Human Geography
মানুষ ও পরিবেশ ভূগোল শাস্ত্রের কেন্দ্রীয় উপাদান। এ শাস্ত্রের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার সাথে সাথে মানব ভূগোল একটি প্রধানতম শাখা হিসেবে গড়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত মানুষের জীবনযাপন প্রণালি ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ সম্পর্কে জানা যায়।
প্রধান প্রধান শব্দ
- মানব ভূগোল
- মানব ভূগোলের বিষয়বস্তু ও শাখা
- রাজনৈতিক অঞ্চল
- প্রশাসনিক অঞ্চল
মানব ভূগোলে মানুষ ও পরিবেশের সম্পর্ক, মানবগোষ্ঠীর অবস্থানিক বিন্যাস ও বণ্টন প্রকৃতি, উপজীবিকা ওঅর্থনৈতিক কার্যকলাপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মানব ভূগোল বিভিন্ন

প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষের আচরণ ব্যাখ্যা করে। এছাড়াও মানব সংস্কৃতির আঞ্চলিক তারতম্য ব্যাখ্যা করে মানব ভূগোল। আধুনিক মানব ভূগোলের রূপকার হিসেবে ফ্রেডরিক র্যাটজেল, কার্ল রিটার, ভিডাল ডি লা ব্লাশ, ইলিয়ট হার্স্ট, আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট, ডাট্টি স্টাম্প প্রমুখের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়। এছাড়া প্রাচীন রোমান-গ্রিক যুগের স্ট্রাবো, মধ্যযুগের ইবনে খালদুন মানব ভূগোলের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
মানব ভূগোলমোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাকস্যারে লেখা বই
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
স্বাধীনদের ক্লাসে শিক্ষক পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ মানচিত্রে দেখলেন। যা দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত।
এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি দেশের মাঝামাঝি দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা চলে গেছে। দেশটির জলবায়ুর উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন ।
হিমি উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য দূর প্রাচ্যের শিল্পে সমৃদ্ধ একটি দেশে যেতে আগ্রহী যে দেশটি বিশ্ব অর্থনীতিতে তৃতীয় স্থান অধিকার করে আছে।
(Concept and Scope of Human Geography)
ভূগোলের দুটি প্রধান শাখার একটি হচ্ছে মানব ভূগোল। মানব ভূগোল সাংস্কৃতিক ভূগোল নামেও পরিচিত। মানব ভূগোলে আলোচিত মূল বিষয়বস্তুগুলো হলো মানুষ, তার ভাষা, ধর্ম, মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা, জীবন-জীবিকা, বাসস্থানের ধরন, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি।
মানব ভূগোলের সংজ্ঞায় এককথায় বলা যায়, মানব ভূগোল হলো মানুষ ও স্থান সম্পর্কিত জ্ঞান। অর্থাৎ এটি স্থান ও কালভেদে মানুষের সামাজিক অবস্থা, মানুষের সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় স্থানিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিশ্লেষণ করে থাকে।বিখ্যাত ব্রিটিশ ভূগোলবিদ রন জন্সটন এর মতে, "মানব ভূগোল হলো সমাজবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা সমগ্র বিশ্ব, বিশ্বের মানুষ, গোষ্ঠী এবং সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করে।"
অধ্যাপক ডাডলি স্ট্যাম্প এর মতে, "মানব ভূগোল হচ্ছে পৃথিবী ও তার অধিবাসীদের সমাজীয় বর্ণনা।"
ভূগোলবিদ আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট এর মতে, "কোনো স্থান বা এলাকায় বসবাসকারী মানবগোষ্ঠী সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করা মানব ভূগোলের কাজ"।
জার্মান ভূগোলবিদ ফ্রেডরিক র্যাটজেল বলেন, "মানবসমাজ ও ভূপৃষ্ঠের মধ্যকার সম্পর্কের বিশ্লেষণ হলো মানব ভূগোল।"
কানাডার বিখ্যাত ভূগোলবিদ মাইকেল ইলিয়ট হার্স্টের মতে, "বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষের আচার-আচরণ বিশ্লেষণ করা মানব ভূগোলের কাজ।"
আমেরিকান ভূগোলবিদ মিস এলেন চার্চিল মানুষ ও প্রকৃতির আন্তঃসম্পর্ক ধারণাটির প্রবক্তা। তার এ ধারণাটি প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণবাদ বা নিমিত্তবাদ (Scientific determinism) নামে পরিচিত। ধারণাটির মূলকথা হলো, "পৃথিবীর উপরিভাগে বিচরণকারী মানুষ স্বাধীন নয়। মানুষের সকল প্রকার কর্ম ও ক্রিয়া প্রকৃতি অর্থাৎ প্রাকৃতিক পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তবে মানুষের পছন্দের স্বাধীনতা রয়েছে।"
বিখ্যাত জার্মান ভূগোলবিদ আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট বলেন, "কোনো স্থান বা এলাকায় বসবাসকারী মানবগোষ্ঠী সম্পর্কে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ এবং আঞ্চলিক তারতম্যের বর্ণনা করা মানব ভূগোলের কাজ।"
উপরিউক্ত আলোচনায় বোঝা যায় যে, মানব ভূগোলে মানুষের কর্মকাণ্ডের ওপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয় এবং সেই সাথে স্থান ও সময়ভেদে তা বিশ্লেষণ করা হয়।

মানব ভূগোলের ক্ষেত্র
মানব ভূগোলের ক্ষেত্র বা পরিসর প্রাকৃতিক ভূগোল থেকে আলাদা। এখানে মানুষ ও তার কর্মকাণ্ডের ওপর অধিক গুরুত্ব . প্রদান করা হয়। সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়; যেমন- রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য মানব সম্বন্ধীয় বিষয়াদি মানব ভূগোলের আওতাভুক্ত। মানব ভূগোলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ভূপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক ভূমিরূপ না হলেও প্রাকৃতিক ভূগোলের সাহায্য ছাড়া মানব ভূগোলকে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। কেননা মানুষের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ভৌগোলিক পরিবেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
পদ্ধতিগত দিক থেকে মানব ভূগোল বিজ্ঞানভিত্তিক ও অধিকতর গ্রহণযোগ্য। কারণ মানব ভূগোলের কোনো বিষয় - আলোচনার ক্ষেত্রে গুণগত ও পরিমাণগত উভয় পদ্ধতিই ব্যবহার করা হয় এবং জরিপ, পরিসংখ্যানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো বিষয়কে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গবেষণা করার সুযোগ থাকে।
ভূগোলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দৃশ্যমান ও অদৃশ্য উপাদান বা প্রপঞ্চের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সমাজের পারিসরিক বিস্তরণ নিয়ে কাজ করে। এ কারণে মানব ভূগোলের ক্ষেত্র, পরিসর বা পরিধিও বিস্তৃত। মানুষ ও পরিবেশের যে সম্পর্ক এবং যে ধারায় মানুষের কার্যপ্রণালি বণ্টিত সে বিষয়গুলোও এর আওতাভুক্ত। মানুষের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য তথা শিল্পচর্চা, ভাষা, ধর্মীয় মনোভাব, আচার-আচরণ ও ঐতিহ্য, গ্রামীণ ও নগর বসতির প্রকারভেদ, নগর বসতির অবস্থান, আকার, প্রবৃদ্ধি ও ক্রিয়াকলাপ ইত্যাদি মানব ভূগোলে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়। অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, শিল্প, বাণিজ্য, পরিবহন ও যোগাযোগের প্রকৃতি ও মাধ্যম, যা প্রাকৃতিক পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। বিষয়ও মানব ভূগোলের পরিসরভুক্ত।
নিচে সংক্ষেপে মানব ভূগোলের পরিধি তুলে ধরা হলো:
- জনগোষ্ঠীর অবস্থান ও বিন্যাস;
- জনগোষ্ঠীর কাঠামো ও গঠন বিন্যাস, বৃদ্ধি ও সমস্যা;
- জনবসতি ও গৃহায়ণ, বসতির বিন্যাস, তারতম্য ও নগর পরিকল্পনা;
- মানবসমাজ ও সংস্কৃতি, সংস্কৃতির বিস্তার ও পার্থক্য;
- মানুষের উৎপাদন ও উপজীবিকা;
- পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থা এবং ব্যবসা বাণিজ্য;
- জনসংখ্যার বিস্তরণ, স্থানান্তর ও অভিগমন;
- জনপ্রশাসন, রাজনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ভূরাজনীতি;
- জনপ্রশাসন, রাজনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ভূরাজনীতি;
- সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্যের নিরীক্ষা; এবং
- মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রম ইত্যাদির পরিকল্পনা।
মানব ভূগোল সময় ও স্থানের উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে থাকে। মানব ভূগোলের বিষয়গুলোর মধ্যে তাই অর্থনীতি, 'ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি, জনমিতি, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়াদিও আলোচিত হয়। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, মানব ভূগোলের আলোচনায় প্রাকৃতিক ভূগোলের বিভিন্ন বিষয়ের সাথে সম্পর্ককে গুরুত্ব প্রদান করা হয়।
মানব ভূগোল - মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Subject matter and Branches of Human Geography)
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের চিন্তাধারা, মননশীলতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ অর্থাৎ তাদের জীবনধারায় যে পার্থক্য তার কারণ অনুসন্ধানই মানব ভূগোলের মূল বিষয়বস্তু।
মানব ভূগোলের বিষয়বস্তুগুলো হলো:
১. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন: মানব ভূগোলের কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু হলো মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক
জীবন। সামাজিক মানুষ তার সংস্কৃতি ও আচরণের মাধ্যমে কীভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয় তা মানব ভূগোলের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। এক্ষেত্রে নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, পরিচয়, বিশ্বাস, আচরণ, চিন্তা, বিন্যাস প্রভৃতি সমাজবিজ্ঞানের মৌলিক জিজ্ঞাসার আলোকেই জানতে হয়। কিন্তু মানব ভূগোল তার স্থানিক ও কালিক (Spatial and temporal) বিশ্লেষণ করে থাকে। অতএব, মানুষের সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক সকল বিষয়বস্তু যেমন- নৃতত্ত্ব, জাতিতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, প্রত্নতত্ত্ব ইত্যাদি মানব ভূগোলের বিষয়বস্তুর অন্তর্গত। এ জন্যই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভূগোল মানব ভূগোলের অন্যতম শাখা।
