(Plateau)
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচু (প্রায় ৫০০ ফুট) বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিকে মালভূমি বলে। এ ধরনের ভূমিরূপ স্থলভাগের প্রায় ৩ শতাংশ এলাকা দখল করে আছে। এর উপরিভাগ প্রায় সমতল, বন্ধুর, তরঙ্গায়িত অথবা নদী বা হিমবাহ দ্বারা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। ভূঅভ্যন্তরস্থ ও ভূপৃষ্ঠস্থ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার কারণে মালভূমি সৃষ্টি হয়ে থাকে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মালভূমির উচ্চতা কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার মিটার হতে পারে। ভারতের দাক্ষিণাত্য ও তিব্বতের পামির মালভূমি এর উদাহরণ।
বৈশিষ্ট্য: আমরা মালভূমির যে বৈশিষ্ট্যাবলি দেখতে পাই-
(i) এটা বিস্তীর্ণ উচ্চভূমি; (ii) এর উপরিভাগ প্রায় সমতল; (iii) এটা চারদিক হতে খাড়াভাবে নিম্নভূমিতে নেমে যায়
এবং (iv) এর উচ্চতা কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
মালভূমি গঠনের প্রক্রিয়াসমূহ: মালভূমি গঠনের সাথে নিম্নলিখিত প্রক্রিয়াসমূহ জড়িত। যথা:
ক. ভূআলোড়ন: পর্বত গঠনের সময় ভূআলোড়নের ফলে বিস্তীর্ণ ভূভাগ উঁচু হয়ে মালভূমির সৃষ্টি করে। যেমন-স্পেনের মেসেটা মালভূমি।
খ. ভূপৃষ্ঠের ক্ষয় প্রক্রিয়া: উঁচু ভূভাগ প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে মালভূমিতে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কাম্বারল্যান্ড, কলোরাডো এভাবে সৃষ্টি হয়েছে।
গ. লাভা সঞ্চয়ের মাধ্যমে গঠিত: মহাদেশীয় উঁচু ভূমিতে লাভা সঞ্চিত হয়ে মালভূমি গঠিত হয়ে থাকে। যেমন-ভারতের দাক্ষিণাত্য।
মালভূমির শ্রেণিবিন্যাস
প্রায় একই ধরনের মালভূমিকে বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন নামে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়ে থাকে। যেমন- পামির একদিকে ভূআলোড়নজনিত, অপরদিকে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি। নিচে মালভূমির একটি সাধারণ শ্রেণিবিন্যাস আলোচনা করা
হলো
১. মহাদেশীয় শিল্ডস (Shield): বিস্তৃত এলাকাব্যাপী প্রাচীন শিলাস্তূপ বিচূর্ণীভবন ও নগ্নীভবনের কারণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এ ধরনের মালভূমি গঠন করে। মূলত উপরের শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় এসব শিল্ড উন্মুক্ত হয়।
উদাহরণ: কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার শিল্ড।

২. চ্যুতিবিশিষ্ট মালভূমি: বিস্তৃত এলাকা কোনো চ্যুতি বরাবর অসমানভাবে উপরে উঠে গেলে এ ধরনের মালভূমির সৃষ্টি হয়। যেমন- স্পেনের মেসেটা মালভূমি, ভারতের মধ্য প্রদেশের মালভূমি ইত্যাদি।
ভূপৃষ্ঠের বাহির ও অভ্যন্তর ভাগে ভারসাম্যহীনতা বিরাজ করলে এবং ভূআলোড়নজনিত শক্তি ক্রিয়াশীল থাকলে প্রথমে চ্যুতির সৃষ্টি হয় এবং পরে একটি অংশ অসমানভাবে উপরে উঠে যায়। এ মালভূমি খাড়াভাবে উপরে উঠে যায় বিধায় খাড়া ঢালবিশিষ্ট হয়। এর উপরিভাগ অসমান হতে পারে। এ ধরনের মালভূমির প্রান্তে পর্বতের অবস্থান দেখা যায়।
৩. পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি: ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হওয়ার সময় সংকোচনজনিত চাপের কারণে পর্বতসমূহের মাঝখানের
নিম্নভূমি উঁচু হয়ে যে মালভূমি গঠিত হয় তাকে পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি বলে। যেমন- তিব্বতের মালভূমি। তিব্বতের মালভূমির উত্তরে কুনলুন এবং দক্ষিণে হিমালয় পর্বতমালার অবস্থান। সংকোচনজনিত চাপের ফলে অথবা পাত সঞ্চালন ও ভূআলোড়নের সময় ভাঁজ পর্বতের মাঝখানে এ ধরনের মালভূমি গঠিত হয়।
৪. ক্ষয়জাত মালভূমি: প্রাচীন উঁচু ভূমিসমূহের উপরিভাগ বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি যেমন- তাপমাত্রা, তুষারপাত, বৃষ্টিপাত, পানি, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে মালভূমি সৃষ্টি হয় তাকে ক্ষয়জাত মালভূমি বলে। যেমন-যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো।
৫. আগ্নেয়জাত মালভূমি: আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত লাভা সঞ্চিত হয়ে যে মালভূমি গঠিত হয় তাকে আগ্নেয়জাত মালভূমি বলা হয়। যেমন: ইন্দোনেশিয়া জাভা মালভূমি।
উল্লিখিত কয়েকটি শ্রেণি ছাড়াও তির্যক (ব্রাজিল), পাদদেশীয় (যেমন: দক্ষিণ আমেরিকার পাতগোনিয়া), ব্যবচ্ছিন্ন (যেমন: ভারতের কর্নাটক) এবং উন্নীত (যেমন: তিব্বত) মালভূমিও রয়েছে। মালভূমির উপরিতলে কোথাও কোথাও কৃষিকাজ হয়ে থাকে (যেমন: । তবে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রতিকূল জলবায়ুর কারণে এ অঞ্চলে জনবসতি কম।
কেনিয়া
পৃথিবীর গঠন - প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর এর লেখা বই
Read more