) ৪৫° পরিমিত অক্ষরেখার ওপরে পরপর দুইটি ও নিচে তিনটি বৃত্তচাপ অঙ্কন করতে হবে। সবশেষে অক্ষরেখা চিহ্নিত করতে বৃত্তচাপগুলোর মান যথাক্র এবং দ্রাঘিমা রেখাগুলোর মান যথাক্রমে নিচের মাঝামাঝিতে প্র. অ. ১: ১৬৫,০০০,০০০ লিখতে হয়।

মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Practical: Drawing of Zenithal Equidistant Projection)
প্র.অ. ১ঃ ২০০,০০০,০০০ স্কেলে নিচে একটি মেরুদেশীয় সমদূরবর্তী অভিক্ষেপ অঙ্কন করা হলো-
মানচিত্রে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ == ১.২৫" [আমরা জানি, পৃথিবীর প্রকৃত গড় ব্যাসার্ধ ২৫০,০০,০০০"।
মেরুদেশীয় সমদূরবর্তী শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ

প্রথম চিত্র: ১.২৫" ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্তাংশ অংকন করি। চাঁদার সাহায্যে বৃত্তাংশে এবং চিহ্নিত করি। চিহ্নিত মেরুবিন্দুতে একটি স্পর্শক অংকন করা হলো। এরপর এর রৈখিক ব্যবধান বা ০.৩২" পরিমাপ নিয়ে স্পর্শকটিকে মেরুদেশীয় শীর্ষক বিন্দু () হতে ডান দিকে পরপর ৬টি অংশে ভাগ করে ৯০° হতে অবস্থান নির্দেশ করতে হবে। এগুলো অক্ষরেখা অংকনের জন্য ব্যাসার্ধের পরিমাপ নির্দেশ করে।
দ্বিতীয় চিত্র: একটি উল্লম্ব রেখা নিতে হবে। এরপর উক্ত উল্লম্ব রেখার মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে প্রথম চিত্রের ৯০° হতে পর্যায়ক্রমে এর দূরত্ব নিয়ে বৃত্ত এঁকে অক্ষরেখাগুলো অংকন করি। এরপর চাঁদার সাহায্যে সমব্যবধানে কোণগুলো অংকন করে দ্রাঘিমারেখাগুলো নিতে হবে। দ্রাঘিমারেখাগুলোর মান লেখার সময় মূল মধ্যরেখার মান ধরে যথাক্রমে পূর্ব দিকে প্রভৃতি লিখে সবশেষে ১৮০° পূর্ব এবং মূলমধ্যরেখার পশ্চিম দিকে প্রভৃতি লিখে সবশেষে ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা নির্দেশ করা হলো। অবশ্যপূর্ব এবং ১৮০° পশ্চিম একই দ্রাঘিমারেখা। সর্বশেষে অভিক্ষেপের উপরে অভিক্ষেপের নাম ও নিচে প্র. অ. ১: ২০০,০০০,০০০ লেখা হলো।
মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
জিআইএস (GIS)
জিআইএস (GIS- Geographic Information System) একটি কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ভৌগোলিক ও পারিসরিক তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, পরিবর্ধন, বিন্যাস ও প্রদর্শন করা হয়। প্রযুক্তিগত দিক থেকে জিআইএস এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে জিআইএস সফট্ওয়্যারসমূহ ব্যবহার করে ভূমি জরিপ, আকাশ থেকে গৃহীত আলোকচিত্র, ভৌগোলিক বিষয়াদি বিশ্লেষণ করা যায়।
সুতরাং, ভৌগোলিক তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থাকে সংক্ষেপে GIS বলে।
যুক্তরাজ্যের ভূগোলবিদ D. W. Rhind (1989) বলেন, GIS is a computer system that can hold data and describing places on earth's surface. অর্থাৎ GIS হলো একটি কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতি যা তথ্য ধরে রাখে এবং ভূপৃষ্ঠের স্থানসমূহের বর্ণনা করে।
এ থেকে বলা যায়, GIS স্থানিক ও অস্থানিক উপাত্ত (spatial and non-spatial data) সংগ্রহ করে কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে সমন্বয় ঘটিয়ে মানচিত্রে উপস্থাপন করে।
জিআইএস এর উপাদান: জিআইএস মূলত একটি কম্পিউটারভিত্তিক প্রোগ্রাম এবং এর উপাদানসমূহ হচ্ছে-

জিআইএস এর কর্মপদ্ধতি
জিআইএস এর কর্মপদ্ধতি নিরূপণের ক্ষেত্রে এর উপাদানসমূহের বিভিন্নমুখী প্রয়োগ বুঝতে হবে। জিআইএস এর কর্মপদ্ধতিকে চারটি ধাপে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। সেগুলো হলো-