২. অর্থনীতি ও সম্পদ: মানব ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনীতি ও সম্পদ সমীক্ষা। মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর ভূমির প্রভাব বা মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভূমি কর্তৃক যেভাবে প্রভাবিত হয় তার সমীক্ষা মানব ভূগোলের বিষয়বস্তু। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের কৃষিজাত পণ্য, খনিজ, বনজ, প্রাণিজ, মৎস্য সম্পদ ইত্যাদির বার্ষিক উৎপাদন, উত্তোলন, বিশ্ব বণ্টন ও বাণিজ্য মানব ভূগোলের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত।
৩. জনসংখ্যা ও জনপদ: জনসংখ্যা ও জনপদ বর্তমানে মানব ভূগোলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভূপৃষ্ঠে জনসংখ্যার বণ্টন, বিন্যাস, অভিগমন, আকার-আয়তন, পরিবর্তন প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ অবস্থা ইত্যাদি মানব ভূগোলের বিষয়বস্তু। অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে মার্কিন অর্থনীতিবিদ এ্যাচেনওয়েল (Achenwall) এবং সাস মিস (Sus Mis) এই বিষয়বস্তুকে সমন্বিত করে মানব ভূগোলের উপশাখা হিসেবে জনসংখ্যা ভূগোলের গোড়াপত্তন করেন।
৪. অঞ্চল: ভূগোল শাস্ত্রের ক্রমবিকাশের পটভূমি পর্যালোচনামূলক একাধিক রচনায় মার্কিন ভূগোলবিদ রিচার্ড হার্টশোন 'অঞ্চল' শব্দটি ব্যবহার করেন। উনবিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত ফরাসি ভূগোলবিদ ভিডাল ডি লা ব্লাশ (১৮৪৫-১৯১৮) অঞ্চলের আলোচ্য বিষয় হিসেবে অঞ্চলের ধারণা, অঞ্চল সৃষ্টির নিয়ামক, বৈশিষ্ট্য, আঞ্চলিক পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক পরিবেশ (যেমন- শিল্প অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সাংস্কৃতিক অঞ্চল ইত্যাদি) সম্পর্কে পর্যালোচনা করেন। এ অঞ্চল সমীক্ষা মানব ভূগোলের বিষয়বস্তুর অন্তর্গত।
৫. সমাজ ও সামাজিক কল্যাণ: ভূপৃষ্ঠে বসবাসকারী মানবগোষ্ঠীর সামাজিক পার্থক্য সৃষ্টির পিছনে কার্যকর নিয়ামক যথা- ভূমি ও জলবায়ু সমীক্ষা করা মানব ভূগোলের কাজ। জার্মান ভূগোলবিদ অটো স্পুটার প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণবাদ ধারণার বিপরীতে মত ব্যক্ত করেন। তিনি সামাজিক কল্যাণ এবং সামাজিক সমস্যাসমূহের পারস্পরিক পার্থক্য এবং সামাজিক সমস্যার মূল কারণ অনুসন্ধান করে মানব ভূগোল শাস্ত্রের উপশাখা হিসেবে কল্যাণমুখী ভূগোল তথা বাস্তু ভূগোল, লিঙ্গ ভূগোল, চিকিৎসা ভূগোল ও পর্যটন ভূগোল ইত্যাদির উদ্ভব করেন, যা মানব ভূগোলের বিষয়বস্তু হিসেবে পরিগণিত।
৬. মানচিত্রাঙ্কন: মানচিত্রের বিশ্লেষণ মানব ভূগোলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। মানচিত্রকে ভৌগোলিক বিশ্লেষণের প্রারম্ভিক পর্যায় হিসাবে গণ্য করা যায়। কারণ মানচিত্রের ভাষা ও তার গুণাগুণ উপলব্ধি ছাড়া ভৌগোলিক অনুসন্ধান সম্পূর্ণ হয় না। মানচিত্রের মাধ্যমে স্থানিক ও কালিক ভিত্তিতে বিষয়সমূহের প্যাটার্ন, পারিসরিক বিন্যাস প্রভৃতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করার নিমিত্তে বিভিন্ন কৌশলাদি ব্যবহার করা হয়। তাই মানচিত্রাঙ্কন বিদ্যা মানব ভূগোলের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
মানব ভূগোলের শাখা
ভূগোলের একটি অন্যতম শাখা হচ্ছে মানব ভূগোল, যা মানুষ ও তার কর্মকাণ্ড এবং মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকে। মানবীয় কর্মকাণ্ডের নানা ধরন আবার মানব ভূগোলকে বিভিন্ন শাখায় বিস্তৃত করেছে। কারণ এখানে মানবসৃষ্ট পরিবেশে এর উন্নতি, সৃষ্টি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

১. সামাজিক ভূগোল (Social Geography): সামাজিক ভূগোল মানব ভূগোলের একটি অন্যতম শাখা, যা মূলত
সামাজিক তত্ত্ব এবং সমাজ নিয়ে কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক উপাদানের সাথে স্থানিক উপাদানের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণও এর কাজ। সামাজিক ভূগোলের বিভিন্ন উপবিভাগসমূহ হলো- আচরণগত ভূগোল, সমাজকল্যাণ ভূগোল, জেন্ডার ভূগোল প্রভৃতি। সামাজিক ভূগোলের আলোচনার ক্ষেত্রগুলো মানব ভূগোলের অন্যান্য শাখার সঙ্গে মিশে যায়। যেমন- অর্থনৈতিক ভূগোল, নগর ভূগোল, সাংস্কৃতিক ভূগোল ইত্যাদি। সামাজিক ভূগোলে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হলো- সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক পরিচয়, অসমতা, লিঙ্গবৈষম্য, বয়স, শারীরিক অক্ষমতা, অপরাধ, দারিদ্র্য, সামাজিক বিচার ব্যবস্থা, নৃগোষ্ঠী অভিগমন ইত্যাদি।
২. নগর ভূগোল (Urban Geography): নগর ভূগোল নগর অর্থনীতি, বসতি কাঠামো, কেন্দ্রীয় অঞ্চল, নগরে জনসংখ্যার ঘনত্ব ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। মানব ভূগোলের এই শাখা অনেক ক্ষেত্রে নৃবিজ্ঞান, নগর পরিকল্পনা এবং নগর সমাজবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নগর ভূগোলের দুটি প্রধান দিক রয়েছে; প্রথমত: শহরের স্থানিক বণ্টন এবং দ্বিতীয়ত: শহরের আভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর বণ্টন ও সম্পর্ক।
৩. রাজনৈতিক ভূগোল (Political Geography): রাজনৈতিক ভূগোলে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও স্থানিক
পরিবেশের ওপর তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। মূলত এটি মানুষ, রাষ্ট্র ও ভূখণ্ডের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। রাজনৈতিক ভূগোলের শাখাগুলো হলো- নির্বাচন সম্বন্ধীয় ভূগোল, সামরিক ভূগোল, যুদ্ধবিদ্যা সম্পর্কিত ভূগোল ও ভৌগোলিক রাজনীতি। রাজনৈতিক ভূগোলে সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস ও বিভিন্ন পদ্ধতিগত ও প্রযুক্তিগত বিদ্যার প্রয়োগ ঘটানো হয়।
৪. বসতি ভূগোল (Settlement Geography): বসতি ভূগোলে পৃথিবীর সেই অংশ নিয়ে আলোচনা করা হয় যেখানে মানব বসতি তৈরি হয়েছে। মানব বসতি বলতে শহর, নগর ও গ্রামকে বোঝায় এবং তাদের সামাজিক, বস্তুগত, সমষ্টিগত, সাংস্কৃতিক বিষয়সমূহ এখানে আলোচিত হয়। বসতি ভূগোল দুই ধরনের- i. নগর ও ii. গ্রাম বসতি ভূগোল। বসতি ভূগোলের কিছু প্রয়োগগত দিকও রয়েছে যেমন: বসতির উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন।
৫. অর্থনৈতিক ভূগোল (Economic Geography): অর্থনৈতিক ভূগোল হচ্ছে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের
অবস্থান, বণ্টন ও স্থানিক সংগঠন সম্পর্কিত অধ্যয়ন। অর্থনৈতিক ভূগোলের আলোচিত বিষয়সমূহ হচ্ছে- শিল্পের অবস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, নগর অর্থনীতি, নৃগোষ্ঠীগত অর্থনীতি, গ্রাম অর্থনীতি, পরিবেশ ও অর্থনীতির সম্পর্ক এবং বিশ্বায়ন। অর্থনৈতিক ভূগোলের উপবিভাগসমূহ হলো- কৃষি ভূগোল, সম্পদ ভূগোল, শিল্প ভূগোল, বাণিজ্যিক ভূগোল, পরিবহন ভূগোল প্রভৃতি।
৬. উন্নয়ন সম্পর্কিত ভূগোল (Development Geography): উন্নয়ন সম্পর্কিত ভূগোলে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের মানুষের জীবনযাত্রার মান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এখানে উন্নয়নের মাত্রা পরিমাপ করার জন্য অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নিয়ামকসমূহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই সাথে বিভিন্নমুখী উন্নয়নের ভৌগোলিক কারণ ও প্রভাব নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়। এখানে উন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশসমূহের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণার ভিত্তিতে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নকে বিশ্লেষণ করা হয়।
৭. ঐতিহাসিক ভূগোল (Historical Geography): ঐতিহাসিক ভূগোল পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক,
সাংস্কৃতিক, তত্ত্বীয় ও বাস্তব অতীত নিয়ে গবেষণা করে। ঐতিহাসিক ভূগোলে সময়ের ওপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়। এই শাখার মূল বিষয়বস্তু হলো সময়ের সাথে স্থান, মানবসমাজের পরিবর্তন, পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং পরিবেশ ও সংস্কৃতির সম্পর্ক।
৮. চিকিৎসা ভূগোল (Medical Geography): চিকিৎসা ভূগোলের মূল বিষয় হলো জনগণের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞানলাভ। এটি ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে অর্থাৎ স্থান ও কালের প্রেক্ষিতে বিবেচনা বা অধ্যয়ন করতে হয়। স্বাস্থ্য ও রোগের ওপর পরিবেশের প্রভাব, স্বাস্থ্য সুবিধা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের স্থানিক বণ্টন সম্পর্কে আলোচনা করা এর কাজ। সেই সাথে স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান খুঁজে বের করাও চিকিৎসা ভূগোলের কাজ। চিকিৎসা ভূগোলে বিভিন্ন ভৌগোলিক তথ্য ও উপাত্ত, দৃষ্টিভঙ্গি, তত্ত্ব ও পদ্ধতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বাস্তব ও প্রয়োগসম্মত ধারণা দেওয়া হয়।
৯. সাংস্কৃতিক ভূগোল (Cultural Geography): স্থানভেদে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপাদান, আচার-আচরণ, রীতিনীতি সম্বন্ধে ভূগোলের এ শাখায় আলোচনা করা হয়। সাংস্কৃতিক ভূগোলে ভাষা, ধর্ম, অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও সাংস্কৃতিক ভূগোলে লিঙ্গ, পরিবার, শ্রেণি, শিক্ষা নৃগোষ্ঠীগত বিষয়ের ওপরও গুরুত্ব প্রদান করা হয়।
১০. জনসংখ্যা ভূগোল (Population Geography): জনসংখ্যার স্থানিক বৈচিত্র্য, গঠন, কাঠামো, বয়স-লিঙ্গ
কাঠামো, বিভিন্ন তত্ত্বাদি, অভিগমন, অধিক জনসংখ্যা জনিত সমস্যা ও তার প্রতিকার, জনশক্তি ইত্যাদি নিয়ে এ * শাখায় ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা হয়।
