অববাহিকা (Basin): কোনো স্থানের সমোন্নতি রেখাগুলোর মান যদি ক্রমশ বাইরে থেকে ভিতর দিকে হ্রাস পায় তা হলে বুঝতে হবে যে ঐরূপ ভূমির পার্শ্বদিকে উঁচু ও মধ্যবর্তী অংশ নিচু। এই প্রকার ভূমিরূপকে অববাহিকা বলে।

উপত্যকা (Valley): দুটি উন্নত ভূমির মধ্যস্থিত নিম্নভূমিকে উপত্যকা বলে। উপত্যকার সমোন্নতি রেখা উন্নত ভূমির দিকে বেঁকে যায় এবং এর মধ্যে প্রায়ই নদী দেখা যায়। পার্বত্য অঞ্চলে উপত্যকা বেশি প্রশস্ত নয়। কিন্তু সমভূমি অঞ্চলের নদী উপত্যকা প্রশস্ত। নদী প্রবাহিত অঞ্চলে উপত্যকা "V" আকৃতি এবং হিমবাহ প্রভাবিত অঞ্চলে উপত্যকা "U" আকৃতিবিশিষ্ট হয়। অনেক সময় উপত্যকার মধ্য দিয়ে রাস্তা অগ্রসর হয়।

V-আকৃতির উপত্যকা (V-shaped valley): উপত্যকার পার্শ্বদেশের ঢাল বেশি খাড়া ও নিচের ভূভাগ সংকীর্ণ হলে ঐরূপ উপত্যকা V-এর ন্যায় দেখায়। এতে ঢাল সাধারণত উত্তল হয়। ফলে যে স্থানে সমোন্নতি রেখার মান কম সেখানে ঐ রেখাগুলো ঘন সন্নিবিষ্ট ও উপত্যকার গায়ে দূরে দূরে বিন্যস্ত হয়। নদী উপত্যকার সমোন্নতি রেখাগুলোর পরস্পরের মধ্যে ফাঁক বেশি। সেজন্য ঐরূপ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রেখা বরাবর প্রস্থচ্ছেদ অঙ্কন করলে দেখতে পাওয়া যায় যে, ভূমি বেশ ধীরে ধীরে ঢালু হয়েছে।
U-আকৃতির উপত্যকা (U-shaped valley): হিমবাহ প্রভাবিত অঞ্চলে উপত্যকার সমোন্নতি রেখার উপর প্রস্থচ্ছেদ অঙ্কন করলে উপত্যকার আকৃতি U-এর ন্যায় দেখায়। কাছাকাছি বিন্যস্ত দুই প্রস্থ সমোন্নতি রেখার মধ্যে উপত্যকা তল বেশ প্রশস্ত থাকে, আবার উপত্যকার ঢাল ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। ক্রমশ উপরের দিকে ঢাল যত বৃদ্ধি পায় সমোন্নতি রেখাগুলোও ততই ঘন সন্নিবিষ্ট হয়। হিমবাহ প্রভাবিত অঞ্চলে কোনো উপ হৈমউপত্যকা যদি খাড়াভাবে মূল হৈম উপত্যকার সাথে এসে মিলিত হয় তা হলে উপ-হিমবাহ দ্বারা সৃষ্ট উপত্যকাকে ঝুলন্ত উপত্যকা (hanging valley) বলে। এর আকৃতিও U-এর ন্যায়। কিন্তু ঝুলন্ত উপত্যকার সর্বনিম্ন সমোন্নতি রেখা মূল উপত্যকাকে লম্বভাবে ছেদ করে এবং মূল হিমবাহের সমান্তরালভাবে বিস্তৃত হয়।

পৃথিবীর গঠন - প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর এর লেখা বই
Read more