উপরের ছকে জিআইএস এর কর্মপদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। জিআইএসের তথ্য সংগ্রহের আরেকটি অন্যতম মাধ্যম GPS (Global positioning system) জি.পি.এস বা ভূঅবস্থানিক পদ্ধতি। GPS একটি বিশেষ যন্ত্র যা উপগ্রহের (satellite) সাথে সংযোগ স্থাপন করার মাধ্যমে স্থানিক তথ্য সংগ্রহ করে ও মানচিত্র প্রণয়নে সহায়তা করে। সংগৃহীত তথ্য কম্পিউটারে GIS এর মাধ্যমে বিশ্লেষিত হয়।
মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Necessity of GIS):
- কম্পিউটারভিত্তিক এই পদ্ধতিতে পারিসরিক উপাত্তসমূহ বিশ্লেষণ, পরিমার্জন ও একত্রীকরণ সম্ভব।
- বিভিন্ন উৎস থেকে সরাসরি উপাত্ত সংগ্রহ করে জিআইএস এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
- সম্পদের বন্টন, রাস্তা-ঘাটের অবস্থান, ভূপৃষ্ঠের ভূমিরূপ অঙ্কন, ভূমির ব্যবহার, জনসংখ্যার বণ্টনসহ বিভিন্ন ধরনের মানচিত্র অঙ্কনে জিআইএস এর গুরুত্ব অপরিসীম।
- জিআইএস এর মাধ্যমে অতিদ্রুত অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া সম্ভব।
- জিআইএস পদ্ধতিতে ছবি, আকাশ থেকে গৃহীত আলোকচিত্র বিশ্লেষণও সম্ভব।
- পরিবেশের উপর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রভাব বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে জিআইএস এর ভূমিকা অপরিসীম।
- বিভিন্ন সময়ে কোনো স্থানের পারিসরিক পরিবর্তন নির্ণয় করার ক্ষেত্রে জিআইএস এর ভূমিকা রয়েছে।
- জলবায়ু সম্পর্কিত গবেষণায়ও জিআইএস এর ব্যবহার রয়েছে। সমোন্নতি রেখার সাহায্যে বিভিন্ন স্থানের জলবায়ুর (বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ ইত্যাদি) অবস্থা এর মাধ্যমে দেখানো সম্ভব।
এছাড়া ভূপৃষ্ঠের উপর অবস্থিত যেকোনো স্থানের মানচিত্র অঙ্কন, দূরত্ব, আয়তন, অবস্থান নির্ণয় ও বিশ্লেষণ এবং এ সংক্রান্ত গবেষণায় জিআইএস এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম
অতি প্রচলিত জিআইএস সফট্ওয়্যার
বর্তমানে বাংলাদেশে জিআইএস এর বহুল প্রচলিত সফট্ওয়্যার হলো ARC-GIS, ARC-INFO ও ARC-View। এছাড়াও রয়েছে GRASS-GIS, AGIS সহ আরো কিছু সফট্ওয়্যার।
| মানচিত্র অভিক্ষেপ | কোনো সমতল কাগজের উপর সমগ্র পৃথিবী বা এর কোন অংশের মানচিত্র অঙ্কন করার জন্য নির্দিষ্ট স্কেলে অক্ষরেখা ও দ্রঘিমারেখাগুলো জালের ন্যায় ছকে প্রকাশ করা হয়। এ ছককেই মানচিত্র অভিক্ষেপ বলে। ভূগোলকের উপর কাগজকে তিনভাবে স্থাপন করা যায় বলে অভিক্ষেপ তিন প্রকারের হয়। যেমন- (১) বেলন অভিক্ষেপ (২) শাঙ্কব অভিক্ষেপ (৩) শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ। এই তিন প্রকারের অভিক্ষেপ ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার ব্যবহারসিদ্ধ (Purposive) অভিক্ষেপের প্রচলন আছে। |
| বেলনাকার অভিক্ষেপ | একটি নল বা বেলনের মধ্যে ভূগোলক স্থাপন করে তার ছায়া বেলনের উপর প্রতিফলন করে যে অভিক্ষেপ আঁকা হয় তাকে বেলনাকার অভিক্ষেপ বলে। এটি দুই প্রকার। যেমন- প্রকৃত বেলন এবং সরল বেলন। |
| শাঙ্কব অভিক্ষেপ | ভূগোলকের উপর মোচাকৃতির (cone shaped) কাগজ বা এ জাতীয় কোনো বস্তু বসিয়ে গোলকের কেন্দ্র থেকে আলোক বিচ্ছুরণ করলে গোলকপৃষ্ঠের অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখাগুলো দেখা যায়। এ অবস্থায় চিত্র অংকন করলে মোচাকৃতি বা শাঙ্কব অভিক্ষেপ পাওয়া যায়। |
| শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ | শঙ্কু (cone) বা বেলনের, (cylinder) পরিবর্তে যখন সমতল ক্ষেত্রের (Plain surface) কোনো বিন্দুতে গোলক (sphere) স্পর্শ করে এবং ঐ তলের উপর জালের ন্যায় অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখাগুলোর ছায়াপাত (shade) করার মাধ্যমে অভিক্ষেপের ছক অঙ্কন করা হয় তখন তাকে শীর্ষদেশীয় (zenithal) অভিক্ষেপ বলা হয়। এ ধরনের অভিক্ষেপের মধ্যে সাধারণভাবে প্রচলিত হলো মেরুদেশীয় সমদূরবর্তী শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ (zenithal equidistant projection) । |
| জিআইএস | জিআইএস (GIS- Geographic Information System) একটি কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতি। প্রযুক্তিগত দিক থেকে জিআইএস একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে জিআইএস সফট্ওয়্যারসমূহ ব্যবহার করে ভূমি জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য, আকাশ থেকে গৃহীত আলোকচিত্র এবং সকল, ভৌগোলিক বিষয়াদি বিশ্লেষণ করা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে জিআইএস এর বহুল প্রচলিত সফট্ওয়্যার হলো ARC, GIS ও ARC view। এছাড়াও রয়েছে GRASS-GIS, AGIS সহ আরও কিছু সফটওয়্যার। |
মানচিত্র অভিক্ষেপ- মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
Read more