১১. পর্যটন ভূগোল (Geography of Tourism): স্থানিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যটন কেন্দ্রসমূহের বিস্তরণ, গড়ে ওঠার কারণ, পর্যটন গমনাগমন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ভূগোলের এ শাখা বিশ্লেষণ করে।
বাড়ির কাজ:
| গ্রুপ-A | গ্রুপ-B |
মানুষ পরিবেশ জন্মহার অভিগমন ভাষা | সাংস্কৃতিক ভূগোল পরিবেশ ভূগোল জনসংখ্যা ভূগোল |
মানব ভূগোল - মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Necessity of Studying Human Geography)
মানুষ প্রতিনিয়ত পৃথিবীর সম্পদ ও ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। মানব ভূগোল মানুষ, তার কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের স্থানিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে থাকে। বর্তমানে মানব ভূগোল পাঠ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মানব ভূগোল পাঠের প্রয়োজনীয়তা নিচে দেওয়া হলো:
১. মানব সমাজের স্থানিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জ্ঞানলাভ: মানব ভূগোলে মানবীয় কর্মকাণ্ডের স্থানিক বিশ্লেষণ করা হয় যা এর স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। মানব ভূগোলে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে (স্থানীয় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে) বিশ্লেষণ করা হয়ে থাকে।
২. বাস্তব সম্বন্ধীয় জ্ঞান লাভ: মানব ভূগোলের গবেষণায় মানবজীবনের বাস্তব বিষয়াদির গুণগত ও পরিমাণগত বিশ্লেষণ করা হয়। ফলে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা যেমন: দারিদ্র্য, অশিক্ষা, অসমতা, কুসংস্কার ইত্যাদি সম্পর্কে বাস্তবধর্মী জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব এবং সে অনুযায়ী সমাধান দেওয়া যায়।
৩. বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ: পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সময়ের প্রেক্ষিতে নানা ধরনের জনগোষ্ঠী আবাস গড়ে তুলেছে। এদের ভাষা, ধর্ম, নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে। মানব ভূগোল তথা সাংস্কৃতিক ভূগোলে স্থানিক বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে সাংস্কৃতিক উৎস, বৈশিষ্ট্য ও পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়। মানব ভূগোলে শুধু এলাকাভিত্তিক বা আঞ্চলিক সংস্কৃতিই নয় আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়ে থাকে।
৪. ঐতিহাসিক পরিবেশ সম্বন্দ্বে জ্ঞান লাভ: মানব ভূগোলবিদগণ অতীতের বিভিন্ন ঘটনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন এবং গবেষণার ক্ষেত্রে বই-পুস্তক, নথিপত্র ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। ফলে অতীতের বিভিন্ন ঘটনা সঠিকভাবে বর্ণনা করা সম্ভব হয়। এছাড়া অতীতের বিভিন্ন ভূগোলবিদদের মতবাদ গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়।
৫. পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল সম্বন্দ্বে জ্ঞানলাভ: ভূগোলবিদগণ গবেষণাকার্যে কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে থাকেন। যেমন: দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ অথবা এশিয়া বা অন্য কোনো দেশ। যেহেতু বিভিন্ন দেশের মানুষ ও তাদের সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা করতে হয়, সেহেতু ঐ সকল স্থানের সমাজ, সংস্কৃতি, সভ্যতা, ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়।
৬. পরিবেশের সাথে মানুষের সম্পর্ক সম্বন্দ্বে জ্ঞানলাভ: মানব ভূগোলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো সাংস্কৃতিক ভূগোল ওসাংস্কৃতিক বাস্তুবিদ্যা। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে কীভাবে তার প্রতিকার করা যায়, তা মানব ভূগোলে আলোচনা করা হয়। মানব ভূগোল পাঠের মাধ্যমে আমরা পরিবেশের সঙ্গে মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক সম্বন্ধে ধারণা পেতে পারি।
৭. মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ: মানুষ তার জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকে। মানুষ তার জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নানামুখী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকে। মানুষ জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেচনা দিয়ে তার কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে থাকে। কোনটি টেকসই আবার কোনটি ধ্বংসাত্মক তা বুঝতে পারে। মানব ভূগোলে সামাজিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়ে থাকে বলে আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারি। এছাড়াও মানুষের বাসস্থান ও তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যাকেও মানবভূগোলে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
৮. অর্থনীতি সম্বন্দ্বে জ্ঞান লাভ: মানব ভূগোলের একটি অন্যতম শাখা হচ্ছে অর্থনৈতিক ভূগোল। মানুষ বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাজের মাধ্যমে টিকে থাকে। মানুষের সকল ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনো না কোনো সমাজব্যবস্থার মধ্যে সংঘটিত হয়। অর্থনৈতিক ভূগোল পাঠের মাধ্যমে আমরা আমরা বিশ্ব অর্থনীতি, শিল্পের বণ্টন, গ্রামভিত্তিক ও নগরভিত্তিক অর্থনীতি সম্পর্কে ধারণা পাই।
৯. মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জ্ঞানলাভ: মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা ও মানসিক চিত্রপটকে মানব ভূগোলে অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়। মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। এক্ষেত্রে মানুষের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি স্থানভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে এবং নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি করে। মানব ভূগোল পাঠে আমরা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করতে পারি।
১০. অভিগমনের প্রকৃতি ও ধরন সম্পর্কে জ্ঞানলাভ: উন্নত জীবনযাপন, আর্থিক সচ্ছলতা, উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা সুবিধা, প্রাকৃতিক বা সামাজক বিকর্ষণমূলক কারণে মানুষ গ্রাম থেকে শহরে, এক শহর থেকে অন্য শহরে আবার এক দেশ থেকে অন্য দেশে অভিগমন করে থাকে। অভিগমনের ধরন, প্রকারভেদ ও প্রভাব নিয়েও মানব ভূগোলে আলোচনা করা হয়।
১১. জনসংখ্যার জনমিতিক উপাদান বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে: জন্মহার, মৃত্যুহার, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, বয়স, লিঙ্গ, পেশা ইত্যাদি মানব ভূগোলের জনমিতিক ভূগোলে আলোচিত হয়। এছাড়া নারী ও শিশুর অধিকার এবং উন্নয়ন সম্পর্কিত গবেষণাও করা হয় মানব ভূগোলে। কোনো দেশের জনসংখ্যার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে হলে জনমিতিক ভূগোলের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
মানব ভূগোল - মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Political Region of the World)
রাজনৈতিক অঞ্চল (Political Region)
রাজনৈতিক পরিচিতি বা অস্তিত্ব রয়েছে ভূপৃষ্ঠের এমন অংশবিশেষকে রাজনৈতিক অঞ্চল বলে। রাজনৈতিক অঞ্চলের সাধারণ ও মুখ্য উপাদান হচ্ছে রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন কোনো ভূখণ্ড। উল্লেখ্য যে, ভূখণ্ড বলতে কেবল স্থলভাগকে বোঝায় না; জল, স্থল এবং অন্তরীক্ষের সমগ্রতাও এর অন্তর্ভুক্ত। রাজনৈতিক অঞ্চলের প্রধান পারিসরিক (Spatial) বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে অবস্থান (location), অভিগম্যতা (accessibility), আয়তন (area), আকৃতি (size or shape), সীমানা (boundaries)। প্রত্যেক ভূগোলবিদের অঞ্চল সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক।
কোনো ভূখণ্ডের রাজনৈতিক সত্ত্বা মূলত নির্ভর করে এর পরিবেশিক বৈশিষ্ট্যের ওপর; বিশেষ করে জনসংখ্যা ও রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর। কোনো ভূখণ্ড যখন রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত হয় ও একক রাজনৈতিক সত্ত্বার রূপ নেয় সেরূপ ভূখণ্ডকে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় অঞ্চল বলা হয়।
বস্তুত রাষ্ট্রই হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের মূল রাজনৈতিক অঞ্চল। বলা বাহুল্য রাষ্ট্রীয় অঞ্চলের নিজস্ব সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ও কার্যনির্বাহী কর্তৃপক্ষ বা সরকার থাকে।
রাজনৈতিক অঞ্চলের গুরুত্ব: একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই যথেষ্ট নয়; বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিশেষ করে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি, অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে সুসম্পর্ক প্রভৃতি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাজনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রধান সুবিধাসমূহ হলো-
১. কোনো ভূখণ্ডের সার্বিক নিয়ন্ত্রণের পথ সুগম হয়।
২. সমন্বিত ভূমি ব্যবহার সহজতর হয়।
৩. আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ব্যাপক সুযোগ ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।
৪. নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হয় এবং
৫. জনগোষ্ঠীর অধিকার সুনিশ্চিত হয়।
রাজনৈতিক অঞ্চলের উপাদান: রাজনৈতিক অঞ্চলের মৌলিক উপাদানগুলোকে প্রধানত দুইভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা-ভৌগোলিক উপাদান এবং রাজনৈতিক উপাদান।
ভৌগোলিক উপাদান: রাজনৈতিক অঞ্চলের ভৌগোলিক উপাদানের মৌলিক বিষয় হচ্ছে ভূখণ্ড বা ভূভাগ। ভূভাগ বলতে শুধু স্থলভাগকেই বোঝায় না। এর দ্বারা জল, স্থল ও অন্তরীক্ষের বিস্তৃত পরিসরকে বোঝায়। রাজনৈতিক অঞ্চল যেহেতু কোনো পরিসরে অবস্থিত থাকে সেহেতু এর পারিসরিক (Spatial) বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-
১. অবস্থান (location): অবস্থান রাজনৈতিক অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারিসরিক বৈশিষ্ট্য। অবস্থানগত তারতম্য-প্রাকৃতিক পরিবেশ, সম্পদ চলাচল ও সংযোগ এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় মিথস্ক্রিয়াগত তারতম্য সৃষ্টি করে থাকে।
২. অভিগম্যতা (accessibility): স্থানের গমনাগমন সুবিধাকে অভিগম্যতা বলে। যাতায়াত ও যোগাযোগ
ব্যবস্থার ওপর অভিগম্যতা নির্ভরশীল। সড়ক, রেল, নৌ, সমুদ্র এবং বিমানপথ অভিগম্যতার প্রধান মাধ্যম। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সামুদ্রিক পরিবহনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অপরদিকে স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় অভিগম্যতার ক্ষেত্রে বিশেষ বাধা রয়েছে। বর্তমানে ৪৪টি (সূত্র: www.thoughco.com) রাষ্ট্র এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন। যেমন- নেপাল, ভুটান।
৩. আয়তন (Area or size): রাজনৈতিক অঞ্চলের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পারিসরিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আয়তন বা আকার। আয়তন রাষ্ট্রীয় শক্তি ও জাতীয় গুরুত্বের মাপকাঠিস্বরূপ। কতিপয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন: বাণিজ্যিক কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান পরিবহন, শিল্প, আবহাওয়া গবেষণা, বেতার সংযোগ প্রভৃতির জন্য বিস্তৃত পরিসরের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
৪. আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য: রাজনৈতিক অঞ্চলের আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা- সংঘবদ্ধ (compact) ও অসংঘবদ্ধ (non-compact)। সংঘবদ্ধ আকৃতি সীমানা প্রহরার মাধ্যমে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য রাজনৈতিক কাঠামো সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, অসংঘবদ্ধ আকৃতির রাষ্ট্র সাধারণত দীর্ঘায়িত, অভিক্ষেপিত, বিক্ষিপ্ত এবং ছিদ্রায়িত প্রকৃতির হতে পারে। এ ধরনের রাষ্ট্রের মধ্যে একাধিক দ্বীপ নিয়ে গঠিত রাষ্ট্রগুলো অন্তর্ভুক্ত। যেমন- ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ।
৫. সীমানা: সীমানা রাজনৈতিক অঞ্চলের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাংশ। সকল রাষ্ট্রীয় অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট সীমানা থাকে। সীমানা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পরিব্যাপ্তি নির্দেশ করে।
রাজনৈতিক উপাদান: রাজনৈতিক অঞ্চলের ভূভাগগত বৈশিষ্ট্য ব্যতীত অন্যান্য উপাদানগুলো রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; এগুলো হচ্ছে সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
১. সার্বভৌমত্ব: রাজনৈতিক কর্তৃত্বের সর্বময় ক্ষমতাকে সার্বভৌমত্ব বলা হয়। যদিও কার্যত কোনো সরকারই মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ করে কিংবা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে এমন ক্ষমতা প্রয়োগ করে না। স্বাধীন নয় যেমন-উপনিবেশ, আশ্রিত অঞ্চল প্রভৃতি রাজনৈতিক অঞ্চলের সার্বভৌম ক্ষমতা থাকে না।
২. সরকার: রাজনৈতিক অঞ্চলের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সরকার। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা, আইন পরিষদ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, আদমশুমারি কমিশন, কর্মকমিশন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী।
রাজনৈতিক অঞ্চলের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Political Region)
বর্তমান পৃথিবী একাধিক রাজনৈতিক অঞ্চলে বিভক্ত। রাজনৈতিক প্রকৃতি অনুযায়ী এগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
i. উপনিবেশ (Colony): পরাধীন অঞ্চলের মধ্যে উপনিবেশ ও নির্ভরশীল এলাকাসমূহের ওপর ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মাত্রা সর্বাধিক হয়ে থাকে। ইউরোপের অনেক রাষ্ট্রেরই এক সময় বিশ্বব্যাপী উপনিবেশ ছিল। যেমন- ১৯৪৭ পূর্ববর্তী ভারতীয় উপমহাদেশ ছিল ব্রিটিশদের উপনিবেশ।
ii. স্বশাসিত ও কমনওয়েলথ (Self Governing and Commonwealth): আয়তনে বড় ও জনবহুল
উপনিবেশগুলো ইদানিংকালে স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রিনল্যান্ড দ্বীপ; ফ্রান্সের বৈদেশিক প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ এবং মার্কিন কমনওয়েলথভুক্ত এলাকাগুলো।
iii. অধিরাজ্য বা ডোমিনিয়ন (Dominion): ডোমিনিয়নসমূহে ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মাত্রা
ন্যূনতম। প্রকৃতপক্ষে এগুলো স্বাধীন রাষ্ট্র। তবে শাসনতন্ত্র অনুযায়ী এগুলো সার্বভৌম নয়। ডোমিনিয়নগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রপ্রধান। বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীতে প্রধান ৩টি ডোমিনিয়ন রাষ্ট্র রয়েছে। রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।
iv. বাফার রাষ্ট্র (Buffer State): দুইটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের সীমান্তে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে বাফার বা সংঘর্ষরোধক রাষ্ট্র বলা হয়। ঔপনিবেশিক যুগে উপনিবেশ স্থাপনকারী ইউরোপীয় শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ রোধকল্পে বাফার অঞ্চল সৃষ্টি হয়। যেমন- ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যবর্তী লুক্সেমবার্গ, ব্রিটিশ ভারত ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী আফগানিস্তান এবং ফরাসি ইন্দোচীন ও ব্রিটিশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের মধ্যবর্তী থাইল্যান্ড ছিল এ জাতীয় রাষ্ট্র।
V. কনফেডারেশন (Confedaration) বা রাষ্ট্রীয় মিত্রসংঘ: কয়েকটি স্বাধীন রাজনৈতিক অঞ্চলের এক শিথিল বন্ধনাবদ্ধ রাষ্ট্রকে কনফেডারেশন বলা হয়। বর্তমানকালে একমাত্র সুইজারল্যান্ডই কনফেডারেশন রাষ্ট্র হিসেবে ক্রিয়াশীল রয়েছে।
মানব ভূগোল - মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Political Regions of the World: Continents)
এশিয়া মহাদেশের রাজনৈতিক ভূগোল
আয়তনে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মহাদেশ এশিয়া। মহাদেশটির রাজনীতি অত্যন্ত বিচিত্র ও জটিল। এখানে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র, নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র, একদলীয় শাসনব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা, অধীনস্থ প্রশাসনিক অঞ্চল, উদারপন্থী গণতন্ত্র, সামরিক একনায়কতন্ত্র ইত্যাদি সবধরনের রাজনৈতিক কাঠামোই দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু রাষ্ট্র যেগুলো নিজেদের রাষ্ট্র (যেমন- তিব্বত) হিসেবে দাবি করলেও পাশ্ববর্তী শক্তিশালী দেশ (চীন) তা স্বীকার করে না। এশিয়া মহাদেশের আয়তন ও জনসংখ্যা যথাক্রমে ৪৪,৫৭৯,০০০ বর্গ কি.মি. (স্থলভাগের ৩০%) এবং ৪৫৬,১৮,২৫,৮৬১ (নভেম্বর, ২০১৮)।
এশিয়ার সভ্যতা এবং সেই সাথে রাজনীতির ইতিহাস সুপ্রাচীন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ (যেমন- ভারত উপমহাদেশ: ১৭৫৭-১৯৪৭) ১৮শ, ১৯শ ও ২০শ শতকে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল এবং এই সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ এখনও এশীয় রাজনীতিকে অনেকটাই প্রভাবিত করে থাকে। কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব, তাইওয়ান-গণচীন দ্বন্দ্ব, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব; এগুলো এশিয়ার বর্তমান সময়ের কিছু সংঘর্ষমূলক অবস্থার উদাহরণ। তবে আঞ্চলিক পর্যায়ে বৃহত্তর সহযোগিতারও অনেক উদাহরণের দেখা মেলে। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সার্ক (SAARC) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান (ASEAN) এর নাম উল্লেখযোগ্য।
ইউরোপ মহাদেশের রাজনৈতিক ভূগোল
পৃথিবীর প্রাচীনতম মহাদেশগুলোর একটি হচ্ছে ইউরোপ মহাদেশ। আয়তনে এটি ষষ্ঠ হলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপে নানা ধরনের জাতি ও সংস্কৃতি রয়েছে। এখানে গণতন্ত্র, সংসদীয় প্রজাতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, সংসদীয় গণতন্ত্র, রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্র ও সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান। ইউরোপ মহাদেশের অনেক দেশেরই এক সময় বিশ্বব্যাপী উপনিবেশ ছিল। যেমন- পর্তুগালের উপনিবেশ ব্রাজিল, যুক্তরাজ্যের উপনিবেশ ভারত।
ইউরোপের দেশসমূহের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক জোটের নাম ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ছিল ১৫টি এবং বর্তমান সদস্য ২৮টি দেশ। ইউরোপ মহাদেশের আয়তন ও জনসংখ্যা যথাক্রমে ১০,১৮০,০০০ বর্গ কি. মি. বা ৩,৯৩০,০০০ বর্গ কি. মি. (পৃথিবীর স্থলভাগের ৬.৮%) এবং ৭,৪১,৪৪৭,১৫৮ জন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহের মধ্যে একই মুদ্রা, একই কৃষিনীতি এবং মৎস্যনীতি গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে ইউরোপীয় রাজনীতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্বারা পরিচালিত হলেও ইউরোপীয় রাষ্ট্রসমূহ আরো কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য যেমন: NATO (North Atlantic Treaty Organization), CIS (Common Wealth of Indipendent States), GUAM (Georgia, Ukraine, Azerbaijan and Moldova) Organization for Democracy and Economic Development.
আফ্রিকা মহাদেশের রাজনৈতিক ভূগোল
আয়তনে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ আফ্রিকা। এটি ভূমধ্যসাগরের মাধ্যমে ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন। আফ্রিকার দেশসমূহে রাষ্ট্রপতি শাসিত রাজতন্ত্র, বহুদলীয় গণতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশের অনেক দেশেই একসময় ফ্রান্স, ব্রিটেন, পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল। বর্তমানে আফ্রিকা মহাদেশে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত স্বাধীন দেশের সংখ্যা ৫৪টি (চিত্র-১.১৩)। মহাদেশটির জনসংখ্যা ১,৩০১,৩৬৯,২৭৬ (২০১৮) এবং আয়তন
৩০,৩৭০,০০০ বর্গ কি. মি. বা ১,১৭,৩০০,০০০ বর্গ মাইল (সূত্র: worldometer)। আফ্রিকা মহাদেশে খাদ্যাভাব, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জীবনযাত্রার নিম্নমান, এইডস, বর্ণবাদ ইত্যাদি প্রকট। আফ্রিকা খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, কিন্তু যথাযথ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন না ঘটায় প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
দক্ষিণ আমেরিকার রাজনৈতিক ভূগোল
দক্ষিণ আমেরিকা পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ। দক্ষিণ আমেরিকায় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার, প্রজাতন্ত্র, গণতন্ত্র ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা দেখা যায়। দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশ যেমন: আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, উরুগুয়ে, কলম্বিয়া, চিলি, প্যারাগুয়ে ও ভেনিজুয়েলা স্পেনের উপনিবেশ ছিল এবং ব্রাজিলে ছিল পর্তুগালের ঔপনিবেশিক শাসন। দক্ষিণ আমেরিকাতে দীর্ঘ সময়ের ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে সেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধীর গতিতে হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় এ ধরনের উপনিবেশের প্রধান কারণ ছিল কৃষি। বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকার ১২টি দেশ জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত (চিত্র-১.১৪)। মহাদেশটির আয়তন ও জনসংখ্যা যথাক্রমে- ১৭,৮৪০,০০০ বর্গ কি. মি. বা, ৬,৮৯০,০০০ বর্গ মাইল এবং ৪,২০,৪৫৮,০৪৪ জন। কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ও খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য থাকার কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত আঞ্চলিক বাণিজ্য রয়েছে। আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে- Union of South American Nations, G3 মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Mexico, Colombia, Venezuela)।
উত্তর আমেরিকার রাজনৈতিক ভূগোল
উত্তর আমেরিকার আয়তন ২৪,৭০৯,০০০ বর্গ কি. মি. বা ৯,৫৪০,০০০ বর্গ মাইল (পৃথিবীর মোট আয়তনের ১৬.৩%)। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৫ জন লোক বাস করে। উত্তর আমেরিকায় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার, প্রজাতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত আছে। উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ দেশই ইউরোপের (স্পেন, ব্রিটেন) উপনিবেশ ছিল। ১৭শ ও ১৮শ শতকে উত্তর আমেরিকার দেশসমূহ স্বাধীনতা লাভ করে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকার স্বাধীন দেশের সংখ্যা ২৩টি (চিত্র-১.১১)। অন্যলের ভিত্তিতে আবার উত্তর আমেরিকার দেশসমূহকে উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে ভাগ করা হয়। এটি আয়তনে পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ। উত্তর আমেরিকার দেশসমূহের সংগঠন OAS (Organization of American States)। OAS এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দ্বন্দ্ব নিষ্পত্তি, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার। মহাদেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৫৭,৯২৪,০০০ জন।
অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের রাজনৈতিক ভূগোল
পৃথিবীর সপ্তম ও ক্ষুদ্রতম মহাদেশ অস্ট্রেলিয়া বা ওশেনিয়া। মহদেশটির আয়তন ৭৬ লাখ ৯২ হাজার বর্গ কি. মি. এবং জনসংখ্যা ২৪,৯০৬,৯৯৭ (World Population Review, 2018)। এটি মূলত দ্বীপ মহাদেশ নামে পরিচিত। মহাদেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপসমূহ নিয়ে গঠিত। অন্যান্য মহাদেশ থেকে দূরে অবস্থান করলেও বিশ্ব রাজনীতিতে এ মহাদেশের দেশগুলোর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ মহাদেশের দেশগুলোতে সংসদীয় গণতন্ত্র শাসনব্যবস্থা রয়েছে। আয়তনে এ মহাদেশের বৃহত্তম দেশ অস্ট্রেলিয়া এবং দীর্ঘতম নদী মারে। আঞ্চলিক অবস্থান অনুসারে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশসমূহ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মাইক্রোনেশিয়া, মেলানেশিয়া ও পলিনেশিয়া অঞ্চলে বিভক্ত (চিত্র-১.১২)। এ মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত মাইক্রোনেশিয়া, মেলানেশিয়া ও পলিনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন আগ্নেয় দ্বীপাঞ্চল।
এন্টার্কটিকা মহাদেশের রাজনৈতিক ভূগোল
এন্টার্কটিকা মহাদেশ পৃথিবীর পথ্যমতম মহাদেশ এবং পৃথিবীর দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ১ কোটি ৩৩ লক্ষ ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটার। দক্ষিণ মেরুর চারদিকে অবস্থিত সুবিশাল বরফাবৃত এন্টার্কটিকা মহাদেশকে পৃথিবীর শীতলতম মহাদেশ বলা হয়। মহাদেশটিতে কোনো স্থায়ী জনবসতি নেই। এন্টার্কটিকার ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও নিউজিল্যান্ডের শাসনের অন্তর্গত (চিত্র-১.৯)।
কাজ: পৃথিবীর মহাদেশগুলোর পাঠগুলো পড়ে নিচের ছকটি পূরণ করো-
| মহাদেশ | অবস্থান | আয়তন | জনসংখ্যা | সংগঠন |
মানব ভূগোল - মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Political Regions of the World: India, South Koria, Japan)
ভারত
অবস্থান ও সীমানা (Location and boundary): দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ভারত। রিপাবলিক অব ইন্ডিয়া বা
ভারতীয় প্রজাতন্ত্র ২৮টি রাজ্য ও নয়টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত। এই রাজ্য ও অণ্যলগুলো আবার ৬১০টি জেলায় (সূত্র: উইকিপিডিয়া) বিভক্ত। ভারতের সীমান্তের মোট পরিসীমা ১৫,১০৬.৭০ কিলোমিটার। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের কালে সৃষ্ট র্যাডক্লিফ লাইন অনুসারে পাকিস্তান ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সীমা নির্ধারিত হয়েছে। এটি বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ।
আয়তন ও জনসংখ্যা: ভারতের আয়তন ও জনসংখ্যা যথাক্রমে ৩,২৮৭,৪৬৯ বর্গ কি. মি. (১,২৬৯,২৯৯ বর্গ মাইল) এবং ১,৩৬০,২২৭,৫১০ জন (worldometer, December, 2018)।

ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪,০৫৩ কিলোমিটার (সূত্র: bangladesh.gov.bd)। ভারত ও গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মধ্যবর্তী সীমান্তরেখা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নামে পরিচিত। ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশ বরাবর ৪,০৫৭ কিমি জুড়ে এই সীমান্ত প্রসারিত। উভয় রাষ্ট্রই কাশ্মীরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওপর নিজ কর্তৃত্ব দাবি করে। ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের পর এই অঞ্চল চীনের দখলে চলে যায়। এছাড়াও ভারতের সাথে নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান ও মায়ানমারের সীমান্ত রয়েছে।
জলবায়ু (Climate): ভারতে একদিকে অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল (মৌসিনরাম, চেরাপুঞ্জি), অপরদিকে মরুভূমির (যেমন- রাজস্থানে) উষ্ণতা রয়েছে। একদিকে উপকূলভাগে মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু, অপরদিকে অভ্যন্তরভাগে পাঞ্জাব, রাজস্থান অঞ্চলের মহাদেশীয় জলবায়ু বিরাজ করে। আবার হিমালয় পর্বতের অবস্থানও ভারতের জলবায়ুকে প্রভাবিত করছে।
ভূপ্রকৃতি (Physiography): ভারতের ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলকে ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: ১. পার্বত্য অঞ্চল, ২. উত্তরের বিশাল সমভূমি অঞ্চল ৩. উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল, ৪. দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞ্চল, ৫. মরুভূমি অঞ্চল।

কৃষি ও কৃষি সম্পদ (Agriculture & agricultural resources): ভারত কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষি ভারতীয় অর্থনীতির
ভিত্তিস্বরূপ। ভারতের শতকরা প্রায় ৬০-৭০ জন অধিবাসী কৃষির ওপর নির্ভরশীল। জাতীয় আয়ের শতকরা ১৬-১৭ ভাগ কৃষি ও আনুষঙ্গিক কার্যকলাপ থেকে আসে।
খনিজ উত্তোলন ও খনিজ সম্পদ (Mining & Mineral Resources): খনিজ সম্পদে ভারত মোটামুটি সমৃদ্ধ।
ভারতে উৎপাদিত খনিজগুলোকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা-
১. জ্বালানি খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম প্রভৃতি।
২. ধাতব খনিজ: আকরিক লৌহ, তামা, সোনা রূপা, বক্সাইট, সীসা, দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ, উলফ্রাম, নিকেল প্রভৃতি।
৩. অধাতব খনিজ: অভ্র, চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট, ফসফেট, গন্ধক প্রভৃতি।
শিল্প (Industry): ভারতের প্রধান শিল্পগুলো হলো লৌহ-ইস্পাত, মোটর (Automobile), ওষুধ, টেক্সটাইল, কার্পাস বয়ন, পাট, চিনি, কাগজ, তামাক প্রভৃতি।
বাণিজ্য (Trade): আমদানি দ্রব্যের মধ্যে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য, যন্ত্রপাতি ও পরিবহনের সাজ-সরঞ্জাম, লৌহ-ইস্পাত ও ধাতব দ্রব্যাদি, মুক্তা ও অন্যান্য পাথর, খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য, কৃত্রিম সার, কৃত্রিম যন্ত্র, প্লাস্টিক দ্রব্য, মেশিনারিজ, কপার ও জিংক প্রভৃতি প্রধান।
রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে চা, কফি, কাইবাদাম, মসলা, আকরিক লৌহ, সুতিবস্ত্র, তৈরি পোশাক, পাট ও চামড়াজাত দ্রব্যাদি, রাসায়নিক দ্রব্যাদি, যন্ত্রপাতি ও পরিবহনের সরঞ্জাম, পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য, ধাতব দ্রব্য প্রভৃতি প্রধান।
দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়া অনেক বছর জাপানের উপনিবেশ ছিল। ১৯৫৩ সালে কোরিয়া উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া নামে দুই ভাগে বিভক্ত হয়। দুই কোরিয়ার সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক ভিত্তি এক থাকলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বিস্তর পার্থক্য ছিল। উত্তর কোরিয়া, বিশেষভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের সংস্কৃতি ও রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত ছিল। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া অনেক বেশি প্রভাবিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও রাজনীতি দ্বারা।
অবস্থান ও আয়তন (Location & Area): দক্ষিণ কোরিয়া পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ। এর উত্তরে উত্তর কোরিয়া, পূর্বে জাপান সাগর, দক্ষিণে কোরিয়া প্রণালী ও পশ্চিমে পীত সাগর অবস্থিত। ভৌগোলিক অবস্থান ৩৩° উত্তর থেকে ৩৯° উত্তর অক্ষাংশ এবং ১২৪° পূর্ব থেকে ১৩০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। কোরিয়া প্রণালী জাপান থেকে দক্ষিণ কোরিয়াকে পৃথক করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল। এ দেশের মোট আয়তন ৯৮,৪৮০ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪৯,০২৪,৭৩৭ জন।
প্রাকৃতিক অঞ্চল (Natural Region): ভূপ্রাকৃতিক গঠন ও উদ্ভিজ্জের বৈশিষ্ট্য অনুসারে এ দেশকে ৫টি প্রাকৃতিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। যথা- (১) দক্ষিণ-পূর্ব, (২) পার্বত্য, (৩) পূর্বাংশের উপকূলীয়, (৪) উত্তর-পশ্চিম এবং (৫) দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল।

জলবায়ু (Climate): দেশের দক্ষিণাংশের জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র এবং অবশিষ্টাংশ সমভাবাপন্ন। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে এবং শীতকালে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়। গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
খনিজ সম্পদ (Mineral Resources): এ দেশে চুনাপাথর, রূপা, দস্তা, টাংস্টেন, আকরিক লৌহ, তামা, সীসা, গ্রাফাইট ও কয়লা পাওয়া যায়। এদেশে অ্যানথ্রাইট কয়লা বিপুল পরিমাণে উত্তোলন করা হয়।
শিল্প (Industries): কয়লা ও আকরিক লৌহ বর্তমান থাকায় এ দেশে শিল্প দ্রুত বিকাশ লাভ করেছে। সুতি ও পশমি বস্ত্র দেশটির প্রধান শিল্প। এছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ায় রাসায়নিক তন্তু, পেট্রোকেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি, সিমেন্ট, জাহাজ নির্মাণ এবং ইলেকট্রনিকস শিল্প প্রসার লাভ করেছে।
বাণিজ্য (Trade): দেশটি চাল, সয়াবিন, রেশম, মাছ, উন্নতমানের পোশাক, ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ বিদেশে রপ্তানি এবং লোহা ও ইস্পাতজাত কলকজা, কাগজ, ঔষধ ও উন্নতমানের তুলা আমদানি করে।
জাপান
জাপানে সংসদীয় গণতন্ত্র বিরাজমান। এখানে সম্রাট প্রতীকী রাষ্ট্রপ্রধান। জাপানের স্থানীয় সরকারগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ আছে। তবে জাপানের ৪৭টি দপ্তর এবং কয়েক হাজার বড় শহর, ছোট শহর ও গ্রামের স্থানীয় সরকারগুলো স্থানীয় বিষয়গুলোর ব্যাপারে যথেষ্ট ক্ষমতা রাখে। জাপানের এক্সক্লুসিভ মৎস্য এলাকা ২০০ নটিক্যাল মাইল এবং আঞ্চলিক সমুদ্র সীমা ১২ নটিক্যাল মাইল। জাপানের সাথে আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব রয়েছে ইত্রোয়, কুনাসিরি এবং শিকোতার দ্বীপের যা তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমানে রাশিয়া) দখল করে নিয়েছিল। জাপান দ্বীপসমূহকে নিজের দাবি করে। জাপানের পার্লামেন্টের নাম ডায়েট।
অবস্থান ও আয়তন (Location & Area): জাপান দক্ষিণে ২৪° উত্তর অক্ষাংশ থেকে উত্তরে ৪৬° উত্তর অক্ষাংশ
পর্যন্ত এবং পূর্বে ১২৮° পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে পশ্চিমে ১৪৬° পূর্ব দ্রাঘিমা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৩৭৭,৮৩৫ বর্গ কি.মি.। জাপান দেশটি সমুদ্রবেষ্টিত। এর চারিদিকের পানিভাগ বিভিন্ন নামে পরিচিত। জাপানের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১২৬,৯৮২,১৮৮ জন (সূত্র: worldometer, ফেব্রুয়ারি, ২০১৯)।

ভূপ্রকৃতি (Physiography): জাপানের অধিকাংশ স্থান (শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ) পার্বত্যভূমির অন্তর্গত। জাপানের পর্বতগুলো দুটি সমান্তরাল শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে উত্তর-দক্ষিণে ধনুকের আকারে বিন্যস্ত রয়েছে। এর একটি শ্রেণি পূর্বপ্রান্তে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল বরাবর এবং অপর শ্রেণিটি পশ্চিমপ্রান্তে জাপান সাগরের উপকূল বরাবর অবস্থান করছে। আর এদের মাঝে রয়েছে কয়েকটি নিম্ন উপত্যকা ও সমতলভূমি।
জলবায়ু (Climate): জাপান দেশটি নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলে অবস্থিত। জলবায়ুর পার্থক্য অনুসারে জাপানকে ৩টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। যথা- ১। উপমেরুদেশীয়, ২। আর্দ্র মহাদেশীয়, ৩। আর্দ্র উপক্রান্তীয়।

কৃষি (Agriculture): জাপানের মোট কৃষিযোগ্য জমির ১২.৩৩ শতাংশ ধান চাষের জন্য ব্যবহৃত হয়। দক্ষিণ জাপান ধান চাষের প্রধান অঞ্চল। এ দেশে হেক্টর প্রতি ধানের উৎপাদন প্রায় ৫,৭৫০ কিলোগ্রাম। এছাড়া এখানে গম, যব, সয়াবিন, রাই, ওট ও তুঁত গাছের চাষ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে এখানে ভুট্টা, ইক্ষু, কার্পাস, তামাক, আলু প্রভৃতি উৎপন্ন হচ্ছে। জাপানে নানারকম ফল উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে কমলালেবু, চেরি, পিচ, আপেল, আঙ্গুর প্রভৃতি প্রধান।
খনিজ সম্পদ (Mineral Resources): জাপান খনিজ সম্পদে বিশেষ সমৃদ্ধ নয়। খনিজ দ্রব্যের মধ্যে কয়লা, তামা,
গন্ধক, চিনামাটি, অ্যান্টিমনি, সীসা, ক্রোমাইট, সোনা, রূপা প্রভৃতি প্রধান। এছাড়া লোহা ও খনিজ তেলও এ দেশে পাওয়া যায়।
প্রধান শিল্পসমূহ (Main Industries): এদেশের কার্পাস, রেশম, লৌহ-ইস্পাত, জাহাজ নির্মাণ, কাগজ প্রভৃতি শিল্প খুব উন্নত। বর্তমানে গাড়ি, টেলিফোন, রেডিও, ক্যামেরা, ঘড়ি, ক্যালকুলেটর প্রভৃতি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি উৎপাদনে জাপান প্রচুর উন্নতি করেছে। শিল্পের অভাবনীয় সাফল্যের জন্য জাপানকে প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার বলা হয়।
বাণিজ্য (Trade): জাপানের বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য হলো কাঁচামাল আমদানি এবং শিল্পজাত পণ্য রপ্তানি। জাপানের আমদানির ৪৫ শতাংশ আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং রপ্তানির ৪০ শতাংশ যায় এশিয়ার দেশসমূহে। জাপান প্রধানত তুলা, খনিজ তেল, কয়লা, চাউল ও অন্যান্য খাদ্যশস্য, পশম প্রভৃতি আমদানি করে এবং বস্ত্র, ইস্পাত, রাসায়নিক দ্রব্য, চিনামাটির বাসনপত্র, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক দ্রব্যাদি, ক্যামেরা প্রভৃতি রপ্তানি করে।
মানব ভূগোল - মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(World Political Regions: UK and USA)
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যের একসময় অনেক উপনিবেশ ছিল। চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ, ম্যান দ্বীপ, বার্মুডা, উত্তর আটলান্টিক, সেন্ট হেলেনা, দক্ষিণ আটলান্টিক, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, জিব্রাল্টার, দক্ষিণ স্পেন, দিয়াগো গার্সিয়া, ভারত মহাসাগর, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসমূহে যুক্তরাজ্যের এখনও উপনিবেশ আছে। যুক্তরাজ্যের শাসনব্যবস্থা শাসনতান্ত্রিক রাজতন্ত্র। যুক্তরাজ্যের এক্সক্লুসিভ মৎস্য এলাকা ২০০ নটিক্যাল মাইল ও আঞ্চলিক সমুদ্র সীমা ১২ নটিক্যাল মাইল। যুক্তরাজ্যের সাথে কয়েকটি রাষ্ট্রের সীমানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। যেমন- আয়ারল্যান্ডের সাথে উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্পেনের সাথে জিব্রাল্টার, আর্জেন্টিনার সাথে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া ও দক্ষিণ স্যান্ডুইচ দ্বীপপুঞ্জ। এছাড়াও ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের সাথে সীমানা সম্পর্কিত বিরোধ রয়েছে।

অবস্থান ও আয়তন (Location & Area): যুক্তরাজ্য দক্ষিণে ৪৯° উত্তর অক্ষাংশ থেকে উত্তরে ৫৯° উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত এবং ৮° পশ্চিম থেকে পশ্চিম দ্রাঘিমা পর্যন্ত বিস্তৃত। দেশটি ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত, চারদিক সমুদ্র দিয়ে ঘেরা। প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ড। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন। লন্ডন গ্রিনিচ মানমন্দির ও হাসপাতালের জন্য প্রসিদ্ধ। মূল্য মধ্যরেখা এ স্থানের উপর দিয়ে গেছে। যুক্তরাজ্য ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত। (চিত্র-১.৭)। যুক্তরাজ্যের আয়তন প্রায় ২,৪২,৪৯৫ বর্গ কি. মি. (আয়তনে বিশ্বে ৭৮তম)। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৬৬,৮০৯,৪১২ জন (সূত্র: worldometer, ফেব্রুয়ারি, ২০১৯)।
ভূপ্রকৃতি (Physiography): যুক্তরাজ্যের ভূপ্রকৃতিতে ভিন্নতা দেখা যায়। এর উত্তর-পশ্চিমের উঁচুভূমি বাদ দিয়ে অধিকাংশই নিম্নভূমি।
জলবায়ু (Climate): সাধারণত উত্তরের তুলনায় দক্ষিণ অংশ গরম এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৩০০ সে.মি.। দেশটিতে বছরের প্রায় ১০০ দিন বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
কৃষি (Agriculture): যুক্তরাজ্যের কৃষি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। দেশটির প্রধান শস্য গম ও যব।
খনিজ সম্পদ (Mineral Resources): যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন ধরনের খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়। যথা- কয়লা, পেট্রোল, প্রাকৃতিক গ্যাস, চুনাপাথর, জিপসাম, সিলিকা, লোহা, টিন, সিলভার, সোনা প্রভৃতি।
শিল্প (Industries): যুক্তরাজ্য একটি শিল্পোন্নত দেশ। স্টিল ও ধাতুনির্মিত দ্রব্যাদি, গাড়ি, জাহাজ নির্মাণ, ব্যাংকিং, বীমা, যন্ত্রাংশ তৈরি, রাসায়নিক দ্রব্যাদি, ইলেকট্রনিকস প্রভৃতি শিল্পের ওপর দেশের অর্থনীতি নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করা হয়ে থাকে। নিউ ইংল্যান্ড রাষ্ট্রসমূহ, মধ্য আটলান্টিক, রাষ্ট্রসমূহ, দক্ষিণ পূর্ব রাষ্ট্রসমূহ, মধ্য পশ্চিম রাষ্ট্রসমূহ, সমতল রাষ্ট্রসমূহ, পার্বত্য রাষ্ট্রসমূহ, দক্ষিণ-পশ্চিম রাষ্ট্রসমূহ এবং সর্বদক্ষিণের রাষ্ট্রসমূহ। যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পদ্ধতি এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ শাসিত অঞ্চলসমূহ হলো পানামা, ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, ক্যারিবীয় অঞ্চল, গুয়াম, মার্কিন সামোয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। ব্রিটেনের বণিক সম্প্রদায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি অঙ্গরাজ্যে উপনিবেশ গড়ে তুলেছিল। ১৭৭৬ সালে ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক অঞ্চল ২০০ নটিক্যাল মাইল, আঞ্চলিক সমুদ্র সীমা ১২ নটিক্যাল মাইল। সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে কানাডা ও হাইতির।
অবস্থান ও আয়তন (Location and Area): দেশটি উত্তরে ৪৯° উত্তর অক্ষাংশ থেকে দক্ষিণে ২৫°৩০′ উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত এবং পূর্বে ৬৬.৫° পশ্চিম দ্রাঘিমা থেকে পশ্চিমে ১২৫° পশ্চিম দ্রাঘিমা পর্যন্ত বিস্তৃত। দেশটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের ঠিকমধ্যভাগে অবস্থিত। এ দেশের উত্তরে কানাডা, দক্ষিণে মেক্সিকো উপসাগর ও মেক্সিকো, পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর ও পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর অবস্থিত। দেশটির আয়তন প্রায় ৯,৮৩৪,০০০ বর্গ কি. মি. এবং জনসংখ্যা প্রায় ৩২৮,১৮৯,৩৮৯ জন (সূত্র: worldometer, ফেব্রুয়ারি, ২০১৯)।
জলবায়ু (Climate): যুক্তরাষ্ট্রের মতো সুবিশাল দেশে জলবায়ু বৈচিত্র্যময় হওয়াই স্বাভাবিক। দেশের অভ্যন্তরের কোনো কোনো স্থান সমুদ্রোপকূল থেকে ১,৫০০ কিলোমিটারেরও অধিক দূরত্বে অবস্থিত। ফলে এসব স্থানের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন। আবার মেক্সিকো ও হাডসন উপসাগর, দেশের দক্ষিণ ও উত্তরে কিছুটা ঢুকে আসার ফলে এবং বৃহৎ হ্রদগুলোর অবস্থানের প্রভাবে উপকূলীয় জলবায়ু সমভাবাপন্ন।
ভূপ্রকৃতি (Physiography): ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রকে চারটি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। যথা- (১) পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চল বা পশ্চিম কর্ডিলেরা, (২) পূর্বের উচ্চভূমি বা অ্যাপেলেসিয়ান পাহাড়, (৩) মধ্যভাগের বিশাল সমভূমি ও (৪) উপকূলীয় নিম্নভূমি।
খনিজ সম্পদ (Mineral Resources): পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খনিজ সম্পদে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, আকরিক লৌহ, তামা, রূপা, সীসা, দস্তা, লবণ, ফসফেট প্রভৃতি এ দেশের উল্লেখযোগ্য খনিজ দ্রব্য।
শিল্প (Industries): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্যের কৃষিযোগ্য ভূমি, অরণ্য, মৎস্যক্ষেত্র ও খনিজদ্রব্য কোনো সম্পদেরই অভাব নেই। শিল্পোৎপাদনের ক্ষেত্রে' এ দেশ পৃথিবীর উপর সর্বাধিক প্রভাব ফেলেছে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর শীর্ষে অবস্থান করে এ দেশ। শিল্পোন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের এরূপ উন্নতির মূলে ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে।
মানব ভূগোল - মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Administrative Area of Bangladesh)
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র যার আনুষ্ঠানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান নামে যে দেশটি সৃষ্টি হয়েছিল, তার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পূর্ব পাকিস্তান শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার নাম বাংলাদেশ। বিশ্বের জনবহুল দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। কিন্তু আয়তনের হিসাবে বাংলাদেশ বিশ্বে ৯২তম; ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি।
ভৌগোলিক অবস্থান (Geographical Location): এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ পূর্বাংশে বাংলাদেশ অবস্থিত। এটা প্রায় ২০°৩৪′ উত্তর হতে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা হতে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা পর্যন্ত বিস্তৃত। বাংলাদেশের মাঝামাঝি দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা চলে গেছে; অর্থাৎ দেশটি ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত। বাংলাদেশের প্রায় তিন দিকেই ভারত রাষ্ট্র, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এর উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলা, কুচবিহার, আসাম ও মেঘালয়, পূর্বে ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা এবং মায়ানমার, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।
আয়তন (Area): বাংলাদেশের মোট আয়তন প্রায় ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার (৫৬,৯৭৭ বর্গমাইল)। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা (Territorial Sea) প্রায় ২২ কি.মি. (১২ নটিক্যাল মাইল) এবং দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল (Economic Zone) সমুদ্রের সীমারেখা হতে গভীর সমুদ্রের প্রায় ৩২২ কি.মি. (২০০ নটিক্যাল মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত।
জনসংখ্যা (Population): ২০১১ সালের আদমশুমারির রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি ৯৭ লক্ষ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ (২০১৮) হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬.১৭ কোটি, যার মধ্যে পুরুষ ৮.১০ কোটি এবং মহিলা ৮.০৭ কোটি [সূত্র: bangladesh.gov.bd] । জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,০১৫ জন। জনসংখ্যার দিক হতে বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম।
ভূপ্রকৃতি (Physiography): বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ- পূর্বাংশের পাহাড়িয়া অংশ ব্যতীত প্রায় সমগ্র দেশই নদ-নদীর পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি। ভূমির অবস্থা এবং গঠনের সময়ানুক্রমিক দিক হতে বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতিকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়; যথা: (১) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, (২) প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং (৩) সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।
জলবায়ু (Climate): বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন। মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর ওপর এতো অধিক প্রভাব ফেলে যে সামগ্রিকভাবে এর জলবায়ু 'ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু' নামে পরিচিত। মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য এক একটি ভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব। একটি হতে আর একটি ঋতুর তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিপাত সম্পূর্ণরূপে পৃথক। বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে তিনটি ঋতু দেখা যায়। যথা: শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা। শুষ্ক ও আরামদায়ক শীতকাল এবং উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
প্রশাসনিক বিভাগ: বাংলাদেশ একটি একক এবং অখন্ড রাষ্ট্র। এর কোনো স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রদেশ বা রাজ্য নেই। রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা দ্বারা সমগ্র দেশ পরিচালিত হয়। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য বর্তমানে ৮টি বিভাগ রয়েছে। বিভাগগুলো হলো- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং রংপুর। প্রতিটি বিভাগে রয়েছে অনেকগুলো জেলা। বাংলাদেশের জেলার সংখ্যা মোট ৬৪টি। জেলার চেয়ে ক্ষুদ্রতর প্রশাসনিক অঞ্চল হচ্ছে উপজেলা বা থানা। সারাদেশে উপজেলা রয়েছে ৪৯১টি। মোট ইউনিয়ন ৪৫৫৪টি। উপজেলা বা থানাগুলো ৪৪,৯৯০টি মৌজায় এবং ৮৭,৩১৯টি গ্রামে বিভক্ত।
| বিভাগ | জনসংখ্যা (২০১১ সাল পর্যন্ত) | আয়তন (বর্গ কি.মি.) | জনসংখ্যা ঘনত্ব ২০১১ (লোক/কি.মি.) | অন্তর্গত জেলাসমূহ (৬৪টি) |
| ঢাকা | ৩৬,০৫৪,৪১৮ | ২০,৫৯৩ | ১,৭৫১ | কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারিপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরিয়তপুর। (১৩টি) |
| ময়মনসিংহ | ১১,৩৭০,০০০ | ১০,৫৮৪ | ১০৭৪ | জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর। (৪টি) |
| রাজশাহী | ১৮,৪৮৪,৮৫৮ | ১৮,১৯৭ | ১,০১৫ | চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, বগুড়া, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ। (৮টি) |
| রংপুর | ১৫,৭৮৭,৭৫৮ | ১৬,৩১৭ | ৯৬০ | চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, বগুড়া, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ। (৮টি) |
| চট্টগ্রাম | ২৮,৪২৩,০১৯ | ৩৩,৭৭১ | ৮৪১ | কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, বান্দরবান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাঙ্গামাটি ও লক্ষ্মীপুর। (১১ টি) |
| সিলেট | ৯,৯১০,২১৯ | ১২,৫৯৬ | ৭৮০ | মৌলভী বাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ। (৪টি) |
| খুলনা | ১৫,৬৮৭,৭৫৯ | ২২,২৭২ | ৭০৪ | কুষ্টিয়া, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, বাগেরহাট, মাগুরা, মেহেরপুর, যশোর ও সাতক্ষীরা। (১০টি) |
| বরিশাল | ৮,৩২৫,৬৬৬ | ১৩,২৯৭ | ৬২৬ | ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল ও ভোলা। (৬টি) |
| বাংলাদেশ | ১৪৪,০৪৩,৬৯৭ | ১৪৭,৫৭০ | ৯৭৬ |
মানব ভূগোল - মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
(Practical: Map Drawing of Selected Countries, Continents and Showing Administrative Regions of Bangladesh)
মানচিত্র
আয়তাকার বা বর্গাকার কাগজে অঙ্কিত পৃথিবী বা তার অংশের ছোট আকারের প্রতিরূপকে মানচিত্র বলে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আয়তাকার কাগজেই মানচিত্র আঁকা হয়ে থাকে। মানচিত্র হচ্ছে পৃথিবী বা অঞ্চলের দ্বিমাত্রিক প্রতিরূপ। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের মানচিত্র বা পৃথিবীর মানচিত্র।'
মানচিত্রের উপাদান
মানচিত্রে তথ্য উপস্থাপনে যেসব বিষয়ের সাহায্য নেওয়া হয়, সেগুলেই মানচিত্রের উপাদান। যথা-
শিরোনাম (Title/Heading): প্রত্যেক মানচিত্রেরই একটি শিরোনাম থাকে। এটি কোনো দেশের বা অঞ্চলের কীসের
মানচিত্র এতে তা উল্লেখ থাকে। যেমন- বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র। প্রতিটি মানচিত্র তৈরির সময় এতে একটি শিরোনাম দিতে হবে।
স্কেল (Scale): কোনো অঞ্চলের মানচিত্র তৈরির সময় এর আয়তনকে কমিয়ে ক্ষুদ্র করে আঁকতে হয়। একে স্কেল
অনুসারে আঁকা বলে। স্কেল থেকে বাঝা যায় কোন আয়তনকে কতটুকু কমানো হয়েছে। স্কেল যত ক্ষুদ্র হবে মানচিত্রে তত বেশি আয়তন দেখানো যাবে। মানচিত্রে যদি ১:১০০০,০০০ লেখা থাকে তাহলে বুঝতে হবে মানচিত্রে ১ একক ভূমির ১০০,০০০ এককের সমান। আবার স্কেল এঁকে দেখানো হয়। যেমন- মানচিত্রে এক ইঞ্চি সমান ভূমিতে কত মাইল বা এক সেন্টিমিটার সমান কত কিলোমিটার।
উত্তর দিক (North Line): মানচিত্রের দিক জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মানচিত্রের মাথায় বাম দিকের মার্জিনে
একটি তীর দেওয়া থাকে। এই তীরের মাথায় উ. লেখা থাকে। উ. দিয়ে উত্তর দিক বোঝানো হয়। একটি দিক জানা থাকলে আমরা সহজেই অন্যদিকগুলো যেমন- দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম বের করতে পারি। মানচিত্রে দিক না দেখানো থাকলে উপরের দিককে উত্তর দিক বুঝাতে হবে। মানচিত্রে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ স্পষ্ট করে দেখানো থাকলে উত্তর দিক না থাকলেও সকল দিক বোঝা যায়। তাই অনেক সময় এক্ষেত্রে উত্তর দিক দেখানো হয় না।
সূচক (Legend): মানচিত্রে কোন প্রতীক দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে সূচক তা নির্দেশ করে। প্রতিটি মানচিত্রে প্রতীক ও এদের সূচক উল্লেখ করতে হবে।
তথ্য উপাত্ত (Source of Data): সব মানচিত্র তথ্য বা উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি হয়। এজন্য তথ্যের উৎস মার্জিনে
উল্লেখ করা প্রয়োজন।






বাংলাদেশের প্রশাসনিক মানচিত্র (Administrative Map of Bangladesh)
চিত্র-১.১৬ এ বাংলাদেশের প্রশাসনিক মানচিত্র দেখানো হয়েছে। এতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমা, বাংলাদেশের কোন দিকে কোন দেশ, কোন সাগর এঁকে দেখানো হয়েছে। এছাড়া দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের আটটি বিভাগ, কোন বিভাগে কোন জেলা, এদের নাম ও সীমানা।

| মানব ভূগোল | মানব ভূগোল হলো মানুষ ও স্থান সম্পর্কিত জ্ঞান। এর মাধ্যমে মানুষ ও পরিবেশের সম্পর্ক, মানবগোষ্ঠীর অবস্থানিক বিন্যাস ও বণ্টন, প্রকৃতি, উৎপাদন ও উপজীবিকা এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ সম্পর্কে বিস্তর ধারণা লাভ করা যায়। মানব ভূগোলে মানুষের কর্মকাণ্ডের ওপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয় এবং সেই সাথে স্থান, সময়ভেদে তার বিশ্লেষণ করা হয়। মানব ভূগোলের আলোচনায় প্রাকৃতিক ভূগোলের বিভিন্ন বিষয়ের সাথে সম্পর্ককে গুরুত্ব প্রদান করা হয়। প্রাকৃতিক ভূগোলের সাহায্য ছাড়া মানব ভূগোলকে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। কেননা মানুষের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে ভৌগোলিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানব ভূগোলের পরিধির মধ্যে সাংস্কৃতিক ভূগোল, অর্থনৈতিক ভূগোল, চিকিৎসা ভূগোল, ঐতিহাসিক ভূগোল, রাজনৈতিক ভূগোল, নগর ভূগোল ইত্যাদি আলোচিত হয়। |
| মানব ভূগোলের বিষয়বস্তু ও শাখা | মানুষ হলো মানব ভূগোলের প্রধান উপাদান। মানুষ, মানুষের কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের স্থানিক প্রভাব নিয়ে এটি আলোচনা করে থাকে। মানব ভূগোলের প্রধান শাখাসমূহ হচ্ছে- সামাজিক ভূগোল, নগর ভূগোল, বসতি ভূগোল, জনসংখ্যা ভূগোল, পর্যটন ভূগোল, অর্থনৈতিক ভূগোল, রাজনৈতিক ভূগোল, ঐতিহাসিক ভূগোল, উন্নয়ন সম্বন্ধীয় ভূগোল ইত্যাদি। |
| রাজনৈতিক অঞ্চল | রাজনৈতিক অঞ্চলের মুখ্য উপাদান হচ্ছে রাজনৈতিক পরিচয় জ্ঞাপক কোনো ভূখণ্ড। রাজনৈতিক অঞ্চলের প্রধান পারিসরিক বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে অবস্থান, অভিগম্যতা, আয়তন, আকৃতি, সীমানা, সার্বভৌমত্ব ও সরকার। রাষ্ট্র হচ্ছে বিশ্বের মৌল রাজনৈতিক অঞ্চল। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিশেষ করে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি, পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে সুসম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবী রাজনৈতিক অধ্যলসমূহ প্রকৃতি অনুযায়ী নামীয় এবং রাষ্ট্রীয় অঞ্চলে বিভক্ত। প্রধান। নামীয় অঞ্চলগুলো হচ্ছে- এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও এন্টার্কটিকা মহাদেশ। আর রাষ্ট্র হচ্ছে ভূভাগের এবং মানবগোষ্ঠীর একটা অংশ, যা একটি নির্দিষ্ট ও স্বতন্ত্র আদর্শের ভিত্তিতে অখণ্ড একক বিশেষ। পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কাঠামো দেখতে পাওয়া যায়। |
| প্রশাসনিক অঞ্চল | কোনো দেশের প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য যে অঞ্চলভিত্তিক বিভাজন করা হয় সেগুলো প্রশাসনিক অঞ্চল নামে পরিচিত। বাংলাদেশ একটি একক এবং অখন্ড রাষ্ট্র। এর আনুষ্ঠানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য বাংলাদেশকে ৮টি বিভাগ ও ৬৪টি জেলায় বিভক্ত করা হয়। এর কোনো স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ বা রাষ্ট্র নেই। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। |
মানব ভূগোল - মোহা: আনিছুর রহমান ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক-স্যারে লেখা বই
Read more